ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরারোগীদের পণবন্দী করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে!

খুলনা অফিস : অলিগলিতে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক ছড়িয়ে পড়েছে। সেবার নামে বাণিজ্য, দালালদের মাধ্যমে প্রতারণা এবং অসহায় দরিদ্র রোগীদের নিঃস্ব করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া তাদের প্রতারণার হাত থেকে মুক্তির বিষয়ে কোনো সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে না। সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে দরিদ্র রোগীরা। চিকিৎসা সেবার জন্য প্রথম স্তর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকে গরিব অসহায় রোগীরা। অথচ এই সুযোগে কতিপয় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে রোগীদের পাঠিয়ে দিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। মেতে উঠছেন কমিশন বাণিজ্যে।

মহানগরীর মধ্যে বেসরকারি কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলনায় জেল জরিমানা করলেও আবার তারা মেতে উঠছে বাণিজ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা ডক্টরস পয়েন্ট স্পেসালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসক বাত ও পঙ্গু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সোহেল রানা। তিনি প্রতি শুক্রবার একদিন বসেন। তার নিকট সেবা নিতে যান সাইদা হক নামে এক রোগী। তাকে প্রথম দেখায় প্রায় ৪০০০ টাকার পরীক্ষা দেন এবং ওই পরীক্ষার রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহে দেখবেন নতুন ভিজিট নিয়ে। তারপর রোগী পাবেন ওষুধ। তাছাড়া ডক্টরস পয়েন্ট হাসপাতালে রয়েছে তাদের নিজস্ব প্যাথলজি বিভাগ। যেখানে রোগীদের অতিরিক্ত পরীক্ষা করার নির্দেশনা দিয়ে চিকিৎসকরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। শহরের মধ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ক্লিনিক। যারা সরকারি চিকিৎসকদের হাতে রেখে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী নিচ্ছেন। তাছাড়া আবু নাসের হাসপাতালের কিডনি বিভাগের চিকিৎসক এনামুল কবীর খুলনা গাজী মেডিকেল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়মিত ৮০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন এবং পরীক্ষার কমিশনতো আছেই।

বযরা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী আবুল হোসেন বলেন, তিনি পান খেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ছাড়পত্র গ্রহণ করবার সময় হাসপাতালে কর্মরত একজন স্টাফ বলেন আপনার সমস্যা অনেক বড়। আপনি ডক্টরস পয়েন্টের ইউরোলজি চিকিৎসক নাজমুল স্যারের কাছে যান। পরবর্তীতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ডাক্তার নাজমুল আবু নাসের হাসপাতালে ১১৪নং কক্ষে আউটডোরে রোগী দেখেন। সেখানে তিনি সরকারি ১০ টাকা দিয়ে টিকিট ক্রয় করে চিকিৎসক নাজমুলকে দেখান। তিনি কিছু পরীক্ষা দেন এবং বলেন, এখানে পরীক্ষাগুলো হবে না আপনি ডক্টরস পয়েন্ট যান। আমি ২৫% কমিশন লিখে দিয়েছি। পরবর্তীতে তিনি ১৬৫০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করেন।

ডক্টরস পয়েন্ট স্পেসালাইজড হাসপাতালের এম.ডি ডা. আছাদুল্লাহ গালিবকে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে খলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সুশান্ত কুমার রায় বলেন, আমি ডক্টরস পয়েন্ট স্পেসালাইজড হাসপাতাল কোথায় জানি না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

১৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন

খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে আন্তর্জাতিক মানের খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া গেছে। বুধবার সিসিজিপি এ অনুমোদন প্রদান করে। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ২৭ নবেম্বর ই-টেন্ডারের মাধ্যমে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগামী ২৭ ডিসেম্বর এ দরপত্র খোলা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর শামসুর রহমান রোডে সাবেক বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামক যে অফিসটি যেখানে ছিলো, সেই জায়গাটি ছিলো সরকারের মালিকানাধীন জমি। ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গাটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। দখলমুক্ত করার পর ওই জায়গায় ১৫তলা খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার তৈরীর প্রকল্প করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের উদ্যোগে এ কনভেনশন সেন্টার তৈরীর লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের এ কনভেনশন সেন্টারটির নিচের দুই তলা ব্যবহৃত হবে বেজমেন্ট হিসেবে। যেখানে এক সাথে ৭২টি গাড়ী পার্কিং করা যাবে। সূত্র জানায়, কনভেনশন সেন্টারে ৬০০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম, ৬টি সেমিনার রুম, প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট, ৮০টি আবাসিক কক্ষ, মিটিং রুম, প্রশাসনিক ভবন, নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ডরমেটরি, সুইমিংপুল, জিম, বারবার শপসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।

এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক মানের খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া গেছে।

খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন। উল্লেখ্য, মো. আব্দুস সামাদ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালীন বার্ডস বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা জায়গাটি মুক্ত করেন এবং সেখানে খুলনা এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ