ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে ভুখা মিছিল ॥ আরো ৩ অনশনকারী হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনকারী আরও তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে বিজয়ীদের আজ শনিবার গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এইদিন বিকাল ৪টায় এই সাক্ষাৎ‘র সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

গতকাল শুক্রবার বিকালে ক্যাম্পাসে ভুখা মিছিল করার সময় অনশনরত ৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এনিয়ে পাঁচ অনশনকারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। নতুন করে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- শোয়েব মাহমুদ, সিইসির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব ও ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিকালে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি ভবনের সামনে আসলে অনশনকারী শোয়েব মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অনশনকারী শিক্ষার্থী মীম আরাফত মানব ও আল মাহমুদ তাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাদের সহপাঠিরা শিক্ষার্থীদের রিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এরআগে অনশনকারী শিক্ষার্থী অনিন্দ্য ম-ল অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনিন্দ্য চিকিৎসা নিয়ে আবাসিক হলে ফিরে আসেন। পরে শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রবিউল ইসলাম। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনশনে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না বলেন, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলেননি। গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রতীক্ষিত ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন হয়। ভোটের দিন কুয়েত-মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি ব্যালট উদ্ধার ও রোকেয়া হলে গ-গোলের মধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় পাঁচটি প্যানেল। পুনঃতফসিল ও রোকেয়া হলের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে ভোটের পরদিন সন্ধ্যা ৬টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন শুরু করেন ছয় শিক্ষার্থী।

প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যাগুলো জানাতে যাবেন ভিপি নুর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গণভবনের যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। নুর বলেন, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি একা আমাকে ডাকেননি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে ডেকেছেন। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরও ডেকেছেন। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলেও আমাকে শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা, আমি সেগুলো তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলবো। তবে যাওয়ার আগে অন্যান্য প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নুর।

আপনি ও আপনার প্যানেল থেকে নির্বাচিত দুজন এখানে আছেন। আপনারা গণভবনে যাবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে নূর বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি আমাদের ডেকেছেন, আমি যাওয়ার বিষয়ে পজেটিভ।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন না আসার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি অবাক হলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান ও শিক্ষার্থীরা অনশনরত। অথচ তাদের দেখতে এখন পর্যন্ত কেউ আসেননি। এ সময় অনশনরত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে নিষেধ করেন। তখন নুর বলেন, আমি প্রথম থেকে পুননির্বাচনের দাবি করে আসছি। আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যাগুলো জানাতে হবে।

নব নির্বাচিত এই ভিপি আরো বলেন, আমার ব্যক্তি ইমেজকে নষ্ট করার জন্য ও সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের বিভ্রান্ত করার জন্য নানা কিছু ছড়ানো হচ্ছে। আমি আগেও বলছি এখনো বলছি আমি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে আমি এখন কোনভাবেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ পরিষদের পক্ষ হতে আমি ডাকসুতে নির্বাচন করেছি। সুতরাং এখানে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। আমি আগে ছাত্রলীগ করেছি। আমার মনে হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে কিছু কাজ আমার নৈতিকতায় সায় দেয় না। সেজন্য আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছি। 

নুরের সাক্ষাৎ‘র বিষয়টি তার ব্যক্তিগত: গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপির সাক্ষাতের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করেছেন পরাজিত ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। গতকাল শুক্রবারবিকালে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ভুখা মিছিল শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

লিটন নন্দী বলেন, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন কিনা, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমাদের জোটে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা নীতিগতভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই এই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা এখনও সেই দাবিতে একমত। এখানে যারা অনশন করছেন তারাও তাই চান।

পুনর্নির্বাচন না দিয়ে নতুন ডাকসু কমিটির অভিষেক হলেও এই আন্দোলন চলবে কিনা? চানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, আমাদের ক্যাম্পেইন, আন্দোলন চলবে। ধাপে-ধাপে আন্দোলন আমরা চালিয়ে যাবো। আমাদের জোটে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো।

আগামী দুই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকবে। এসময় আন্দোলনের ধরণ কি হবে? জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, দুদিনের বন্ধে আমরা হলে-হলে ক্যাম্পেইন চালাবো।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১১ মার্চ) দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় পরিষদে ২৫টির মধ্যে ২৩টি পদ পায় ছাত্রলীগ। অধিকাংশ হলেই পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম এ সংগঠনটির প্রার্থীরা। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে ছাত্রলীগ বাদে সব প্যানেল ও ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিল দেওয়া ব্যালট উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে রোকেয়া হলে তিন ট্রাঙ্ক ভর্তি ব্যালট উদ্ধার করেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ছাত্রলীগ,প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলনের দেওয়া প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে গোলযোগ বাধে। পরবর্তীতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচন,হল প্রভোস্টের পদত্যাগ,মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে আমরণ অনশন করছিলেন রোকেয়া হলের ছয় ছাত্রী। তবে তারা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তবে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যেও ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশন পালন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ