ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

কালের আবর্তনে আর সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলীন হতে চলেছে কুমারখালীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। এলুমেনিয়াম, মেলামাইন ও প্লাষ্টিকের ভীড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরী মৃৎশিল্পের প্রয়োজনীয় চাহিদা। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি। এক সময় কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত পরিবার প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। আধুনিকাতার ছোঁয়া ও কালের পরিক্রমায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখন তাদের পূর্বসুরীদের এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। এখানকার তৈরী মৃৎশিল্পের সুনাম ও সুখ্যাতি ছিল দেশব্যপী।  কুমারখালীর কল্যাণপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাল বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে এখন মাত্র সাতটি পরিবার রয়েছে। অথচ একসময় এখানে প্রায় দুই শাতাধিক পাল পরিবার বসবাস করত। মহিলা ও পুরুষের সমন্বয়ে মাটি দিয়ে চাকের সাহাস্য যাবতীয় মৃৎশিল্প তৈরী করা হয়। এর পর তা রোদে শুকিয়ে জলন চুল্লিতে দিয়ে পোড়ান হয়। একসময় এখানকার পালেরা  হাড়ি, পাতিল, কলসি, কড়াই, ব্যাংক, বিভিন্ন পিঠা তৈরীর চাঁচ, ছোট-ছোট খেলনা ইত্যাদি সব জিনিসপত্র তৈরী করলেও এখন শুধুমাত্র অর্ডার নিয়ে দৈ এর পাত্র ও গুড় এর কোলা তৈরী করে কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মৃৎশিল্পের নিপূণ কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আজ অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিলুপ্ত প্রায় এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কয়েকজন গড়ে তুলেছেন একটি মৃৎশিল্প সমবায় সমিতি। এ সমিতির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সেনেটারী লেট্রিনের চাক, পানির ট্যাংকি তৈরী করে ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্বল্পমূল্য আধুনিক মানসম্মত এসব জিনিসের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তৈরী করতে পারছে না।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ