ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইসির পর ভিসি : ডাকসুর গৌরবে কালিমালেপন

আখতার হামিদ খান:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কলঙ্কিত অ্যাখ্যা দিয়ে তা বাতিল ও পুনঃতফসিল দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকরা। তারা বলেন, ভোটের আগের রাতে একটি সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিয়ে বস্তা ও ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার মতো নির্লজ্জ জালিয়াতি ও নানা গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত করা এবং গোটা জাতি ও বিশ্বের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকাকে ভূলুন্ঠিত করার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গতকাল (সোমবার) সাদা দল সমর্থক শিক্ষকরা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, বাংলাদেশে যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিপন্ন, মানুষ যখন ভোট ব্যবস্থার প্রতি চরম অনাগ্রহী, ঠিক সে সময় অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোট জাতি পরম আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের ভূলুন্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জয়যাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হবে। যদিও এ নির্বাচন আয়োজনের শুরু থেকে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও ক্রিয়াশীল সকল দল ও সংগঠনের মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। তফসিল ঘোষণার পূর্বে এবং পরে তারা নানাভাবে তাদের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে আসছিলেন। শিক্ষক সংগঠন হিসেবে সাদা দলও এ নির্বাচনী প্রক্রিয়া তাদের যুক্ত করার দাবিসহ একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের কথা কর্তৃপক্ষকে বলে আসছিল। সর্বশেষ গতকাল ১০ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে এ নির্বাচন যে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না, নানা কারণ ও যুক্তি দিয়ে আমাদের আশঙ্কা ও উৎকন্ঠা বিষয়ে দেশবাসী এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশন আমাদের কোনো দাবিকেই আমলেই নেয়নি।

তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঐতিহ্য রক্ষার্থে ডাকসু নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু তা না করায় জাতীয় নির্বাচনের মতো বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল এবং রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন হলে রাতের বেলায় ভোট কাস্ট করে রাখার যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা জাতি প্রত্যক্ষ করলো শিক্ষক হিসেবে আমরা এতে ক্ষুব্ধ, লজ্জিত ও ভীষণভাবে মর্মাহত। যে সব শিক্ষক এ কলঙ্কময় ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের এ অপকর্মের দায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই নেবে না। অভিযুক্তদের নিজ নিজ পদ থেকে শুধু অব্যাহতি দেয়ায়ই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তাদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, ড. সদরুল আমিন, ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ড. মোঃ আখতার হোসেন খান, ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. মো. আবুল কালাম সরকার, মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ড. মামুন আহমেদ, ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ড. মো. নুরুল আমিন, ড. মো: আবদুর রশীদ, মো. মাহফুজুল হক, ড. লায়লা নূর ইসলাম, ড. দিলীপ কুমার বড়ূয়া, ড. মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া, আ কা ফিরোজ আহমদ, ড. বোরহান উদ্দীন খান, তাহমিনা আখতার, হোসনে আরা বেগম, ড. মোঃ আবুল বাশার, ড. শেখ নজরুল ইসলাম, ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, ড. মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, ড. ছিদ্দিকুর রহমান নিজামী, আহমেদ জামাল আনোয়ার, ড. মোবাশ্বের মোনেম, ড. মোঃ আবুল বাসার, কাওসার হোসেন টগর, ড. জাহিদুল ইসলাম, ড. সিরাজুল হক, এমএ কাউসারসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার প্রদীপ নিভে গেল

২০১৮–এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি আশা টিমটিম করে জ্বলছিল। ওই দুই নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই আশার প্রদীপ এবার নিভে গেল কি না, সেই প্রশ্নের জন্ম হলো। ডাকসুর এই নির্বাচন, নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক কি না এবং এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে গেলাম কি না, সেই আশঙ্কাও দেখা দিল। এ থেকে সহজ উত্তরণের পথ নেই। ভেবেছিলাম এরপর দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। সেটি প্রথম ধাক্কা খেল এই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

অনেকে বলেন, ‘ডাকসু একটি মিনি পার্লামেন্ট। এটি দেশের গণতন্ত্রের সূতিকাগার’। এর মধ্যে হয়তো কিছুটা অতিশয়োক্তি আছে, কিন্তু কিছু সত্যও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে। সেই সত্যটিও এর মধ্য দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল। কয়েকটি হলে আমি দেখেছি ভোটারদের কৃত্রিম লাইন, যেটা অনেক ভোটারও অভিযোগ আকারে বলছিলেন। ভোট দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। এক ছাত্রকে আমি দেখলাম, সে সাভার থেকে আসে। তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরেও গেছেন। রোকেয়া হলে আমরা দেখলাম দুই দফা ভোট হলো, আবার তা বাতিলও হলো। আর কুয়েত-মৈত্রী হলে যা ঘটল, তা খুবই ন্যক্কারজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এমন কলঙ্ক আর হতে পারে না। আমি মনে করি, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।

কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্টকে যখন সরিয়ে দেওয়া হলো, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দেখে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু এরপরে আবার যা হলো, তা আমাদের ব্যথিত করেছে। সুফিয়া কামাল হলে দেখলাম, একটি মেয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরেও তাকে ভোট দিতে দেওয়া হলো না। আমি মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের দায়িত্ব থাকা প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কাজেই শিক্ষক হিসেবে আমরা যে একটি উচ্চ নৈতিকতার কথা বলতাম, সেটি আর থাকল না। এর কারণ হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষের শিক্ষকেরাই হলসহ বিভিন্ন প্রশাসনের দায়িত্ব পান। ফলে তাঁদের ভেতরে কোথাও এমনটা থাকে যে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে জয়ী করতে হবে। এটা হয়তো সরকারপ্রধান চান না। তিনি হয়তো চান, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

কিন্তু এই যে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। যাঁরা একজন শিক্ষককে বড় পদ এনে দেন, তার বিনিময়ে তাঁর পক্ষে কাজ করার কোনো পূর্বশর্ত তৈরি হয় কি না, সেটা এবার সুস্পষ্টভাবে সামনে এল। প্রশাসনের বড় পদে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যেও এই ক্ষমতার সেতুবন্ধের ধারণা কাজ করে। এটা একধরনের অন্তর্গত দাসত্ব তৈরি করে।

আর এই নির্বাচনে যাঁরা বিরোধী ছিলেন, তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন, এই নির্বাচনে তাঁরা জয়ী হয়ে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, তা আবারও তাঁরা তুলবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জাতীয় পর্যায়ের সংগ্রাম আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তুলবেন তাঁরা। সেই ভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বাড়তি ভয় হিসেবে কাজ করেছিল বলে আমার মনে হয়। কাজেই শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতির লেজুড়বৃত্তি এর মধ্য দিয়ে এক হয়ে গেল।

এই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না বলে আমার মনে হয়। আমরা এই নির্বাচনকে নিয়ে দেশের গুণগত পরিবর্তনের যে আশা দেখেছিলাম, তা এবার বাস্তবতায় এসে হোঁচট খেল।

ক্ষোভের মুখে প্রশাসনের শিক্ষকেরা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. এস. এম মাহফুজুর রহমানকে ধাওয়া করেছে ছাত্রলীগ বাদে ভোট বর্জনকারী অন্যান্য দল ও জোটের শিক্ষার্থী-সমর্থকরা৷

ধাওয়া খেয়ে বর্তমানে তিনি সিনেট ভবনে অবস্থান করছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদন দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

উৎসবমুখর পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীরা।

কার্যালয় এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৫শ’ সদস্য। এরপর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসবনের সামনে ছাত্রদল অবস্থান নিলেও কিছুক্ষণ অবস্থান ছেড়ে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে তারা।

ছাত্রদল বাদে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি প্যানেলগুলো রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তারা নির্বাচনকে লোকদেখানো, ভোট ডাকাতি এবং প্রহসন উল্লেখ করে পুনঃনির্বাচনের দাবি করছে।

সেই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছে তারাও।বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে রোকেয়া হল থেকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বের হওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।

সোমবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল থেকে একবস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

এছাড়াও রোকেয়া হল, সূর্য সেন হলসহ আরও কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আনে সাধারণ শিক্ষার্থী, বামজোট প্যানেল ও কোটা আন্দোলনের প্যানেল।

অনিয়ম এনে দুপুরে তারা ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় রোকেয়া হল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যালট নিয়ে প্রতিবাদ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সেখানে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান আসেন। তিনি কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোপের মুখে পরেন।

উল্লেক্ষ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ সোমবার ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী।

ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন। তবে ইতিমধ্যে কয়েকটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে।

তিনজন শিক্ষার্থী পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

অনিয়মের ঘটনাগুলো খুবই লজ্জিত করেছে আমাদের:

‘বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনাগুলো আমাদের খুবই লজ্জিত করেছে। এই ঘটনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিনষ্ট করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে, যা সার্বিকভাবে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত করবে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে সোমবার স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক দল এক বিবৃতি এই কথা জানিয়েছে।

ওই পর্যবেক্ষক দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা খানম ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অতনু রব্বানী।

তাঁদের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এত বছর পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষক এবং সমগ্র শিক্ষক সম্প্রদায়ের নৈতিকতার মানদ-কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা চাই এই ব্যর্থতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। সে সঙ্গে এই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক।’

বিবৃতিতে পর্যবেক্ষকেরা বলেন, ‘ব্যালট পেপারে কোনো সিরিয়াল নম্বর ছিল না। ৪৩ হাজার ভোটারের একটি নির্বাচনের ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর না থাকাটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ, এতে নির্বাচনের ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম ঘটানো অনেক সহজ হয়ে যায়।’

পর্যবেক্ষকেরা জানান, ছাত্রদের হলের ভেতর মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কতগুলো অনিয়ম চোখে পড়ে (ক). ভোটারের আইডি চেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদস্যরাই বেশি মাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন এবং অনাবাসিক ছাত্রদের ভোট দিতে বাধা দেন ও নিরুৎসাহিত করেন। (খ). ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেও অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভোটারের সারির আশপাশে অবস্থান গ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। (গ). ভোটকেন্দ্রের বাইরে কৃত্রিম জটলা করে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা, যাতে ভোট গ্রহণপ্রক্রিয়া শ্লথ হয় এবং বাকিরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হন। (ঘ). অনেক ক্ষেত্রে বুথের ভেতর আমরা সময় গণনা করে দেখেছি ৫ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছেন। (ঙ). ভোট চলাকালেই রোকেয়া হলের সামনে একটি সংগঠনের ২০২৫ জন কর্মীকে হর্ন বাজিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।

ওই পর্যবেক্ষক দল ছাত্রদের এস এম হল, সূর্য সেন হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল, শহীদুল্লাহ্ হল এবং ছাত্রীদের রোকেয়া হল ও কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করে।

এক বাক্য ৫ মিনিট :

ক্ষমতাসীন দলসমর্থিত ছাত্রসংগঠন ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোর বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘উৎসবমুখর’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ পরিবেশে ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাতে তাদের শৃঙ্খলাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

২৯ বছর পর গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর মধ্যে ব্যালট পেপার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ভোটগ্রহণ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকায় রোকেয়া হল ও কুয়েত মৈত্রী হল বাদে অন্য হলগুলোতে দুপুর ২টায় ভোট শেষ হয়। এর কিছুক্ষণ পর উপাচার্য সাংবাদিকদের সামনে আসেন। কিন্তু তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে ঘুরে-ফিরে একই উত্তর দেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘প্রথমেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করেছে, এটাকে আমি ভূয়সী প্রশংসা করি। আমি অনেক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, সেখানে দেখেছি শিক্ষার্থীরা লাইন দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছেন। তাদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমি রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি।’

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কালক্ষেপণ না করে, কোনো শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রভোস্টকে সরিয়ে দিয়েছি। নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছি। কমিটি মূলত খতিয়ে দেখবে কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত। এই নীতিবহির্ভূত কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, যেটা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। এর বিরুদ্ধে আমরা কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নীতিবিরোধী এ ধরনের কাজ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না হয়। সেটা আমরা দেখব। রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এছাড়া রোকেয়া হলে এক ট্রাংক খালি ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ায় ছাত্রীরা বিক্ষোভ করে। তখন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর সেখানে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার মুখে পড়ে। এছাড়া বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী মুহসীন হলে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দেয়। এরপর ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব সংগঠন ভোট বর্জনসহ আজ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘যাহোক, আমাদের রীতিনীতি গঠনতন্ত্র মেনে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি যতগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করলাম, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে, আমাদের শিক্ষার্থীদের যে শৃঙ্খলাবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এগুলো দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আশা করি আমাদের ছেলে এবং মেয়েরা যে উদাহরণ রাখল এটি আমাদের নতুন মাত্রায় অনুপ্রেরণা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘সহাবস্থান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে থাকা, যেটি ইতোমধ্যে, এই মুহূর্ত পর্যন্ত, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখেছে সেটি আমি ভূয়সী প্রশংসা করি এবং তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিই, যেসকল গণতান্ত্রিক রীতিনীতি তারা অনুসরণ করেছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রেখেছে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল এই মূল্যবোধগুলোকে আমি ভূয়সী প্রশংসা করি। উৎসবমুখর আবেগঘনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, এটিকে আমি ভূয়সী প্রশংসা করি। শিক্ষার্থীদের মাঝে যে অসাধারণ গুণ এটি কিন্তু একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

ভোট বর্জনের ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিকরা আবারও প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ওই যে, যেটা বললাম যে কথাটা, আমাদের শিক্ষার্থীরা যে অসাধারণ উদাহরণ রেখেছে তা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।’

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কি না জানতে চাইলে উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেকগুলো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, সেখানে দেখেছি, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। এজন্য তাদের প্রতি আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। অত্যন্ত চমৎকারভাবে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। আমি এতে বিস্মিত হয়েছি।’

 ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের : দেশে শিক্ষার্থীদের পার্লামেন্টখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোনো কর্মকাণ্ড যেন ভাবমূর্তিতে আঘাত না হানে, কর্তৃপক্ষকে সে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে নির্বাচনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা দেখতে চাই। বহুল প্রত্যাশিত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।’ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ নির্বাচনে গণমাধ্যমের কর্মীরা যাতে নির্বিঘ্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের দিকে কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, সারা দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন। অনেক বছর পর বহুল প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে। 

এ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, এটাই প্রত্যাশিত। আর নির্বাচিত ছাত্র নেতৃত্ব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ডাকসুর গৌরব ফিরিয়ে আনুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক মনে করেন, ‘ডাকসুতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সবই করতে হবে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দেখতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরিভাবে দরকার। পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল ছাত্র-শিক্ষকের সুসম্পর্ক ধরে রাখতে ডাকসুতে স্বচ্ছ ছাত্রপ্রতিনিধিত্ব দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে যাতে কোনো আঘাত না পড়ে।’ অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ডাকসু ঘিরে রয়েছে সারা দেশের মানুষের প্রতাশা। তাই এ নির্বাচন কোনোভাবেই যাতে হতাশার কিছু না হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চাই।’ তিনি ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের পদত্যাগের ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের পদত্যাগে বাধ্য হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তার মর্যাদাহানির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। এসব কিছু বিবেচনায় রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ডাকসুর সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ