ঢাকা, শুক্রবার 15 March 2019, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি অব্যাহত

00 শিক্ষার্থীদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই অভিযুক্তদের শাস্তি দিন -ভিপি নূর

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু এবং হল সংসদের নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবিতে উত্তাল রয়েছে ক্যাম্পাস। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ছাত্রীদের হেনস্তাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে ভিপি নুরুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই অভিযুক্তদের শাস্তি দিন। ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলে ব্যাপক কারচুপির কারনে প্রভোষ্ট জিনাত হুদার পদত্যাগ দাবী করেন নূর। অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন চলবে। 

ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পায় সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ। ভিপি পদে নির্বাচিত কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর রয়েছেন এই ভোট বাতিলের আন্দোলনে। বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নূর আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। আর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো।

তবে সেই দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গত বুধবার বলেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে যে নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলকে ‘অশ্রদ্ধা দেখানোর’ এখতিয়ার তার নেই। নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।

নতুন করে ভোটের এই দাবিতে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন চার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও দুজন। তাদের একজন বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার জায়গায় আরও দুজন পরে অনশনে যোগ দেন।

অনশনরত রাফিয়া তামান্না বলেন, আমাদের শরীরে যতক্ষণ শক্তি আছে ততক্ষণ অনশন চলবে। আমাদের মতো আমরা অনশন চালাব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এমনকি হাসপাতালে অনিন্দ্যকে কেউ দেখতেও যায়নি।

অনশনরতরা হলেন- ভূতত্ত্ব বিভাগের আল মাহমুদ ত্বাহা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মাঈন উদ্দীন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাওহীদ তানজিম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না। এ ছাড়া অনশনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনিন্দ্য ম-লকে বুধবার হাসপাতালে নেয়া হয়।

তাওহীদ স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল থেকে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক পদে এবং অনিন্দ্য, শোয়েব ও মাঈন উদ্দিন হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন।

তাদের সঙ্গে বুধবার নতুন যোগ দেওয়া দুজন হলেন ডাকসু নির্বাচনে বামজোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী মীর আরাফাত মানব এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম। পুনর্নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি ১১ মার্চের ভোটে দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলেছেন অনশনকারীরা।

এদিকে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে পাঁচ শিক্ষার্থী বুধবার রাত ৯টার দিকে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনে বসেন।

এই পাঁচজন হলেন ইসলামিক স্টাডিজের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। তাদের মধ্যে রাফিয়া রোকেয়া হল সংসদে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্র ফেডারেশনের সায়েদা হল সংসদের এজিএস এবং প্রমি খিশা সদস্য পদে নির্বাচন করেন। 

পভাটের দিন রোকেয়া হলে প্রাধ্যক্ষের ওপর হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে সাত প্রার্থীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে অনশনকারীদের চার দফার মধ্যে।

অনশনরত প্রমি বলেন, প্রভোস্ট, প্রক্টর বা ভিসি কেউ আমাদের সাথে দেখা করেনি, কথা বলেনি। বরং প্রক্টরিয়াল টিমের বাহিনী এসে আমাদের উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ছাত্রলীগের কর্মীরা বারবার এসে আমাদের এখানে মহড়া দিয়ে যায়, রাতের বেলা অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন আচরণ করছে যেন আমরা মরে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না।

অনশনকারীদের প্রতি একাত্মতা ভিপি নূরের: রোকেয়া হলে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্থাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। তিনি অনশনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই অভিযুক্তদের শাস্তি দিন। 

গতকাল দুপুরে রোকেয়া হলের অনশনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে তাৎক্ষণিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এ আহ্বান জানান। রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ দাবি করে নুর বলেন, প্রভোস্টকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলে ব্যাপক কারচুরির অভিযোগ করে তিনি বলেন, রোকেয়া হলের নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। সে হিসাবে জিনাত হুদা প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

নুরু বলেন, রোকেয়া হলের আবাসিক মেয়েরা অনশনে বসছে, তাদের দাবি- এই হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ, নির্বাচন পুনরায় দেয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা। আমি আমার বোনদের এই চারটি দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলবো তারা যেনো আমার বোনদের সঙ্গে কথা বলে দাবি মেনে নেন। 

ভিপি বলেন, গত রাতে আমার বোনদেরকে হেনস্তা করা হয়েছে। যারা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এই ধরনের একটি অপসংস্কৃতির চর্চা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে যেনো প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হলের প্রাধ্যক্ষ মিডিয়াতে মিথ্যাচার করেছেন। আমার বিরুদ্ধে এবং আমার সহযোদ্ধা ফারুক হাসান, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের লিটন নন্দীসহ আমরা সেদিন গিয়েছিলাম রোকেয়া হলে। অভিযোগ পেয়েছিলাম, একটি রুমে ব্যালটে গোপন সিল মারা হচ্ছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে দেখতে দেননি। বরং তিনি আমাদেরকেও নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি আমাদের মারার জন্য ছাত্রলীগের লেডিমাস্তানসহ কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে ডেকেছিলেন। আর আমার বোনেরা যখন তাদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলো, তাদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেন। 

নূর বলেন, আপনারা দেখেছেন, সেই ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। তিনি মামলা করেন নি। মামলা করেছেন অন্য একজন। কিন্তু অবশ্যই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে করেছেন। আমি মনে করি শিক্ষক হিসেবে তিনি তার নৈতিকতার পরিচয় দিতে পারেন নি। তিনি এই পদে থাকার যোগ্য নয়।

প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে ভিপি বলেন, ছাত্রদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এই হলের প্রাধ্যাক্ষকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

আজকে আমাদের বোনেরা- যারা অনশন করছে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি, বিভিন্ন আন্দোলনের সময় হুমকি দেয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আনন্দোলনের সময়ও হয়রানী করা হয়েছিলো। আমরা ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে তার উচিৎ জবাব দিয়েছি। 

আমরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি কথাই বলতে চাই, ছাত্রদের জন্য এই বিশ^দ্যিালয়, সুতরাং ছাত্রদের ওপরে আপনারা কোন স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে ছাত্ররা সেটা প্রতিহত করবে। 

নির্বাচনের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, আমরা যখন সেখানে গেছি, দেখতে চেয়েছি কিন্তু তিনি আমাদের দেড়ঘন্টা অপেক্ষা করিয়েছিলেন। ওই সময় পেছনের দরজা খোলা ছিলো। ওই দরজা দিয়ে সিল মারা ব্যালট সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা যদি সৎ থাকতো তাহলে কেনো আামাদের দেরি করালো এবং লেডি মাস্তান দিয়ে হামলা করলো। তিনি শিক্ষক হিসেবে থাকার অধিকার হারিয়েছেন। 

অনশনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের হাতে নানা লেখাযুক্ত পোস্টার দেখা গেছে।

মধ্যরাতে অনশনকারী ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ: আমরণ অনশনে বসা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। অনশনকারী ছাত্রীদের অভিযোগ, ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার মধ্যরাতে তাদের হেনস্তা করেন। রোকেয়া হলের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাব্বানী। তিনি বলেন, হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আমি আসি। এসে দেখি, কয়েকজন মদ-গাঁজা খেয়ে এখানে আন্দোলন করছে। এই ১০-১৫ জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে?’

ডাকসুতে পুনর্নির্বাচন ও প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার বিকাল থেকে আমরণ অনশন করছেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী। সায়েদা আফরিন গণমাধ্যমকে বলেন, গভীর রাতে ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে ছবি দেখিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। আমাদের মধ্যে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। আমরা নাকি মদ-গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। এ ছাড়া আমাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের হুমকিও দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে আসেন গোলাম রাব্বানী। এ সময় তিনি ছাত্রীদের হলের ফটকের বাইরে অনশন করা ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানীর সঙ্গে কথা বলেন।

জিএস রাব্বানী মুঠোফোনে প্রক্টরকে জানান, রোকেয়া হলের কিছু ছাত্রী মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছেন। তিনি বলেন, এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে স্যার। এদের সবার ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, অভিভাবক ডেকে এনে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন স্যার।

এ সময় অনশনকারী ও তাদের সমর্থকরা স্লোগান দেন। তারা প্রভোস্টের ‘পদত্যাগ’ দাবি করে ‘রোকেয়া হলের আঙিনা, তোমার-আমার ঠিকানা’ বলে স্লোগান দেন।

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুমবিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তার প্রমুখ।

ডাকসুর জিএসের কাছে তারা অভিযোগ করেন, অবস্থানকারীদের কারণে হলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। সাধারণ ছাত্রীরা ঘুমাতে পারছেন না, পড়তেও পারছেন না।

এর পর রাব্বানী হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অনশনকারীদের কয়েক সমর্থককে দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন- ‘রাত ২টার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রী সংস্থা? শিবিরের কর্মী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন জিএস রাব্বানী। তিনি বলেন, হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে হলে অবস্থান করা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আসি আমি। এসে দেখি, কয়েকজন মদ-গাঁজা খেয়ে এখানে আন্দোলন করছে। এই ১০-১৫ জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে?

এ সময় গণমাধ্যমের সামনে এক শিক্ষার্থীর ছবি দেখিয়ে রাব্বানী অভিযোগ করেন, এই মেয়ে মদ-গাঁজা খেয়ে ধরা পড়েছিল। সে এখানে আন্দোলন করছে। এরাই ভোটের দিন ব্যালট ছিনতাই করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে দেয়নি। প্রভোস্ট ম্যামকেও লাঞ্ছিত করেছে। এদের সামনে প্রভোস্ট ম্যাম আসবেন কীভাবে?

রাত সোয়া ২টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে হলের সামনে থেকে চলে যান রাব্বানী। এর কয়েক মিনিট পর মোটরসাইকেল করে হলের সামনে স্লোগান দিয়ে শোডাউন দেন ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী।

ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে জানেন না প্রভোষ্ট : রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা বলেছেন, অনশনে বসা ছাত্রীরা হলের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখানে হেনস্তা হওয়ার বিষয়টি আমাদের কনসার্ন না। 

গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনার পর তিনি এ সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের কনসার্ন তাদের গেটের বাইরে থেকে হলের ভেতরে নিয়ে আসা।

সাংবাদিকরা ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত না। কোনো হাউস টিউটরও আমাকে অবগত করেননি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্র্নিবাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ