ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রাণে বেঁচে যাওয়া ক্রিকেটাররা একসাথেই আজ দেশে ফিরছে 

স্পোর্টস রিপোর্টার : মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে ঘটতে পারত অনেক বড় দুর্ঘটনা। কিন্তু সেখান থেকে প্রাণে বেঁচে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায় মসজিদে থাকার কথা ছিলো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কিন্তু শনিবারের (আজ) ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ-ছয় মিনিট সময় বেশি ব্যয় করে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা। আর এই পাঁচ মিনিটই যেনো বাঁচিয়ে দিয়েছে পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। কেননা পাঁচ মিনিট আগে মাঠ ছাড়লে কিংবা মসজিদে সময়মতো পৌঁছে গেলে হয়তো আর ফিরে পাওয়া যেতো না দেশের ক্রিকেটের প্রতিনিধিদের। কারণ গতকাল ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভালের কাছের আল নুর মসজিদসহ দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় তিন বাংলাদেশীসহ অন্তত ৪৯ জনের মৃত্য হয়। আহত হয়েছেন আরও ৪৯ জন। এদের মধ্যেও একাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর মিলেছে। মসজিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট বাতিল করা হয়। আজ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের দুপুর ১২টার (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) ফ্লাইটে দেশের বিমান ধরবে টাইগাররা। বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানিয়েছেন, 'প্রথমে ভাবা হয়েছিল, আলাদা আলাদা করে যে কয়জনকে পারা যায় একে একে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে পরে ১৯ সদস্যের দলের একসঙ্গে ফেরার ব্যবস্থা করা গেছে। এই ফ্লাইটটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে।' এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে আগে কখনও পড়েননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। প্রায় মৃত্যুর হাত থেকেই বেঁচে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলটি এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়। সংবাদ সম্মেলনে বেশি সময় লেগে যাওয়ায় মসজিদে পৌঁছতে প্রায় ১টা ৪০ মিনিট হয়ে যায়। আর এতেই যেনো বেঁচে যান তামিম, মুশফিক, তাইজুল, মিরাজরা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ‘দেরি’ হয়ে যাওয়ায় বাস থেকে নেমেই তড়িঘড়ি করে মসজিদের পথে পা বাড়ান ক্রিকেটাররা। পথিমধ্যে তাদের আটকে দেন বাসের পাশেই গাড়িতে থাকা আহত এক নারী। তিনি মুশফিক-তামিমদের বারণ করেন সামনের দিকে যেতে। তখনো ক্রিকেটাররা জানতেন না কী হয়েছে সামনে, কেনোই বা যেতে বারণ করা হয়েছে। পরে সেই ভদ্রমহিলাই জানান মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এবং আশেপাশের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। এ সতর্কবার্তা পেয়ে প্রথমে নিজেদের টিম বাসেই অবস্থান নেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু বাসের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মী দূরে থাক নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় কেউই না থাকায় বেশিক্ষণ নিরাপদ মনে হয়নি সে জায়গাটি। তাই বাস থেকে হাগলি পার্কের মধ্য দিয়ে আবার মাঠে ফিরে আসেন সবাই। সেখানে কিছুক্ষণ ড্রেসিংরুমে বসে থেকে সবাই মিলে চলে যান টিম হোটেলে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিশ্চিত করেছেন, খেলোয়াড়দের সবাই নিরাপদে আছেন। আজ দেশে ফিরবে। হামলার পর নিজেরা নিরাপদে আছেন বলে একাধিক খেলোয়াড় তাদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন,‘পুরো দল গোলাগুলীর হাত  থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম টুইট করেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ হামলার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘বাসে করে দলের বেশিরভাগ সদস্য মসজিদে গিয়েছিল। ঠিক যখন হামলার ঘটনা ঘটে, তারা মসজিদে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল।’ তিনি আরও বলেন,‘তারা নিরাপদে আছে। কিন্তু, মানসিকভাবে তারা হতবাক। আমরা তাদের হোটেল থেকে বের না হওয়ারার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। দলের সঙ্গে বিসিবি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।’ জানা গেছে ওই সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিল না। ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের জন্য। এমনকি ওই সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে লিঁয়াজো অফিসার পর্যন্ত ছিলেন না। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় বাংলাদেশ দল দেশের বাইরে সফর করতে যায়, এ বিষয়টা হয়তো আগে জানা ছিল না কারো। এবার ক্রাইস্টচার্চ ঘটনায় এ বিষয়টা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে আসলো সবার সামনে এবং চারদিক থেকেই দারুণ সমালোচনা তৈরি হয়েছে, কেন ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিসিবিও তাদের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে কথা বলে না। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না? এসব নিয়ে গতকাল নিজ বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।  তিনি জানান, এখন দেশে ফেরাতে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে জানান নাজমুল। তিনি বলেন,‘সবশেষ খবর হচ্ছে আমাদের পুরো দলের সবাই নিরাপদে হোটেলে পৌঁছেছে। তারা এখন হোটেলেই আছে। আমি খবর পাওয়ার পরপরই কথা বলি পাইলটের সঙ্গে। তারপর তামিমের সাথে কথা হয় আমার তখনই। আমি মুশফিক-রিয়াদ ওদের সাথেও কথা বলেছি। তারা সবাই এখন হোটেলে আছে এবং নিরাপদ আছে।’ সন্ত্রাসী হামলায় একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বেশ দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাংলাদেশ দলের  খেলোয়াড়দের। যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান তামিম-মুশফিক-মিরাজরা। এমন ভয়াবহ ঘটনার পর পুরো বিশ্বের মতো ক্রিকেটাঙ্গন জুড়েও শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশ্বের অনেক সাবেক ও বর্তমান দেশি-বিদেশি ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ