ঢাকা, শুক্রবার 15 March 2019, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টানা তৃতীয় জয়ে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের শীর্ষে আবাহনী 

স্পোর্টস রিপোর্টার: ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী। গতকাল  বৃহস্পতিবার ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১৪ রানে হারিয়ে লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। 

ছুটি কাটিয়ে গতকাল আবাহনীর হয়ে মাঠে ফেরেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৩৬ রান করে আবাহনী। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২২২ রানে থেমে যায় ব্রাদার্স ইউনিয়নের ইনিংস।

২৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৮ রানে মিজানুর রহমান ও হামিদুল ইসলামের উইকেট হারায় ব্রাদার্স। এরপর জুনায়েদ সিদ্দিকির উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। চিরাগ জানি ১৫ রান করে আউট হলে ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ব্রাদার্স। 

আবাহনীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেনি ব্রাদার্সের ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন ইয়াসির আলী। ৮ উইকেটে ২২ রানে থেমে যায় ব্রাদার্সের ইনিংস। ইয়াসির ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন।  আবাহনীর হয়ে মাশরাফি ও সাব্বির রহমান দুটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট নেন সানজামুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১২ রানে ওপেনার জাহিদ জাবেদের উইকেট হারায় আবাহনী। এরপর অবাহনীর ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর এবং জহুরুল ইসলাম দ্রুত বিদায় নিলে ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 

চতুর্থ উইকেট ৫৬ রান যোগ করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন। দলীয় ৯৫ রানে শান্ত ব্যক্তিগত ৪৪ রান করে আউট হন। এরপর সাব্বির রহমান ১৩ রান করে বিদায় নেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক ও মোহাম্মদ সাউফুদ্দিন।  অধিনায়ক মোসাদ্দেক ৫৪ রান করে আউট হন। সাইফুদ্দিন ৪৫ বলে ৫৯ ও মাশরাফি ১৫ বলে ২৬ রানে ঝড়ো ইনিংস খেললে ৬ উইকেট ২৩৬ রান তোলে আবাহনী। ৬২ রানে জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন তারা।

ব্রাদার্সের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন নাঈম ইসলাম (জুনিয়র) ও মেহেদি হাসান। আর একটি করে নেন চিরাগ জনি ও শরিফুল্লাহ। আবাহনীর সাইফুদ্দিন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সবগুলোতে জয় তুলে নিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা আবাহনী।

বিজয়ের দশম সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংকের সহজ জয় : ১৫তম ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে উড়িয়ে দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। শাহরিয়ার নাফিসের রূপগঞ্জকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে এনামুল হক বিজয়ের প্রাইম ব্যাংক। দলকে জেতাতে লিস্ট ‘এ’র ম্যাচে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি করেন প্রাইম ব্যাংকের দলপতি বিজয়।

 বিকেএসপির তিন নম্বর গ্রাউন্ডে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রূপগঞ্জ ৪৬.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তোলে ১৬৩ রান। জবাবে, বিজয়ের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৩১.৩ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে প্রাইম ব্যাংক। তিন ম্যাচ খেলা প্রাইম ব্যাংকের এটি দ্বিতীয় জয়। সমান ম্যাচ খেলা রূপগঞ্জ প্রথম হারের স্বাদ পেল।

রূপগঞ্জের ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ৪৩ বলে ৮টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৫২ রান। শাহরিয়ার নাফিস ১, নাঈম ইসলাম ১৫, আসিফ আহমেদ ১২, আইপিএল খেলা ভারতীয় তারকা রিশি ধাওয়ান ১৩ রান করেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকের আলি ৬৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে করেন ৪৭ রান। শেষ দিকে আসিফ হাসান ১১ রান করে বিদায় নেন। প্রাইম ব্যাংকের মোহর শেখ, আল আমিন হোসেন, আরিফুল হক, আবদুর রাজ্জাক এবং অলোক কাপালি দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

১৬৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রাইম ব্যাংকের ওপেনার রুবেল মিয়া ৬১ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ৪৪ রান। নাবিল সামাদের হাতে তার বলেই ক্যাচ তুলে দেন রুবেল। আরেক ওপেনার এবং দলপতি এনামুল হক বিজয় ১১১ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার দশম সেঞ্চুরির ইনিংসে ছিল ১২টি চার আর দুটি ছক্কার মার। তিন নম্বরে নামা ভারতীয় ব্যাটসম্যান সুদীপ চ্যাটার্জি ১৭ বলে করেন অপরাজিত ১৫ রান।

 শেখ জামালের জয়:  নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। বৃহস্পতিবার  ফতুল্লায় নিজেদের তৃতীয় মাঠে নেমে  শাইনপুকুরকে ১২ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে  টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শাইনপুকুর দলের অধিনায়ক আফিফ হোসেন। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৫.১ ওভারে ১০৬ রান তুলতেই সবকটি উইকেট হারায় শেখ জামাল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন জিয়াউর রহমান। এছাড়া পুনিত বিস্ট ২২, তানভীর হায়দার ১৪ ও নাসির হোসেন ১৩ রান করেন। শাইনপুকুরের হয়ে ৬ ওভারে ২৮ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন সাব্বির হোসেন। এছাড়াও শরিফুল ইসলাম ৩টি, দেলোয়ার হোসেন ২টি ও সোহরাওয়ার্দী শুভ ১টি করে উইকেট নেন।

১০৭ রানের জবাবে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর। ওপেনার উদয় কৌল ১৭ ও সাব্বির হোসেন ২৬ রান করে আউট হন। আর সোহরাওয়ার্দী শুভ করেন ১০ রান। এছাড়া আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

শেখ জামালের হয়ে ১৭ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন সালাউদ্দিন শাকিল। জিয়াউর রহমান ১০ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৫টি উইকেট। এছাড়াও একটি উইকেট নেন শহিদুল ইসলাম। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন জিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ