ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 March 2019, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজপথজুড়ে বিক্ষোভ-অবরোধ

রাজধানীর বসন্ধুরায় (বিইউপি) এর শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে খুনি ঘাতক চালকের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ -সংগ্রাম

# শিক্ষার্থীদের এক গ্রুপের কর্মসূচি এক সপ্তাহ স্থগিত অন্যরা চালিয়ে যাবে
স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাফিক শৃংখলা সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে বাস চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত রাস্তায় নেমে দিনভর সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিনের বিক্ষোভ নদ্দায় প্রগতি সরণিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও গতকাল বুধবার সকাল থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন অংশে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে প্রগতি সরণির পাশাপাশি শাহবাগ মোড়, পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড় এবং ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সামনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় দিনের শুরুতেই। তার সাথে সাথে ফার্মগেইট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে শিক্ষার্তীরা ছোট গাড়ি চলাচল করতে দিলেও বাস চলতে বাধা দেয়।
আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নদ্দায় বসুন্ধরা গেইটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ। আগের দিন সকালে ঠিক ওই জায়গাতেই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার নিহত হন।
বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গতকাল বুধবার নদ্দার বিক্ষোভে যোগ দেন।‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’- এরকম নানা শ্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে প্রগতি সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ কালাচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এবং কুড়িলে যানবাহন ডাইভারশনের ব্যবস্থা করে। নদ্দায় বিক্ষোভস্থলের কাছে এবং কালাচাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। তবে কোনো গোলযোগ সেখানে ঘটেনি।
এদিকে বিইউপির শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্ররাও গতকাল বুধবার সকালে ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেইট মোট অবরোধের চেষ্টা করে। তবে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় সেখানে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়নি বলে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করে, যেমনটা গত বছর নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে দেখা গিয়েছিল। বেলা ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়েও একদল শিক্ষার্থী লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করলে এক পর্যায়ে তারা সড়কের সিটি কলেজ থেকে শাহবাগগামী অংশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর মিনিট পনের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী এসে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড় দিয়ে চার দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কাছাকাছি সময়ে বিক্ষোভ শুরু হয় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক এবং পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ে। ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রায় সাহেব বাজার মোড়ে অবস্থান নিলে সদরঘাট, নবাবপুর রোড, ধোলাই খাল, নয়াবাজারমুখী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
 সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র সানাউল্লাহ ফাহাদ বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জন করেছেন। “আমরা নিরাপদ সড়কের জন্য গতবছরও আন্দোলন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাইনি। আমাদের দাবি, সরকার সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী একটি আইন প্রণয়ন করবে।”

বিইউপি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি এক সপ্তাহ স্থগিত
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। টানা দুদিন ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে আসার পর গতকাল বুধবার বিকালে মেয়রের কার্যালয়ে এক বৈঠক থেকে কর্মসূচি স্থগিতের এই ঘোষণা আসে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি বিউইপির ছাত্র ফয়সাল এনায়েত বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আগামী ২৮ মার্চ বেলা ১১টায় তারা আবার মেয়রের কার্যালয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে দাবি পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। “অগ্রগতি দেখ যদি আমরা সন্তুষ্ট না হই, তাহলে আবার বিক্ষোভ শুরু হবে। দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে না। সারা দেশের সকল শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তবে সেটা ২৮ তারিখের পর।”
কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলটি প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেইটে শিক্ষার্থীদের অবস্থানে যান। ফয়সাল এনায়েত সেখানে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাতে আপত্তি তুলে অবস্থান চালিয়ে যেতে চাইলেও ঘণ্টাখানেক আলোচনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে ফিরে যায় এবং প্রগতি সরণির ওই অংশে দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
বসুন্ধরা গেইটের ওই জায়গাতেই মঙ্গলবার বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন।তার পরপরই সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বিইউপির শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

নদ্দায় দিনভর বিক্ষোভ
আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নদ্দায় বসুন্ধরা গেইটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ।
বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এদিন নদ্দার বিক্ষোভে যোগ দেন। ‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’- এরকম নানা শ্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে থাকেন তারা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে প্রগতি সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ কালাচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এবং কুড়িলে যানবাহন ডাইভারশনের ব্যবস্থা করে। নদ্দায় বিক্ষোভস্থলের কাছে এবং কালাচাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
 বেলা ১১টার দিকে বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. ইমদাদ-উল-বারি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে সেঙ্গ নিয়ে বসুন্ধরা গেইটে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তারা সেখানে আবরারের নামে একটি ফুটব্রিজের ভিত্তিফলকও উন্মোচন করেন, যা ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি।
সড়ক দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যুকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে মেয়র আতিকুল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মেয়র চলে যাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলতে থাকে। আন্দোলনকারীরা দুপুরে সেখানে আবরারের স্মরণে গায়েবানা জানাজায় অংশ নেয়।শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠকে বসে। পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও বৈঠকে অংশ নেন।
 বৈঠক শেষে বিউইপির আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি ফয়সাল এনায়েত ব্রিফিংয়ে বলেন, আবরার নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফুটব্রিজ, স্পিডব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এক মাসের মধ্যে তার দৃশ্যমাণ অগ্রগতি সাধন এবং সুপ্রভাত পরিবহনকে আর কখনও রুট পারমিট না দেওয়ার দাবি পূরণ করার প্রতিশ্রুতি তারা মেয়রের কাছ থেকে পেয়েছেন। এর ভিত্তিতে তারা অগ্রগতি দেখার জন্য সাত দিন সময় দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করছেন।

বিক্ষোভে অন্যরাও
বিইউপির শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়, তাঁতী বাজার, ধানমন্ডি ৩ নম্বর রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ড্যাফোডিল মোড়, মানিকমিয়া এভিনিউ, মিরপুর সনি সিনেমা হলের মোড়, নতুন বাজার, মহাখালি, উত্তরার রজউক ও হাউজবিল্ডিং এলাকায়।
 মেরুল বাড্ডা এবং রামপুরা টিভি স্টেশনের সামনে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি,আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ইমপেরিয়াল কলেজসহ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সরণিতে যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। বনশ্রী থেকেও কোনো যানবাহন বের হতে পারছিল না।
শিক্ষার্থীরা চালকের লাইসেন্স এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা করে ব্যাক্তিগত গাড়িগুলোকে বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সরণি থেকে হাতিরঝিলে ঢুকতে দিচ্ছিল। একইভাবে হাতিরঝিল থেকে বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম সরণিতে সীমিত সংখ্যক যানবাহন যেতে পারছিল। সারা দিন বিক্ষোভ করে বিকালে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে সরে গেলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
বিকাল ৩টার পর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম অংশ, শুক্রাবাদসহ আশপাশের এলাকায় সড়কে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরাও আজ বৃহস্পতিবার আবার আসার ঘোষণা দিয়ে চলে যায়।
এদিকে শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে আশপাশের সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা সেখানেও যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের কাগজ পরীক্ষা করে।দুপুরের পর ডাকসুর এজিএস ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন শাহবাগে এসে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান। পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবারও শাহবাগে আসার ঘোষণা দিয়ে রাস্তা ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের ৮ দফা দাবির বিষয়ে আজকে রাতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে কাল সকাল ১০টা থেকে আবার আমরা কর্মসূচি পালন করব। শিক্ষার্থীরা উঠে গেলে বিকাল ৪ দিকে শাহবাগ মোড় হয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের মধ্যে সড়কে গণপরিবহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। কেউ রিকশায়, কেউবা পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। দূরের গন্তব্যের জন্য অনেককে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটর সাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্থবির, চরম ভোগান্তি
দ্বিতীয় দিনেও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। বেশিরভাগ রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। প্রাইভেট যানবাহনও চলছে কম। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না করে তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। আর রাস্তায় ভোগান্তির মুখে পড়া মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কগুলো বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়তে হয়েছে গণপরিবহনকে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় বসে থাকা, গাড়ি না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেওয়া, বাইক থেকে নেমে পার্কিংয়ে বাইক রেখে হেঁটে অফিসে ঢোকার মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার কুড়িল, প্রগতি সরণি, শাহজাদপুর, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, গুলশান, বনানী, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা তাদের দাবি জানাতে রাস্তা বন্ধ করে দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন।
 ছেলেকে সকালে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় এ ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে ভাবেননি সায়েমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘স্কুল ছুটির পর আর বাসায় ফিরতে পারছি না। গলি দিয়ে কোনোমতে পৌঁছানো যায় কিনা, চেষ্টা করতে গিয়ে আরও বেশি সময় রাস্তায় বসে থাকতে হলো।’ প্রধান সড়ক এড়াতে গিয়ে সবাই এই ঝামেলায় পড়েছেন বলে জানান তিনি।
সকালে উত্তরা থেকে রওনা দিয়ে তিন ঘণ্টাতেও বিমানবন্দর সড়কে পার হতে পারেননি বোরহান। তিনি বলেন, ‘আমি এরপরও এই আন্দোলনের পক্ষে। ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের সবারই, কিন্তু আজকে যদি কোনও সমাধানের দিকে না যান, তাহলে কালকে আপনার আপনজনও নিহত হতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘যারা দাবি করছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
মিরপুর রোডের পুরোটাই গাড়িতে ঠাসাঠাসি। এখানে তিন জায়গায় রাস্তা আটকেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। যানবাহন কম থাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কর্মব্যস্ত মানুষকে। সকালে পুরান ঢাকার রায় সাহেব ও বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এসময় তারা বেশ কয়েকটি পরিবহনের কাগজপত্রও চেক করেছেন।
সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থানরাজিব উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিরাপদ সড়ক। কিন্তু সরকার এখনও আমাদেরকে নিরাপদ সড়ক উপহার দিতে পারেনি। পরিবহন চালকদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের কারণেই আজকে সড়ক নরকে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এসব পরিবহনের কাগজপত্রের দিকে নজর দেয় না, সেজন্যই আমরা দেখছি।’

গণপরিবহন কম
পরিবহন মালিকদের দাবি, তারা শঙ্কায় থাকার কারণেই রাস্তায় পরিবহন কম নামিয়েছেন। তাছাড়া, গাড়ির কাগজপত্রও পরীক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরকে।
একদিকে অবরোধ, অন্যদিকে যানজটজানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার বলেন, ‘আসলে আন্দোলনের সময় অনেক পরিবহন ভাঙচুর হয়। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে বসে থাকতে হয়। সেকারণে পরিবহন কিছুটা কম নেমেছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ