ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 March 2019, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাসীন আ’লীগ পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে কেরানীগঞ্জ বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে অভিযোগ করে বর্তমান বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার পুরান ঢাকায় বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে আসা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের গুরুতর অবণতির অবস্থা স্বচক্ষে দেখে আসার পর দুপুরে এক প্রতীক অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। 
তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) আমি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বুঝাতে পারবো না- আমি এই বেগম খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি। তিনি এতোটা অসুস্থ যে, উনি মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রনা-ব্যথা, তিনি কোনো কিছু খেতে পারছিলেন না এবং কিছু খেলে সেটা থাকছে না। তাকে (খালেদা জিয়া) সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী কেরানীগঞ্জ(দক্ষিণ) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই গণ-অনশন পালিত হয়। সকাল ১১টা থেকে ৫ ঘন্টার এই অনশন সমাপ্তি টানেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
 কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে কোন রাষ্ট্র, কোন সমাজ তৈরি করেছে এরা (বর্তমান সরকার)। যেখানে কোনো বিচার নেই, ইনসাফ নেই্। কোথাও বিচার পাবেন না। বিচার বলতে সব উঠে গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের যে, সর্বোচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত আজকে তথাকথিত দখলদার সরকারের নির্দেশে চলা-ফেরা করে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারাদেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই মামলায় সব আসামীদের জামিন পেলেও দেশনেত্রীর জামিন হয় না। তাই আজকে আর বসে থাকবার সুযোগ নেই। এই গণ-অনশন ছোট কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়েই আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলায়, প্রতি জেলায় জেলায় বিএনপিসহ সমস্ত অঙ্গসংগঠনকে এই অনশনকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি মাত্র কারণ বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে সুস্থ থাকলে, বাইরে থাকলে তিনি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবার জন্যে, মানুষের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে আনবার জন্যে, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবার জন্যে যে নেতৃত্ব দিতেন, সেই নেতৃত্বকে তারা (ক্ষমতাসীন) ভয় পায়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় অন্যান্য আসামীদের জামিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একই মামলায় সব আসামীদের জামিন পেলেও দেশনেত্রীর জামিন হয় না। তাই আজকে আর বসে থাকবার সুযোগ নেই। এই গণ-অনশন ছোট কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, বড় আন্দোলন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আপনারা (সরকার) মানুষের মধ্যে নেই। আপনারা দেউলিয়া হয়ে গেছেন। সেকারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে, বন্দুর পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়ে, হাজার হাজার মিথ্যা-গায়েবী মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আপনাদের ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এভাবে ক্ষমতায় কোনোদিন টিকে থাকতে পারবেন না। সময় আছে এখনো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন যিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবেন, আপনাদেরকেও রক্ষা করতে পারবেন। অন্যথায় এদেশের মানুষ অতীতে যেভাবে উঠেছিলো, সেভাবে জেগে উঠলে আপনারা সময় পাবেন না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা ছোট-খাটো সংগ্রাম বা লড়াই নয়। এই লড়াইটা হচ্ছে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই, জাতি হিসেবে অস্তিত্বের লড়াই। অনেকে বলেন যে, বিএনপির দু:সময়ের সংকট। না । এই সংকট সমগ্র জাতির। আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধবংস করে দিয়েছে আমরা জাতি হিসেবে যেসব অর্জন করেছিলাম। আমরা অর্জন করেছিলাম আমাদের অধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাস করবো, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বাস করবো, আমি কথা বলার সুযোগ পাবো, লেখবার সুযোগ পাবো। আজকে সমস্ত অধিকারগুলো কেড়ে নেয়া হয়েছে।
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আজকে আবার সমগ্র দেশের মানুষকে, আমাদের সমস্ত নেতা-কর্মী, ভুক্তভোগীদের আহবান জানাতে চাই, আসুন আমরা দলমত নির্বিশেষ ঐক্যবদ্ধ হই, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বুকের ওপর বসে আছে, তাকে সরিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি, দেশনেত্রীকে মুক্ত করি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করি।
সর্বত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে কোন রাষ্ট্র, কোন সমাজ তৈরি করেছে এরা (বর্তমান সরকার)। যেখানে কোনো বিচার নেই, ইনসাফ নেই। যেখানে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। আমি কিছুক্ষণ আগে ঢাকা কোর্টে ছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী হাজিরা দিতে অথবা জামিনের জন্য গেছেন। তাদের মধ্যে একজন বলছিলেন, কোথায় কোথায় কত টাকা দিতে হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এমনকি জেলখানায় গিয়েও রক্ষা নেই। সেখানে ওয়ার্ডে থাকতে হলে ৪০০/৫০০ করে টাকা দিতে হয়, ভালো খাবার খেতে হলেও তাকে সেখানে টাকা দিতে হয়। কোথাও নিস্তার নেই। প্রতি জায়গায় দুর্নীতি দুর্নীতি দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে।
সরকারের সমালোচনা করে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান ভীত সন্তস্ত্র। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখাটাই একমাত্র তার কাজ নয়, তিনি কখন খবর পাবেন গণভবনে বসে খালেদা জিয়ার জীবনাবসন ঘটেছে, সেইদিন হয়ত স্বস্তি পাবেন, শান্তি পাবেন। সেই কারনেই আমার মনে হয়, সরকার পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খুব সুস্থ মাথায়, স্থির মাথায় তাকে হত্যার করার জন্য আজকে যে নীলনকশা, ওই নীলনকশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ আমাদের করতে হবে এবং তাদের এই ষড়যন্ত্র ধবংস না করা পর্যন্ত খালেদা জিয়া শুধু নয়, বাংলাদেশের মানুষের কারো জীবন  নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য়। এই অনিবার্য় কাজটি আমাদের যেকেনো সংকট মোকাবিলা করে করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় আমরা যেসব খবর পাচ্ছি, তিনি শুধু অসুস্থই নয়, উনার জীবন সংকটাপন্ন। তারপরও আদালত তাকে ছাড়ছে না। অর্ধমৃত দেহ নিয়ে আদালতে তাকে হাজিরা দিতে হয় এবং আদালত তার প্রতি ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারছে না। এজন্য নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ