ঢাকা, শনিবার 20 April 2019, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সঙ্গীত শিল্পী শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ আর নেই

বরেণ্য সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

চিরতরে সকল মায়ার বন্ধন ছিঁড়ে পরপারে পাড়ি জমালেন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ।শনিবার রাতে বারিধারায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন নৃত্যশিল্পী ডলি ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন, বারিধারায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় শাহনাজ রহমত উল্লাহ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমত উল্লাহ ব্যবসায়ী, মেয়ে নাহিদ রহমত উল্লাহ থাকেন লন্ডনে আর ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমত উল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে এখন কানাডায় থাকেন।

মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, আজ রোববার বাদ জোহর বারিধারার নয় নম্বর রোডের পার্ক মসজিদে শাহনাজ রহমত উল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর বনানীতে সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বারিধারার বাসায় ভিড় করেন শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু মানুষ।

অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ খ্যাতি পেতে শুরু করেছিলেন ষাটের দশকে শিশু বয়সেই।

১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী মেধা, পরিশ্রম, আর কিছুটা ব্যতিক্রমী এবং পরিণত কণ্ঠের কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তাঁর গাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘কে যেন সোনার কাঠি’, ‘মানিক সে তো মানিক নয়’, ‘যদি চোখের দৃষ্টি’, ‘সাগরের তীর থেকে’, ‘খোলা জানালা’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি’, ‘আরও কিছু দাও না’, ‘একটি কুসুম তুলে নিয়েছি’—এ রকম অসংখ্য গান দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অগণিত শ্রোতার মন জয় করেছেন।

১৯৬৩ সালে ‘নতুন সুর’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন শাহনাজ রহমত উল্লাহ। গানের জগতে ৫০ বছরে শাহনাজ রহমত উল্লাহর চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি ছিল প্রণব ঘোষের সুরে ‘বারটি বছর পরে’, তারপর প্রকাশিত হয় আলাউদ্দীন আলীর সুরে ‘শুধু কি আমার ভুল’।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মূহুর্তে শাহনাজ রহমত উল্লাহর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিলো জয় বাংলা - বাংলার জয় গানটি।

বিবিসির শ্রোতাদের ভোটে মনোনীত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকাতেও ঠাঁই পেয়েছিলো তার তিনটি গান।

তবে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা এবং শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহর গাওয়া গান প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের দলীয় সংগীত হিসেবে বেছে নিলে কিছুটা বিতর্কের মধ্যেও পড়ে যান তিনি।

শাহনাজ রহমত উল্লাহকে ১৯৯২ সালে একুশে পদক দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনে আজীবন সম্মাননা, ২০১৩ সালে সিটি ব্যাংক থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাঁকে। এ ছাড়া গান গেয়ে আরও অসংখ্য পুরস্কার আর সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তির পর গান থেকে বিদায় নেন তিনি।এ সময় থেকে ধর্মপরায়ণ জীবন বেছে নেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘ওমরাহ করে আসার পর আর গান করতে ইচ্ছা করেনি। আমি নামাজ পড়া শুরু করেছি। নামাজ পড়েই সময় কাটছে। পঞ্চাশ বছরের ওপরে গান গেয়েছি, আর কত গাইব?’

সুরকার আনোয়ার পারভেজ ও মরহুম চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল শিল্পী শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ'র ভাই।

 ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ