ঢাকা, রোববার 24 March 2019, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ১৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুসলমানদের প্রতি বিরল শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে জানাই সালাম

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এখন শুধুমাত্র মুসলিম জাহানেই নয়, পশ্চিমা বিশ্বেও একটি হাউজ হোল্ড নাম। গত ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দুইটি মসজিদে প্রচণ্ড ইসলামবিদ্বেষী ব্রেনটন ট্যারান্ট ঠান্ডা মাথায় গুলি করে ৫০ জন মুসলমান খুন করার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন সেটি সারা বিশ্বের অকুন্ঠ সমর্থন ও প্রশংসা লাভ করেছে। এই ধরনের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসাবে আঘাত পাল্টা আঘাত আসে। কিন্তু এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন যেভাবে মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং মুসলমানদের সাথে একাত্ম হয়ে গেছেন তার ফলে শুধু মুসলমানরাই নয়, সমগ্র বিশ্বের মানুষ, যারা ইসলামবিদ্বেষী নয়, তারা অভিভূত হয়ে পড়েছেন। মাত্র ৫০ লাখ লোকের দেশ নিউজিল্যান্ডের  মাত্র ১ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার মুসলমানকে যেভাবে ভাইয়ের মতো তিনি আলিঙ্গন করেছেন সেটা দেখে ৩৩ কোটি মানুষের দেশ, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরিকার মুসলিমবিদ্বেষীরা ছাড়া অন্যেরা বিপন্ন বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন এবং শ্রদ্ধায় জেসিন্ডা আর্ডেনকে ভরিয়ে দিয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধার সরব বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আমেরিকা তথা পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে। পত্রিকাটি সম্প্রতি এ বিষয়ে যে সম্পাদকীয় নিবন্ধ ছেপেছে তার শিরোনাম হলো, ‘জেসিন্ডা আর্ডেনের মতো নেতা দরকার আমেরিকার’।
তারা প্রশ্ন তুলেছেন, নিউজিল্যান্ড একজন জেসিন্ডা পেলে আমেরিকা কেন পাবে না।
সম্পাদকীয়তে আরও লেখা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কিভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘৃণা, সহিংসতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হয় তা নিউজিল্যান্ডে এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করল। তবে এই ঘটনার পর যেভাবে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন দেশটির প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে প্রকাশ্যে এলেন তাও অন্যদের জন্য অনুসরণীয়।
সেদিনের হত্যাকান্ডের পরপরই জেসিন্ডা তার দেশের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঘোষণা দেন যে, তিনি শিগগিরই সামরিক ধাঁচের অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবেন। এই ধরনের অস্ত্রের কারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে অনেক লোক হতাহত হয়েছে। সর্বশেষ শিকার নিউজিল্যান্ডের মসজিদে নামাজরত মুসল্লিরা। জেসিন্ডা তার কথা রেখেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি সামরিক ধাঁচের স্বয়ংক্রিয় এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। অর্থাৎ এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামরিক বাহিনী ছাড়া কারো হাতে এ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র দেখলেই তাকে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা হবে।
গত সপ্তাহে জেসিন্ডা পার্লামেন্টে আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে যেন ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা না চালানো হয়। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারী এই পৈশাচিক হত্যাকান্ড ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। জেসিন্ডা বলেছেন, এ ধরনের সামাজিক প্ল্যাটফরম কেবল লাভের আশায় চালু রাখা অযৌক্তিক। কেউ খারাপ কাজে তা ব্যবহার করলে তার দায় এরাও এড়াতে পারে না। তবে খুনি যে মতবাদ প্রচার করার জন্য এত কষ্ট করল তাতে লাভ তো হয়নি, উল্টো তার সমমনারা তীব্র ঘৃণার পাত্র হিসেবে আস্তাকুঁড়ে স্থান করে নিয়েছে।
জেসিন্ডার এসব বক্তব্য একজন যোগ্য ও পরিপক্ব রাষ্ট্র নেতার পরিচয় বহন করে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়। পরে নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’ নিউইয়র্ক টাইমসের এই সম্পাদকীয় প্রকাশের বিষয়টি তাদের রিপোর্টে তুলে ধরে। মার্কিন পত্রিকাটি কিভাবে জেসিন্ডার মতো একজন নেতা পাওয়ার জন্য তীব্র আকুতি জানিয়েছে সেটাও পত্রিকাটি গুরুত্ব  সহকারে উল্লেখ করে।
পশ্চিম গোলার্ধের সুদূর আমেরিকা থেকে পূর্ব গোলার্ধের বাংলাদেশও বিশে^র এই কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীর জয়ধ্বনিতে সোচ্চার। বাংলাদেশের প্রাচীনতম দৈনিকটিতে বলা হয়েছে,‘ গত সপ্তাহে জুমার নামাজ চলাকালে নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীর হাতে সংঘটিত পৈশাচিক হত্যাকান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন বিশ্ববাসীর কাছে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে হাজির হয়েছেন। হামলার পর তিনি যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন এবং সামলাচ্ছেন তাতে নিহতদের স্বজনদের যন্ত্রণা অনেকখানি লাঘব হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, একটি দেশে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী থাকা সেই দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
॥দুই॥
জেসিন্ডা আর্ডেন একজন খ্রিষ্টান। কিন্তু তিনি এই হামলায় নিহতদের পরিবারের অনেকের সাথেই ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন। দেখা করার সময় শোকসন্তপ্তদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিদর্শনস্বরূপ মাথায় কাপড় দিয়েছেন বা নেকাব পরেছেন। নিউজিল্যান্ডে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই হত্যাকান্ড সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে সংসদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়েছে এবং তার তরজমা করা হয়েছে। যতক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং তার তরজমা করা হয় ততক্ষণ তাদের জাতীয় সংসদের প্রত্যেক এমপি দন্ডায়ামান ছিলেন এবং মাথা নীচু করে ছিলেন। তখন সেখানে বিরাজ করছিল পিনপতন স্তব্ধতা। নিউজিল্যান্ড পার্লামেন্টে এ সম্পর্কে আলোচনার প্রারম্ভে  প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন যে ভাষণ দেন তার শুরুতে তিনি পার্লামেন্ট সদস্যগণকে এবং সেই সাথে দেশবাসীকে সম্বোধন করেন মুসলমানদের চিরাচরিত সম্বোধন দিয়ে। অর্থাৎ তিনি বক্তৃতার শুরুতে সকলকে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম”। তিনি  ঘোষণা করেন যে, নিহতদের লাশ তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হলে সেই লাশ পাঠানোর খরচ নিউজিল্যান্ড সরকার বহন করবে। প্রধানমন্ত্রী আর্ডেন ঘাতকের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে বলেছেন, “ওর নাম আমি মুখে আনবো না।
আর কেউ যেন তার নাম উচ্চারণ না করে।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে, হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।
দেশটির ইংরেজি দৈনিক ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে’ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, স্বাভাবিকভাবে যেকোনো প্রাণঘাতী নৃশংসতার পর দেশে এক মিনিটের নীরবতা পালনের রেওয়াজ থাকলেও এবার ক্রাইস্টচার্চ হামলার ভয়াবহতার কারণে দুই মিনিটের নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপর একটি খবরে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের মানুষ মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের নিদর্শন হিসাবে একই দিন অর্থাৎ ২২ মার্চ শুক্রবার দিনটিকে ‘জাতীয় স্কার্ফ দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিউজিল্যান্ডের সকল নারী দিনটিতে স্কার্ফ দিয়ে তাদের মাথা আবৃত রাখবেন।
ফেসবুক পেইজ ‘স্কার্ফস ইন সলিডারিটি’তে আহ্বান জানানো হয়, ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার ভুক্তভোগী ও মুসলিম নারীদের প্রতি আপনারা সমর্থন প্রকাশ করুন। চলুন আগামী শুক্রবার আমরা সকলে স্কার্ফ পরি যেন আমরা প্রকাশ করতে পারি যে সন্ত্রাসের সামনে আমরা মাথা নত করবো না এবং আমরা আমাদের মুসলিম বোনদের থেকে আলাদা নই। এটি হবে একটি শক্তিশালী সংকেত যে আমরা হিংসাকে বর্জন করার বিষয়ে কতখানি আন্তরিক।
আপনার বন্ধু, বোন, সহকর্মী, খেলার ক্লাব, স্কুল ও গির্জার পরিচিত সকল নারীর সঙ্গে এক হয়ে স্কার্ফ পরিহিত অন্তত একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করুন। আমরা সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিতে চাই “আমরা এক”।’
॥তিন॥
৫০ লক্ষ লোকের দেশ নিউজিল্যান্ড। তার মাত্র ১ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার মানুষ মুসলমান। এই ৫০ হাজারের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার মুসলমানের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩৬ বা ৩৭ হাজার মুসলমান আমার আপনার মতই, যারা লেখাপড়া বা চাকরি বাকরি বা জীবিকার সন্ধানে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব আইন মোতাবেক সে দেশের নাগরিক হয়েছেন।
হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় ১৫ মার্চ শুক্রবার। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২২ মার্চ শুক্রবার সমগ্র বিশ্বের মতো নিউজিল্যান্ডেও ছিল জুমা বার, অর্থাৎ শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন নির্দেশ দেন যে শুক্রবারের জুমার আযান নিউজিল্যান্ডের সমস্ত রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করতে হবে। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার যে জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সেটিই টেলিভিশনের মাধ্যমে অবাক বিস্ময়ে মানুষ প্রত্যক্ষ করে। আল নূর মসজিদের সামনে হ্যাগলি পার্কে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগ দেন দেশটির প্রধান মন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। সে সময় তার মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢাকা ছিলো। তিনি বলেন, ‘ আপনাদের সঙ্গে পুরো নিউজিল্যান্ডই ব্যথিত। আমরা সবাই এক।’ তিনি বলেন, “মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, ‘বিশ্ববাসী পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতি দিয়ে একটি শরীরের মতো থাকবেন। যখন শরীরের কোনো অঙ্গে ব্যথা হয় তখন পুরো শরীরে ব্যথা হয়।”
আজানের মাত্র দু’মিনিট আগে হ্যাগলি পার্কের নামাজ স্থলে এসে হাজির হন নিউজিল্যান্ডের মানবদরদী মাথায় স্কার্ফ পরা প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। তিনি গত বুধবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমকে জুমা নামাজ সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশ দেন।
শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডেই নয়, আমেরিকার বুদ্ধিজীবী সমাজকেও প্রভাবিত করেছে ক্রাইস্টচার্চের পাশবিক হামলা। আমেরিকার ‘টাইম’ ম্যাগাজিন শুধুমাত্র আমেরিকাতেই নয়, সারা বিশ্বে এই পত্রিকাটি বিপুলভাবে সমাদৃত। পৃথিবীতে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন হিসাবে গণ্য। টাইম ম্যাগাজিনের সর্বশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে নিউজিল্যান্ডে নিহত ৫০ মুসলমানকে ৫০টি তারা হিসাবে দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে যে, মারা যাওয়ার পরেও তারা আকাশে উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলবেন। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন, তাদের জাতীয় সংসদ এবং সংসদের সব দল ও ধর্মমত নিবিশেষে সমস্ত নিউজিল্যান্ডবাসী যে সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন সেটি তাদের উন্নত সভ্যতার পরিচয় বহন করে। তাদের সকলের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম। হ্যাটস অফ টু জেসিন্ডা আর্ডেন এ্যান্ড হার পিপল।
বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। সেই দেশে কি এখন আমরা পবিত্র ইসলামের প্রতি অনুরূপ শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখতে পাই? উল্টো মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক প্রভৃতি পরিভাষা ব্যবহার করে আমাদের ধর্মকে অসম্মানিত করা হয় এবং সেটিকে মুক্তকন্ঠ ও প্রগতিবাদের অভিধায় ভূষিত করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।
নিউজিল্যান্ডে অর্ধশত মুসলমানকে ঐ খ্রিষ্টান সন্ত্রাসী ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার পর সে দেশের সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন ইসলাম এবং মুসলমানদের প্রতি যে সম্মান দেখাচ্ছেন সেটি বাংলাদেশের আওয়ামী সরকারের এবং তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তাদের জন্য শিক্ষণীয় এবং অনুকরণীয় হওয়া উচিত।
Email:asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ