ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 March 2019, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অসৎ কর্মকর্তাদের জায়গা নেই----- অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কোনো অদক্ষ ও অসৎ কর্মকর্তার জায়গা হবে না। এদের বের করা কঠিন হবে না। সবাই ভালো কাজ করলেও এর মধ্যে একজন অসৎ থাকলে সব অর্জন ম্লান হয়ে যায়। খেলাপি ঋণ যাতে কোনোভাবেই আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক করে প্রয়োজনে পর্ষদে পরিবর্তন আনা হবে। কোনো ক্ষেত্রেই যেন নন পারফরমিং লোন না বাড়ে। যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না। এটা খেলার জায়গা না। না বুঝলে হবে না। সবাইকে ‘সঠিক পথে’ নিয়ে আসবো।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরাধে সহযোগিতা দেবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেশের অর্থনীতির ‘সবচেয়ে দুর্বল জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন অসাধু অফিসার আপনাদের সাফল্য ম্লান করে দেবে। ১০টি ভাল কাজ করেন একটি খারাপ কাজ বলবে- সব নিয়ে চলে গেছে। যিনি অন্যায় করেন আর অন্যায়কে সহায়তা করেন- অপরাধ তো একই রকম।

মন্ত্রী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে হাত তুলে শপথ করতে হবে যে আপনারা দুর্নীতিকে ‘নো’ বলবেন। নিজে দুর্নীতি করবেন না অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে সহয়তা করবেন না। অসৎ কাজ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা অসাধু ব্যবসায়ী তাদের সাথে কিন্তু আমরাও থাকি। আমরা যারা আছি তাদেরকেও কিন্তু কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের বের করা খুব কঠিন না।

তবে অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঠিক করে ঠিক পথে নিয়ে আসব। কেউ অপরাধ করে আসলে ভিন্ন পথে যদি টাকা নিয়ে থাকে- তা যদি ফেরত দিতে পারে গোপনে আমাকে বললেও মাফ করে দেব। লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে। দুই একটি বাদ দিলে কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল অডিট করব। তবে কাউকে ছোট করার জন্য নয় কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেব না। অবার যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ‘খারাপ অবস্থানে’ চলে গেছেন, তাদের সহায়তা করা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসি নাই । যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের অনেক সহায়তা করব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধনী-গরিবের ব্যবধান যেন কমিয়ে আনা একদিনে এসব সম্ভব নয় তবে আমি পারব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। খেলাপি হওয়া ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) নীতিমালা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খেলাপী ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় না, পুরো ব্যাংকিং খাতে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর বৃদ্ধি না হয়। শীর্ষ খেলাপীদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে, খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। খেলাপী ঋণের মামলা না করে আদায়ের চেষ্টা করবেন। মামলা করবেন অবশ্যই, তবে কুইক ডিসপোজেবলের জন্য নয়। ঋণ দেওয়ার সময়ই সতর্ক হয়ে দিতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ