ঢাকা, শনিবার 23 March 2019, ৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পানি দিয়ে চালানো যাবে গাড়ি

খনিজ জ্বালানি তথা পেট্রোল, ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দরকার নেই গাড়ি চালাতে। পানির সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মিশিয়ে চমৎকার চলবে গাড়ি। এমনই এক গাড়ি বানিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ বাঁধিয়ে ফেলেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের রইস মুহাম্মাদ মাকরানি। উল্লেখ্য, পানি আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড একসঙ্গে মেশালে এসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়। পেট্রোল, ডিজেল ও বিদ্যুতের দরকার হবে না। এতেই দিব্যি চলবে রইসের উদ্ভাবিত গাড়ি। এতে জ্বালানি খরচ যেমন কম হবে, তেমনই তা হবে পরিবেশবান্ধবও। মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পাস রইস মুহাম্মাদ যে অসাধ্য সাধন করেছেন তাতে অনেক মানুষ উপকৃত হবেন। গাড়ির জৈবজ্বালানি পোড়া কার্বনে পরিবেশে যে প্রাণবিনাশী দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে তা থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে। তাই ধন্যবাদ রইস মুহাম্মাদকে।
উল্লেখ্য, পানি দিয়ে গাড়ি চালাবার সূত্র এর আগে বাংলাদেশের একাধিক তরুণ আবিষ্কার করেন। তাঁদের আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের দেখানও। এ নিয়ে মিডিয়ায় সচিত্র খবরও বেরিয়েছিল। কিন্তু কেন জানি তাঁরা হারিয়ে গেছেন। কোনও সহযোগিতাও হয়তো তাঁরা পাননি পানি দিয়ে যানবাহন চালানোর ফর্মুলা কাজে লাগাবার ব্যাপারে। এমনই ভাবে জগদীশচন্দ্র বসুর প্রথম আবিষ্কৃত বেতারযন্ত্রের ফর্মুলাও ইতালির মারকোনি হাতিয়ে নেন। তাও ভালো যে, উদ্ভিদের জীবন আবিষ্কারের সূত্র জগদীশের হাতছাড়া হয়নি। কথা হচ্ছে, সূত্র আবিষ্কার এবং তার বাস্তবায়নের মধ্যে ঢের ফারাক। অনেক অর্থকড়ির ব্যাপার থাকে। প্যাটেন্টের স্বত্ত্ব নিয়েও যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার কাছে দৌড়ঝাঁপ দিতে হয়। এজন্য প্রয়োজন পড়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার। এছাড়া আবিষ্কৃত সূত্র ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। হাতছাড়া হয়ে যায়। ভারতের রইস মুহাম্মাদ হয়তো সব বাধা অতিক্রমে সফল হবেন। এরপরও জাতিগত প্রতিহিংসার শিকার হবার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
বলাবাহুল্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে। বলতে গেলে এমন দেশসমূহের ইচ্ছেমতোই বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘোরে। পানি দিয়ে কেউ যানবাহন চালাক তা কি সেসব দেশ সহজে চাইবে? মনে হয় না। তাই রইস মুহাম্মাদের পানি দিয়ে গাড়ি চালাবার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা একদম জলবৎতরলং হবে এমন মনে করবার কোনও কারণ নেই। তবু আমরা যানবাহন চালাতে কম ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁঁচবার স্বার্থে রইস মুহাম্মাদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ