ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিহত তিন বাংলাদেশীর  মধ্যে দুজনের পরিচয়  পাওয়া গেছে 

 

সংগ্রাম ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে অস্ত্রধারীর এলোপাতাড়ি গুলীতে ৩ বাংলাদেশীসহ ৪৯ জন নিহত হয়েছে। এঘটনায় ৪ বাংলাদেশীসহ আহত ৪৮ জন।  

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কনসাল শফিউর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে এক বাংলাদেশী হলেন কৃষিবিদ ড. আবদুস সামাদ। তিনি ক্রাইস্টচার্চের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামে। তার স্ত্রীরও সন্ধান পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত।

মিসেস হুসনে আরা পারভীন ছবি নামে আরেক বাংলাদেশীর নিহত হবার খবর পিাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি সিলেটে। এছাড়া চার পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন সিলেটের পারভীন

নিহত হুসনে আরা পারভীন ও  তার বেঁচে যাওয়া স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদনিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশীর মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে গেছেন তার অসুস্থ স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

পারভীনের নিহত হওয়ার খবরে দেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিজের বাসায় রয়েছেন। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর হুসনে আরা পারভীনের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুরুদ্দিনের মেয়ে। তারা তিন বোন ও দুই ভাই।

নিউ জিল্যান্ডে বসবাসকারী স্বজনদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত হুসনে আরার ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় একটি মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের একাংশে নারীরা ও অন্য অংশে পুরুষরা নামাজ আদায় করেন। ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা আগে আমার খালা হুসনে আরা তার অসুস্থ স্বামীকে (প্যারালাইজড) নিয়ে মসজিদে যান। সেখানে খালা তার স্বামীকে হুইল চেয়ার করে মসজিদে পুরুষদের অংশে ভেতরে রেখে নিজে নারীদের অংশে নামাজ আদায় করতে যান।’

মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় ১৫ মিনিট পর গুলির শব্দ শুনে পারভীন তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলী করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

তিনি জানান, নিউ জিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহত পারভীনের মরদেহ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে পারভীনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিউ জিল্যান্ডে অবস্থানকারী তার স্বজনদের জানানো হয়েছে।

মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘মসজিদের বাইরে গুলীর শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুসল্লি হুইল চেয়ারে করে ফরিদ উদ্দিনকে বের করে নেওয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন। ফরিদ উদ্দিন ও হুসনে আরা পারভীন ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন।’

নিউ জিল্যান্ডে বসবাসকারী নিহত পারভীনের ভাবি হিমা বেগম ঘটনার পর টেলিফোনে সিলেটে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রায় একঘণ্টা পর হিমা বেগম ফোন করে পারভীন খালার নিহতের খবরটি আমাদের জানিয়েছেন। তখন বাংলাদেশ সময় আনুমানিক সকাল ১০টা।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত পারভীন ও ফরিদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউ জিল্যান্ডে চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

হামলায় নিহত কৃষিবিদ ড. সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামে

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশির একজনের পরিচয় মিলেছে। ড. মো. আবদুস সামাদ নামের এই বাংলাদেশির বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে; তিনি মৃত জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। নিহত ড. মো. আবদুস সামাদের ছোট ভাই ও নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক এ কে এম শামসুদ্দিন ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শামসুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা নিউ জিল্যান্ড থেকে মেসেজ পেয়েছি যে, আমাদের ভাই ড. মো. আবদুস সামাদ বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আমার ভাবি ও তাদের দুই ছেলে ভালো আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই ড. সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত ৮-১০ বছর ধরে স্ত্রী ও দুই  ছেলে নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন তিনি। তবে মাঝে মাঝে তিনি দেশে আসতেন।’

নিহতের আরেক ছোট ভাই আব্দুল কাদেরের বরাত দিয়ে শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই কাদেরের সঙ্গে আমার ভাবির কথা হয়েছে। তিনি ও তাদের দুই ছেলে ভালো আছেন। আমরা আরও খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সুলতান উদ্দিন ভুঞার বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ড. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। তিনি গতবছর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

প্রফেসর ড. সুলতান উদ্দিন ভুঞা আরও জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮০ সালে প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এর আগে তিনি একবছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকরি করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৮ সালে তিনি নিউ জিল্যান্ডের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ওই সময় নিউজিল্যান্ডেই তার দুই ছেলের জন্ম হয়।

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের আরেক প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ড.আবদুস সামাদ, তার স্ত্রী ও ছেলেরা সবাই ধার্মিক। এভাবে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি মারা যাবেন -এটা আমরা কেউ ভাবিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ