ঢাকা, সোমবার 16 September 2019, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

তৃতীয় ধাপেও ভোটারদের অনাগ্রহ

বরিশালের একটি কেন্দ্রের চিত্র (সকাল ১০টার দিকে)

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আজ রোববার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। 

আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার নির্বাচন স্থগিত স্থগিত হওয়ায় বাকি ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। তবে গত দুই পর্বের  মতো তৃতীয় পর্বেও ভোটার উপস্থিতি কম। নির্বাচন কমিশন বহু চেষ্টা করেও ভোটারদের আগ্রহী করে তুলতে পারছে না।

গত জাতীয় নির্বাচনে আগের রাতে সিল মেরে ভোটের বাকসো ভরে রাখার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ভোটের প্রতি ভোটারদের অনাগ্রহ শুরু হয়। রাতের আাঁধারে ভোট ডাকাতির অভিযোগে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ঐ নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি এই সরকার এবং এই নির্বাচন কমিশনের অধীন সকল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়া।ফলে ঢাকা সিটি নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচন একতরফা বা একদলীয়ভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসব কারণে সিটি নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহ দেখা দেয়। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যে উত্তাপ থাকার কথা সেটা আর দেখা যাচ্ছে না।

মূলত এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াই হচ্ছে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রার্থী হওয়ায় তাদের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ বলা হচ্ছে।ফলে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের বড় কোনো অভিযোগ নেই।

গত ১০ ও ১৮ মার্চ দুই দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলায় নির্বাচিত হয়েছেন। দুই ধাপের নির্বাচন অনেকটা সুষ্ঠু হলেও ১৮ মার্চের নির্বাচনে খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়িতে কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে ভোটের দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তদের হামলায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ সাতজন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকেই। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

রবিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে এ ঘটনায় এএসপি ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি হয়েছে। এতে এক পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জানাচ্ছেন, কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও অনেক কেন্দ্রে ভোটারের তেমন উপস্থিতি নেই।

তারা জানান, কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই হতাশাজনক। কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ বসে বসে গল্পগুজব করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি থাকলেও তারাও নিরুত্তাপ ভোটে অলস ভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ