ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 March 2019, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুপ্রভাতের চালক সাত দিনের রিমান্ড

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার প্রগতি সরণিতে বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেছেন তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার  মোস্তফা আহমেদ জানান, গত মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা এ মামলায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলাম, চালকের সহকারী, বাসের কন্ডাকটর ও মালিককে আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদ্দার বসুন্ধরা  গেইটে প্রগতি সরণিতে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নম্বরের ওই বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার। দুর্ঘটনার পর বিইউপির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দিনভর বিক্ষোভ করে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের ওই বিক্ষোভে পরে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও  যোগ  দেয়। গতকাল বুধবার সকালে বিইউপির শিক্ষার্থীরা আবারও প্রগতি সরণি অবরোধ করলে  সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন অংশে।
আবরারের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত  সেনা কর্মকর্তা। তাদের বাসা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি ব্লকে। ইংরেজি মাধ্যমে 'এ' লেভেল  শেষ করে গত বছর বিইউপিতে ভর্তি হয়েছিলেন আবরার। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়। মঙ্গলবার বিকালেই তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
চালক সাত দিনের রিমান্ডে
আবরার  চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায়  গ্রেপ্তার সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের ঘাতক চালক সিরাজুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
এর আগে গুলশান থানা-পুলিশ আসামী বাসচালক সিরাজুলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামী সিরাজুল তাঁর চালানো বাসের চাপায় আবরার নিহত হন বলে স্বীকার করেছেন। চালকের সহকারীর নাম আসামী প্রকাশ করেননি। তবে বাসমালিকের নাম বলেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। আদালত শুনানি নিয়ে আসামী সিরাজুলের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
চালক সিরাজুলের রিমান্ড বাতিল  চেয়ে জামিন আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। মামলাটি তদন্ত করছেন গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
নারী পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর সময় আবরারকে চাপা দেয় সুপ্রভাত : এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর সময় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার দায়ের করা মামলার এজাহারেও পথচারীকে চাপা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুপ্রভাতের বাসটি শাহজাদপুরের বাঁশতলা এলাকায় সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে (২০) ধাক্কা দেয়। এরপর দ্রুতগতিতে পালানোর সময় বসুন্ধরা আবাসিক গেটের কাছে আবরারকে চাপা দেয়। ওই পথচারী কোথায় আছেন সে বিষয়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পর্যন্ত জানাতে পারেনি পুলিশ।
গুলশান থানার পুলিশ সূত্র জানায়, শাহজাদপুর থেকে লোকজন আহত ওই পথচারীর কথা ও বাসের নম্বর পুলিশকে জানায়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাসচালক সিরাজুল ইসলামও জিজ্ঞাসাবাদে নারী পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পথচারীকে অন্যরা হাসপাতালে পাঠালে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা এখন কোথায় আছেন সেটিও জানা যায়নি।
গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাঁশতলায় ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে চালক বসুন্ধরা গেটে এসে আবরারকে চাপা দেয়। তবে বাঁশতলায় আহত হওয়া নারী কোনো হাসপাতালে ভর্তি না চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ক্লাস ছিল আবরারের। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তিনি। ক্লাসে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিইউপির বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ