ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 March 2019, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলায় বেকায়দায় পড়েছে আরসিবিসি  -- গভর্নর

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, আরসিবিসির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংক যে মামলা করেছে এতে তারা বেকায়দায় আছে। এজন্যই আরসিবিসি আমাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসিকে দায়ি করে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কাংলাদেশ (কেআইবি) জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। আরসিবিসির সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, নিউইয়র্কের আদালতের মামলার নিয়ম অনুযায়ী আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এটি অন্যকিছু নয়। আজ (বুধবার) রাতে আমাদের প্রতিনিধি দল দেশে আসবে তারা সবকিছু বলতে পারবে।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরসিবিসির সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। ওই চুরির ঘটনায় আরসিবিসির নাম জড়ানোয় ফিলিপাইনের ওই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। এর আগে রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কৌঁসুলি আজমালুল হোসেন কিউসি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, মামলা করলেও এবার তারা বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন। তার দুই দিনের মাথায় ৬ মার্চ ফিলিপিন্সের সিভিল কোর্টে আরসিবিসির পাল্টা এই মামলা করলো। মামলায় ফিলিপিন্সের এই ব্যাংক বলছে, তাদের কোম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর বার বার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আরসিবিসি বলেছে, টাকা আদায় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিরাট এক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, সেজন্য তারা আরসিবিসির সুনাম ক্ষুণœ করতে, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু যে টাকার জন্য এটা তারা করছে, তা কখনোই আরসিবিসির কাছে ছিল না, ওই টাকার দায়ও আরসিবিসির নয়। 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে। অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়, ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির কাজে ‘অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের’ সহায়তা নেয় আসামীরা। ‘ নেস্টেগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’ এর মত ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য পথ বের করে। পরে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয় নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপিন্সে আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে। গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে জেনেও অ্যাকাউন্ট খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়গুলো ঘটতে দিয়েছেন।

ফিলিপাইনে খোয়া যাওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫০ ডলার আদালতের আদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার অনাদায়ী রয়েছে, যা আরসিবিসির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ