ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আবার কলঙ্কিত হলো উপজেলা নির্বাচন     

এইচ এম আব্দুর রহিম : সরকার এক তরফা নির্বাচন করার পর  আবারও কলঙ্কিত হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে অনিয়মের খবর এসেছে। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপে গত ১০ মার্চ ৭৮টি উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। ভোট কেন্দ্র ছিল ৫ হাজার ৮৪৭টি। এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে । সিরাজগঞ্জ সদরে ভোটের আগের রাতে জালভোট দিতে সহযোগিতা করায় প্রিজাইডিং অফিসার, দুই জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এ জেলার রিটানিং কর্মকর্তার নিকট এই মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়। প্রথম আলো পত্রিকার হেডিং ‘রাতে ব্যালটে সিল মারছিলেন তাঁরা’। কুড়িগ্রামে জোরপূর্বক ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে ৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। শাহজাদপুরে দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত। সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে ৪ ঘন্টায় মাত্র ১০ ভোট। হবিগঞ্জে দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসার পুলিশ, আনসারসহ ৬ জন। এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে কোনো এজেন্ট ছিল না। এসব পত্রিকার খবর। নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা গত ৮ মার্চ চতুর্থধাপে উপজেলা নির্বাচনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে বলেছেন ‘যারা নির্বাচনে অনিয়ম করে তাদের শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। তিনি এতদিন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের কথা অস্বীকার করলেও উপজেলা নির্বাচনের প্রাক্কালে সে কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি বলেছেন, আগামীতে ভোটে ইভিএম শুরু করে দেব, সেখানে আর আগের রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কথা রাখতে পারলেন না। একতরফা উপজেলা নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়ে ছিল আগের রাতে।  

 একতরফা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে কোনো আগ্রহ উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এ নির্বাচনের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দলীয় কোন্দল প্রবল আকার ধারণ করেছে। কেউ যেন কাকে মেনে নিতে পারছে না। বিগত উপজেলা নির্বাচনে প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা নিরপেক্ষ ভোট হলেও তারপর আর নিরপেক্ষ ভোট হতে দেয়নি সরকার। প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে দলীয় প্রার্থীদের উঠিয়ে নেয়। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর স্তম্ভিত বিএনপি নেতাকর্মীরা ভূমি ধ্বস পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে দলটিতে। নির্বাচনে অপত্যাশিত পরাজয়ের জন্য নির্বাহী কমিটি থেকে শুরু করে অঙ্গ সংগঠন জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে পুর্নর্গঠনের ও কাজ চলছে । সেই নির্বাচনের দু:সহ অভিজ্ঞতা ‘ঘা’ না শুকাতেই ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১০মার্চ প্রথম ধাপে ৭৮টি উপজেলায় এবং ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ১২৯ টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে ২৫টি জেলার ১২৬ উপজেলায় নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই হয়ে গেছে। তবে অন্যন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ের পর বাদ পড়লেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বাদ পড়েনি। 

বিগত ৩০ ডিসেন্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোট চুরি, জালিয়াতি এবং আগের রাতে সিল মারার অভিযোগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। গত ২৪ জানুয়ারি দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় এই নির্বাচনে না নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হলে তিনি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগতম জানান। তবে দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায়  বিএনপির ৮৩ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রথম ধাপে ৮৭ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১২২জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবার ভোট হচ্ছে পাঁচ পর্বে। প্রথম পর্বের ভোট হয়েছে ১০ মার্চ, পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন। এর মধ্যে দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে।

 সূত্রমতে, ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একই দিনে সব উপজেলায় ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে সব উপজেলায় ছয় ধাপে ভোট করে ছিল তৎকালীন ইসি। সেই ধারা বজায় রেখে এবার বিভাগওয়ারী ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ার বিষয়টি দেখে বাকীগুলোর ভোট হবে পঞ্চমধাপে। উপজেলা ভোটেও ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে উপজেলা নির্বাচন র্নিদলীয়ভাবে হলে এবার হবে দলীয় প্রতীকে। ফলে এ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের কোনো আগ্রহ নেই। নির্বাচনে প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে বিজয় নিশ্চিত করতে চায় তারা। এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই। দলীয় সরকারের অধীনে দলীয় প্রতীক নিয়ে সরকার আর কাউকে হারাতে চাচ্ছে না। অনেকের মন্তব্য এ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

 বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি)অধীনে আর নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে বি এন পি। মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও তাদের সহযোগী ১৯টি  দল আগামীতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তা গনতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকরণ ও বিকাশে  সহায়ক হবে না । উপজেলা পরিষদের পদে আওয়ামী লীগ  দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় প্রার্থীরুপে মনোনয়ন দিচ্ছে না । অর্থাৎ দলটির নেতা কর্মী ও সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে নির্বাচন করছেন । বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে ও সংসদেও বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ আর ও কোন কোন দলের র্নিদলীয় প্রার্থীরা অংশ নিবেন। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরমধ্যে যারা এসব পদে প্রার্থী হচ্ছেন তাদের জয়লাভ নিশ্চিত বলে ধরা যায়। ইতোমধ্যে ৯৬ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

 বি এনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায়  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিষদের চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান,সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার খবর গন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। গত কয়েক দিন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট ‘উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৯ প্রার্থী, উপজেলা ভোট : ৩৩ একক প্রাথী নির্বাচিত হওয়ার পথে’ ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৬ উপজেলার মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ার ম্যান,ভাইস চেয়ার ম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান  ১৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন । উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন উপজেলা চেয়ারম্যান। তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থক।

 উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী বা সমর্থক ও প্রার্থীদের অধিক সংখ্যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়রের শূন্যপদে এবং ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৩৬টি নবগঠিত ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১২ টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে বি এন পির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশ গ্রহন না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন । বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র পদে নির্বাচনে রাজধানীবাসীর মধ্যে কোন আগ্রহ উচ্ছ্বাস ছিল না । সিটি নির্বাচনে বি এন পির মনোনিত প্রাথী না থাকায় শাসক দলের মনোনিত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হযেছেন । সুতারাং নির্বাচন এখন আনুষ্ঠানিকতায় পরিনত হয়েছে ।

 ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় জনগন আসন্ন পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছে না । সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোর (গাজীপুর,রাজশাহী খুলনা, বরিশাল সিটি নির্বাচন) অভিজ্ঞতা প্রধান বিরোধী দল গুলোর উপজেলা নির্বাচন বর্জন ত্বরান্বিত করেছে । এর ফলে বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচনের বর্জনের ঘটনা শুধু ঘটেনি বরং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর আস্থা হারিয়েছে জনগণ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গুলোয় বহু দলীয় অংশগ্রহণ মুলক তথা প্রতিদ্বন্দি¦তামুলক নির্বাচনের ইতিহাস বেশি দিনের নয় ।

আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে স্থানীয় সরকার(ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) আইন, ২০১৫; উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫; স্থানীয় সরকার  (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন২০১৫ এবং স্থানীয় সরকার (সিটির্কপোরেশন) (সংশোধন)আইন,২০১৫ এর মাধ্যমে  কেবল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্য ঘোষনা করা হয় । তবে উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যন পদকেও এ শ্রেণিভুক্ত করা হয়। ফলে এসব অনুষ্ঠানে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যেও অবসান ঘটে।এসব আইন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । সরকার এ সব আইনের ইতিবাচক দিক গুলো তুলে ধরে ।

 অন্য দিকে এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে নির্বাচন কে দলীয় করন করার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সমাজের বিশিষ্ঠজনেরা । বি এন পি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী পদে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন ব্যবস্থাকে  ‘সরকারের দুরভিসন্ধি’ বলে আখ্যায়িত করে। নেতিবাচক দিক গুলো বহি:প্রকাশ করার জন্য বেশী দিন অফেক্ষা করতে হয় না। এসব নির্বাচনে ক্ষতাসীন দলের প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের সন্ত্রাস, ভোট কেন্দ্র দখল,ব্যালট বাক্স ছিনতাই ইত্যাদি অনৈতিক কাজ স¦াভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। 

তাছাড়া এসব নির্বাচনে ছোট দলগুলো অংশগ্রহনে তেমন আগ্রহ দেখায় না । আর যে বিষয় চিন্তার কারন হয়ে দাড়ায় তা হল সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক। উদাহরণ স্বরুপ,২০১৬ সালে সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সর্ব নিম্মস্তর ইউনিয়ন পরিষদে শাসক দল আওয়ামী লীগ মনোনিত শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

 লেখক: সাংবাদিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ