ঢাকা, শনিবার 20 April 2019, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্রাইস্টচার্চে দুই বছরের ছেলেকে বাঁচাতে গুলির সামনে বুক পেতে দেন বাবা

জুলফিকার সিয়াহর পরিবার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার সময় বন্দুকধারীর গুলির সামনে দাঁড়িয়ে দুই বছরের ছেলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন বাবা।নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে সন্তানের প্রাণ বাঁচানোর এই চেষ্টা নাড়া দিয়েছে বিশ্ববিবেককে।

ওই ঘটনায় একাধিক বুলেটবিদ্ধ জুলফিকার সিয়াহর অবস্থা গুরুতর, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

সিয়াহর আমেরিকান স্ত্রী আল্টা মারি বলেছেন, তাদের ছেলে আভেরোস সামান্য আহত, সে সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে তার স্বামীর শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় গুলি লেগেছে।

এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “লিনউড ইসলামিক সেন্টারে হামলার সময় আমার স্বামী আমাদের ছেলেকে আড়াল করেছিলেন।এতে অধিকাংশ গুলি লাগে তার নিজের গায়ে এবং তিনি আমাদের ছেলের চেয়ে অনেক বেশি আহত হন।”

তাদের ছেলে ছোটখাট জখম থেকে সুস্থ হয়ে উঠছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তার উন্নতি দারুণ। স্বভাবজাত বেশি কথা বলা ও দুরন্তপনায় সে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কর্মীদের মাতিয়ে রাখছে।”

ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, মাত্র দুই মাস আাগে ইন্দোনেশিয়া থেকে নিউ জিল্যান্ডে যায় সিয়াহর পরিবার।

সিয়াহকে একজন ‘মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী আর্টিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই দম্পতির বন্ধু জোদি পুহাল্লা।

এই পরিবারকে সহায়তায় একটি ফান্ডরাইজিং পেইজ খোলা পুহাল্লা বলেন, শুক্রবার ওই হামলার পর রান্না করার সময় স্বামীর কাছ থেকে ফোন পান আল্টা মারি। তবে কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় ফোন পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন মসজিদে হামলায় স্বামী-সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার কথা।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

ওই হামলায় আহত আরও ৫০ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর বলে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে।

হামলায় হতাহতদের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ পাউন্ডের বেশি জমা হয়েছে বলে ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।

সূত্র: বিডিনিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ