ঢাকা, শুক্রবার 15 March 2019, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পুরো দুনিয়া নীরব থাকলেও তুরস্ক চুপ থাকবে না-----এরদোগান

 

১৪ মার্চ, আনাদোলু এজেন্সি: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, পবিত্র আল আকসা মসজিদ ইস্যুতে পুরো দুনিয়া নীরব থাকলেও তুরস্ক চুপ থাকবে না। গত বুধবার আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম।

রজব তাইয়্যেব এরদোগান জরুসালেমের আল আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসরাইলি তা-বেরও সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, তুর্কি জাতি এই পবিত্র মসজিদে যে কোনও তা-বের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। এ ইস্যুতে সমগ্র দুনিয়া মুখে এঁটে রাখলেও তুরস্ক চুপ করে থাকবে না।

রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, জেরুজালেমের জন্য তুরস্ক তার লড়াই অব্যাহত রাখবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শহরটি ইসলামী বিশ্বে এর গুরুত্ব অনুযায়ী পরিচালিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। এরদোয়ান বলেন, আল আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে হামলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ইসরাইলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে তুরস্ক।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, দুনিয়ায় যদি একজন নিপীড়ক থাকে, তবে সেটি হচ্ছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এরদোগান বলেন, নেতানিয়াহু কি সেই ব্যক্তি নয়, যে নির্বাচনে সুবিধা লাভের উদ্দেশে হাজার হাজার নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষকে কারাগারে রাখে? তাদের ওপর নিপীড়ন চালায়।

উল্লেখ্য, জায়নবাদ নামক মতবাদের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল রাষ্ট্র। জায়নবাদ ইহুদি ধর্মের দর্শন নয়, এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ; অলীক রূপকথায় যে মতবাদের শরীর গড়ে উঠেছে। জায়নবাদের ভাষ্য, জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পবিত্র নগরীতে স্রষ্টা তাদের অধিকার ফিরিয়ে নিতে বলেছিল! ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, ১৮ শতক থেকে জায়নবাদ নামের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা তাদের বর্ণবাদী ধারণা ধারণা বিস্তার ঘটিয়ে দখল হওয়া ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জায়নবাদী মতাদর্শকে আইনগত ভিত্তি দিতে নেসেটে পাস হওয়া ‘জাতিরাষ্ট্র বিষয়ক আইন’ অনুযায়ী দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল রাষ্ট্রকে ঐতিহাসিকভাবেই ইহুদিদের জন্মভূমি আখ্যা দেওয়া হয়। বলা হয়, সঙ্গত কারণেই এখানকার মাটিকে নিজেদের দাবি করার অধিকার রয়েছে তাদের। আইনে বলা হয়, ইসরাইল শুধু ইহুদি নাগরিকদের রাষ্ট্র। অথচ ইসরাইল নামক দেশটিই গড়ে উঠেছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখ- দখল করে।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। ১৯৮০ সালে পুরো জেরুজালেমের দখল নেয় ইসরাইল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনও তাদের এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বরাবরই এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ