ঢাকা, শুক্রবার 15 March 2019, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মানুষের কষ্ট বাড়ছেই

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসিকে সামনে রেখে সরকার যখন ১০০ ভাগেরও বেশি হারে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তখন বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। মিছিল-সমাবেশ ও মানব বন্ধন ধরনের গণতান্ত্রিক পন্থার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্যাব উচ্চ আদালতেও রিট করেছে। ক্যাব বলেছে, যে পাইপলাইন দিয়ে তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সে পাইপলাইনই এখনো তৈরি হয়নি। অর্থাৎ সম্পূর্ণ অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ওদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও অর্থনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, অজুহাত যা-ই দেখানো হোক না কেন, বর্তমান সময়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে মানুষের কষ্ট অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে গরীব ও নি¤œ আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে। সুতরাং কোনো যুক্তি বা অজুহাতেই এত বেশি পরিমাণে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো চলবে না।

গ্যাসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখন পণ্যমূল্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ঝড়-বৃষ্টির মতো দৃশ্যমান কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম কেবল লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বাস্তবে মাছ-মাংস থেকে শাক-সবজি পর্যন্ত সবকিছুরই দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। মাত্র ক’দিন আগেও যে ফুলকপি ১০-১৫ টাকায় পাওয়া যেতো সে ফুলকপিরই দাম উঠে গেছে ৫০ টাকারও ওপরে। একইভাবে ১৫ টাকার বেগুন ও টমেটো রাজধানীবাসীকে ৫০-৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ১৫ টাকা দরের শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। পটল, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ অন্য সব সবজির দরও আকাশচুম্বি। কোনো ধরনের শাক তো পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করে রাজধানীর অন্য সব বাজারেও একই রকম উচ্চ হারে শাক-সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছ ও মাংসের দাম। সত্যি বলতে গেলে কোনো বাজারেই ভালো কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এতদিন শুধু ফরমালিন মেশানো মাছের কথা শোনা যেতো, এখন সেখানে নষ্ট এবং পচে যাওয়া মাছে বাজার ভরে যাচ্ছে। কিন্তু এমন কৌশলেই বরফ দিয়ে সে সব মাছ ঢেকে রাখা হচ্ছে যে, সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষেই নষ্ট ও পচে যাওয়া মাছ সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হচ্ছে না। মাছের অবস্থা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে বাসায় নেয়ার পর। কখনো আবার রান্না করারও পর। তাই বলে মাছের দাম কিন্তু কমছে না। ওদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুরগি ও মাংসের দাম। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এক কেজি গোরুর মাংসের দাম পাঁচশ’ টাকারও ওপরে উঠে গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে এমনকি সাড়ে পাঁচশ’ টাকা কেজি দরেও গোরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। মুরগিÑ তা দেশি, পাকিস্তানি কিংবা ব্রয়লার যেটাই হোক না কেন, সবই চলে গেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে। একই অবস্থা চলছে খাশির মাংসের ক্ষেত্রেও। বড়কথা, শুধু রাজধানীর বাজারগুলোতে নয়, সারাদেশেই সবজি এবং মাছ-মাংসের দাম কেবল বাড়ছেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাধারণ মানুষকে মাত্র কিছুদিন আগের তুলনায় তিন-চারগুণ বেশি টাকা দিয়ে শাক-সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসও কিনতে হবেÑ এমন অবস্থা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাজার দরে অবশ্যই পরিবর্তন ঘটানো দরকার। সরকারের উচিত মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, তারা যাতে গুন্ডা-সন্ত্রাসী এবং বাজারকে তারা অসুস্থ করে না তুলে। নির্বিচার চাঁদাবাজিসহ যেসব কারণ ব্যবসায়ীরা যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে সেসব বিষয়েও সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থাৎ পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আমাদের ধারণা, এভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পণ্যের বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ