ঢাকা, রোববার 24 March 2019, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ১৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হৃদয় ভেঙেছে কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি...

১৫ মার্চ শুক্রবার, এক সপ্তাহ আগের এই দিনটি ছিল নিউজিল্যান্ডবাসীসহ বিশ্ববাসীর জন্য এক ঘোরতর অন্ধকার দিন। এক সপ্তাহ পর সেই শুক্রবার দিনটিই আবার সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরর্ডান এবং দেশটির শান্তিপ্রিয় জনগণ। ১৫ মার্চ পবিত্র জুমার নামাযের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ৫০ জন মুসল্লি। তাদের মধ্যে ২৬ জনকে দাফন করা হয়েছে ২২ মার্চ শুক্রবার। শোকাবহ সেই ঘটনার স্মরণে ২২ মার্চ আল নূর মসজিদকে ঘিরে সমবেত হয়েছিলেন পাঁচ হাজার মুসলিম: অন্যরা নানা ধর্মের, জাতের ও বর্ণের। দেশজুড়ে ওড়নায় মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানান বিভিন্ন ধর্মের নারীরা। হতাহতদের জন্য শোক-সমবেদনা আর সম্মান জানিয়ে পালন করা হয় দুই মিনিটের নীরবতা। আর সবকিছু ছাপিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের ঘোষণায়, ‘নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা অভিন্ন।’
২২ মার্চ শুক্রবারের জুমার নামাযকে সামনে রেখে আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেই নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ আলনূর মসজিদকে নামাযের জন্য প্রস্তুত করে। আলনূর মসজিদের সামনে জুমার নামাযের আগে প্রায় ২০ মিনিট বক্তৃতা করেন ইমাম গামাল ফাওদা। তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছে। আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। কাউকে আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না।’ আর মুসলিমদের প্রতি সংহতির যে দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন স্থাপন করেছেন, তার প্রশংসা করে ইমাম বলেন, ‘এটি বিশ্ব নেতাদের জন্য একটি শিক্ষা।’
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং সাধারণ মানুষ মুসলমানদের প্রতি যে সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন তা আসলেই বিশ্বনেতাদের জন্য শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মসজিদে হামলাকারী সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট এখন রিমান্ডে আছেন। আর ঘটনার পর দেশটিতে সব ধরনের আধাস্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সভ্যতার যারা শাসক তাদের অনেকের আচরণই ন্যায়ভিত্তিক কিংবা মানবিক নয়। তাদের দাম্ভিক ও আগ্রাসী আচরণ বর্তমান সভ্যতা সম্পর্কে মানুষের মনে সৃষ্টি করেছে সংশয় ও হতাশা। ওইসব নেতাদের ভুল বার্তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন-এর বক্তব্য ও আচরণকে আমরা ইতিবাচক ও ব্যতিক্রম বলে মনে করি। বিশ^নেতারা এ পথের অভিযাত্রী হলেই পৃথিবীর মঙ্গল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ