ঢাকা, শনিবার 16 March 2019, ২ চৈত্র ১৪২৫, ৮ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নোবিপ্রবি’র মৎস্য সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ

মাইনুদ্দিন পাঠান:

দিগন্তজুড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি, যেখানে আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল মিলেমিশে একাকার। সৈকতজুড়ে সারিসারি নারিকেল বৃক্ষ, বেলাভূমিতে প্রবাল পাথর, আর তীরে বাঁধানো নৌকা। প্রকৃতি যেন তার অপরূপ সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে আপন মনে। বলছিলাম দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের কথা। 

সময়টা ৫ ফেব্রুয়ারি। মধ্যরাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয় ক্যাম্পাসে। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে টেকনাফের উদ্দেশে বাসযাত্রা শুরু করে। এখান থেকেই যেন শুরু হয় হাসি আড্ডা আর ট্যুরের অসাধারণ সব মুহূর্ত!

৬ ডিসেম্বর সকালে বাস পৌঁছে যায় নির্ধারিত গন্তব্যে। সেখানে সবাই মিলে সকালে খাবার খেয়ে মূল গন্তব্যের পথে এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। পাড়ে অপেক্ষমান জাহাজ। সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজে সকলের জাহাজ ভ্রমণ শুরু। যতদূর যায় দুচোখ, তাতে লেগে থাকে সবুজ পাহাড়, কোলজোড়া শুভ্র মেঘ, বালুকারাশি, সবুজ ঝাউবন, ফেনিল প্রমত্তা জলরাশি। কোলজুড়ে বর্ষার যৌবনবতী নাফ, ওপাড়ে মায়ানমারের পাহাড়, এপারের তীরজুড়ে ছোট ম্যানগ্রোভ বন, আরেক পাশে আমাদের তারুণ্যদীপ্ত সবুজ পাহাড়, শেষ মাথায় টেকনাফ সৈকত।

ঢেউগুলো বেশ বড়। যখন ভেসে আসে কিনারে সেটা ছড়িয়ে পড়ে অনেক দূরজুড়ে। ফেনা তোলে দুধের মতো। অস্ফুটে কেউ বলেও ফেলতে পারেন, দুধসাগর নাকি! শুভ্র রঙের পাখিগুলো জাহাজের চারপাশ ঘিরেই চলছে ভ্রমণকারীর পদপ্রদর্শকের মতো। এমন দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছে যায় সেই জলযান। হোটেলে উঠে দুপুরের খাবার শেষ করে হালকা বিশ্রাম নিল সবাই। এরপর সমুদ্র সৈকতের যাওয়া আর মনমাতানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে শুরু করে সবাই। সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারিকেল গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য। প্রকৃতি দু’হাত মেলে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এখানে। বালুকাময় সৈকত, প্রবালের প্রাচীর আর কেয়া গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে আলাদা এক বৈশিষ্ট্য যা আর কোথাও নেই। উত্তাল সাগরের নোনা জল যখন আছড়ে পড়ে কেয়া গাছের ফাঁকে, ঝিরি ঝিরি বাতাসে তৈরি হয় সফেদ ফেনা, সে এক মাতাল করা দৃশ্য। থেমে ছিল না বিচে সাইকেল চালানোর ইচ্ছেটাও।

সেন্টমার্টিনের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুর নামই ছেঁড়াদ্বীপ। জোয়ারের সময় পানি এসে এটিকে মূলদ্বীপ হতে বিচ্ছিন্ন করে বলেই এর নামকরণ করা হয়েছে ছেঁড়াদ্বীপ। গানের সুরে আর ইঞ্জিনের বিকট শব্দে পানির ঢেউয়ের তালে এগিয়ে চলছে ট্রলার। আশপাশে প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি স্নিগ্ধ সাগরে।

দিনটা ৭ ফেব্রুয়ারি। ফেরার পালা। ফেরার পথটা সবসময় দীর্ঘ হয়। হয়ত এটাই হওয়ার কথা হয়ত বা না! তবুও ফিরতে হয়, কারণ এটা যে ভ্রমণ! কেবল স্বল্প সময়ের আতিথেয়তা! তারপর ফেরার পথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এখানে এসে গা ভিজানোর লোভ কোনোভাবেই সামলানো গেল না। এখানে শিক্ষার্থীদের দেখার সুযোগ মিলল বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ফিস অ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। সেখান থেকে কেনাকাটা করে রাতের খাবার শেষে ফের চেনা গন্তব্যের পথ ধরা। আর ভালো কিছু স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে ফেরা প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ