ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 March 2019, ৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রহনপুর রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে 

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেল স্টেশনে যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, পুরাতন প্লাটফর্মে বেশিরভাগ সময় ভারতীয় মালবাহী ট্রেন রেখে দেয়ার কারণে নতুন নির্মিত প্লাটফর্মটি যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ নতুন প্লাটফর্মে এ পর্যন্ত বসার কোনো জায়গা নেই। ফলে ট্রেন যাত্রীরা ট্রেন ধরার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এদিকে লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় অতি সকালে মহানন্দা ও সন্ধ্যার পর লোকার ট্রেন ধরার জন্য অন্ধকারে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকে। এ সময় যাত্রীদের ব্যাগ চুরি ও ছিনতাই এর মত ঘটনাও ঘটে বলে ট্রেন যাত্রী রহনপুর স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের শরিফ জানান। তিনি আরও জানান, অপরাধী চক্রের হাতে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের অনেককেই নাজেহাল হতে হচ্ছে। মান সম্মানের ভয়ে নীরবে মুখ বন্ধ রেখে চোখের জল ফেলে চলে যায়। 

প্রকাশ, ২০১৮ সালের প্রথমে নতুন প্লাটফরম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বছর ঘুরে গেলেও এ পর্যন্ত গ্রিল লাগানোর কাজ আজও বাকী রয়ে গেছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন প্লাটফর্মটি চওড়া কম হওয়ায় এবং গ্রীল না থাকায় রাতের অন্ধকারে অনেক যাত্রী নীচে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। যাত্রীদের আরও অভিযোগ রয়েছে, বেশ কিছুদিন থেকে মহানন্দা ট্রেনে ২টি এবং কমিউটার ট্রেনের ১টি বগি কমিয়ে দিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমভাবে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে যাত্রীরা অতিকষ্টে রহনপুর-রাজশাহী যাতায়াত করছে। উল্লেখ্য, রহনপুর রেল স্টেশন একটি সচল ট্রানজিট হিসেবে বর্তমানে কাজ করছে এবং ভারতের মালদহ জেলার সিংঘাবাদ রেলওয়ে স্টেশন এর সাথে যুক্ত আছে। ১৯৭৮ সালের ১৫ আগষ্ট সংঘটিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নেপাল এ পণ্য পরিবহন এর জন্য এই রেলপথটি ভারতে প্রবেশ করে। ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুনঃচুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্য দিয়ে একটি নতুন পথ তৈরির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বাংলাদেশ ২০১১ সালে নেপালে সার রপ্তানির মাধ্যমে এই ট্রানজিট ব্যবহার শুরু করে। সিংঘাবাদ-রহনপুর ট্রানজিট পয়েন্টটি নেপালের র‌্যাক্জল থেকে বাংলাদেশের খুলনা অবদি কোনো প্রকার ট্রানশিপমেন্ট চার্জ ছাড়াই ব্যবহৃত হয়।   এদিকে, এলাকাবাসী যাত্রীর সেবার মান বাড়াতে অনতিবিলম্বে নতুন প্লাটফর্মে বসার জায়গা, ছাউনি ও লাইটিং ব্যবস্থা ও পানীয় পানির সমস্যার সমাধান এবং অনতিবিলম্বে নতুন প্লাটফর্মে গ্রীল লাগানোর জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে মহানন্দা ট্রেনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক কর্মচারী জানান, তাদের ট্রেনে নতুন বগি সংযোজন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্টেশন মাষ্টারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ