ঢাকা, শুক্রবার 15 March 2019, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ  না করা হলে আন্দোলন  --- ড. কামাল

 

স্টাফ রিপোর্টার : এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে, জনজীবন, উৎপাদন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিল্পকারখানা, পরিবহনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও যাতায়াত খরচের ওপরও পড়বে।’

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গণফোরামের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণশুনানির নামে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

গ্যাসের অযোক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণশুনানির নামে প্রতারণা ও এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

জনগণ রুখে দাঁড়াবে : কোন কারণ ছাড়াই সরকার আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পায়তারা করছে। জনমতকে উপেক্ষা করে গ্যাসের দাম এক পয়সাও বৃদ্ধি করা যাবে না। সরকার যদি আবারো গ্যাসের দাম বাড়ায় তাহলে জনগণ রুখে দাড়াতে বাধ্য হবে। গ্যাসের বৃদ্ধির প্রস্তাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটার কমিশন (বিইআরসি) যে গণশুনানির প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, নতুনভাবে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অযৌক্তিক চেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘ দিন যাবৎ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম অনেক কম। আর গ্যাস আমাদের নিজস্ব সম্পদ। নতুনকরে জ্বালানী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য হবে না। অথচ গণশুনানির নামে গ্যাসের দাম রাড়ানোর আয়োজন চলছে। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গ্যাসের দাম ১০২.৮৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করতে চাচ্ছে। কোম্পানিটি আবাসিকে একচুলা ৭৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা, বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক ০৪ টাকার পরিবর্তে ২৪ দশমিক ০৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। এ প্রস্তাব কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। জ্বালানী গ্যাসের দাম এক পয়সায়ও বাড়ানো যাবে না। সরকার আবারো গ্যাসের দাম বাড়ালে জনগণ রুখে দাড়াতে বাধ্য হবে। 

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে মজলিস মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা এস এম সাখাওয়াত হোসাইন, যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসনে মিয়াজী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হালিম, এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, অধ্যাপক কে এম আলম, মাওলানা নোমান মাযহারী, মাওলানা আজীজুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল ইসলাম, মুফতি ওযায়ের আমীন প্রমুখ।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেছেন, প্রতিমাসে জনগন থেকে গ্যাসের বিল নেয়া হচ্ছে অথচ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাসহ অনেক এলাকায় ৭/৮ বছর যাবৎ রান্নার চুলায় গ্যাস থাকে না। আবার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। জনগনের ন্যায্য পাওনা গ্যাস না দিয়ে বার বার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৈক্তিক। গ্যাস না দিয়ে প্রতিমাসে অতিরিক্ত বিল নেয়া দেশের সাধারন মানুষের উপর জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারন গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করে আবার মুল্য বাড়ানো হলে জনগন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মাদরাসায় খেলাফত আন্দোলনের এক বৈঠকে তিনি এইসব কথা বলেন, এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা সানাউল্লাহ ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ