ঢাকা, সোমবার 25 March 2019, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিউজিল্যান্ডে পদযাত্রায় মানুষের ঢল ॥ ছড়ালেন ভালোবাসার বার্তা

সংগ্রাম ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারীর গুলীতে ৫০ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর দেশটির অকল্যান্ড ও ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কে পদযাত্রা করেছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। জাতি-বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ও মুসলিমদের প্রতি সমর্থন জানানোর উদ্দেশে রোববার এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশটিতে বসবাসরত মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে রোববারের এই পদযাত্রার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ভালোবাসো, ঘৃণা নয়। হাজারো মানুষের মিলিত কণ্ঠে শোনা যায় এই স্লোগান। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে না তারা।
একজন বলেন, আমরা বর্ণবাদী। আমাদের পরিবর্তন হওয়া উচিত। অপর একজন বলেন, আমার জন্য চলাফেরা করা খুবই কঠিন। তারপরও আমি এখানে এসেছি। কারণ নিউজিল্যান্ড এত বিপজ্জনক নয়।
একজন অভিবাসী বলেন, মসজিদে হামলার ঘটনায় তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করেন। কারণ আমিও গুলীবিদ্ধ হতে পারতাম। বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে অকল্যান্ডে এই পদযাত্রায় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
পদযাত্রার আয়োজক আনু কালোটি বলেন, আসলেই আমি খারাপ অনুভব করছি। ওই হামলা ৫০টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। দেশের মানুষকে জেগে ওঠা প্রয়োজন। বর্ণবাদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের আরো কিছু কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর দেশটির মুসলিমদের অনেকেই নিজেদের অসহায় হিসেবে ভাবছেন। এই মুসলিমদের প্রতি সমর্থন ও সমানুভূতি জানাতেই রাস্তায় নেমে এসেছে অকল্যান্ডের মানুষ। তরুণ এক অংশগ্রহণকারী বলেন, আমি বিশ্বকে দেখাতে চাই যে, মানুষকে গুলী করে হত্যা করা ঠিক নয়।
গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্টের বন্দুক হামলায় ৫০ মুসল্লির প্রাণহানি ঘটে। এর পর থেকেই মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে অভয় দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী-সহ বিশ্বের অন্যতম শান্তিপ্রিয় হাজারো মানুষ।
৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি চার বছর বয়সী আলিনের
এরই মধ্যে ৮টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় আহত চার বছর বয়সী শিশু আলিনের। তবে হামলার আট দিনে এসেও তার জ্ঞান ফেরেনি। বাবার হাত ধরে মসজিদে নামাজ পড়তে এসে হামলার কবলে পড়েছিল আলিন। গুলীবিদ্ধ বাবার সঙ্গে সেও এখন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। ১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদ। হামলায় নিহত অর্ধশত মানুষের মধ্যে শহরের হ্যাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে হামলায় প্রাণহানি হয় ৪৩ জনের। হামলার দিন বাবা ওয়াসিম আলসাতির সঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছিল তার চার বছর বয়সী শিশুকন্যা আলিন। তবে ঘৃণা থেকে রক্ষা মেলেনি তারও। বর্ণবাদী বিদ্বেষ বন্দুকের গুলী হয়ে আছড়ে পড়েছিল ছোট্ট ওই শিশুর শরীরেও।
সন্দেহভাজন হামলাকী ব্রেন্টন ট্যারান্টের বন্দুকের তিনটি গুলী লেগেছিল আলিনের শরীরে। আলিনের বাবা ওয়াসিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে তার শিশু কন্যার। ওয়াসিম বলেন, ‘আমরা তার জন্য প্রার্থনা করছি। এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি তার। তার আটটি অপারেশন হয়েছে, আমার হয়েছে সাতটি।’ আলিনের  জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আছে পুরো পরিবার।
২০১৪ সালে সাথে স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে জর্ডান থেকে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান ওয়াসিম। কর্মজীবন শুরু করে রিভাইভ হেয়ারড্রেসিংয়ে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে রে অ্যাস্টওড বার্বারিং উৎসবে পুরস্কার জেতেন তিনি। এরপর গত মাসে ওয়াস বারবার্স নামে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। চার সন্তানের মধ্যে আলিনিই সবার ছোট। সামনের মাসেই পাঁচ বছর বয়স হতো তার। ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো প্রাইমারি স্কুলে। জর্ডানিয়ান বংশোদ্ভূত আলসাতি বলেন, তিনি নিজে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এতগুলো অস্ত্রোপচারের পর মাত্র তিন মিনিট কথা বলার শক্তি থাকে।
মসজিদে প্রবেশের সময়েই হামলাকারীকে বন্দুক হাতে দেখেছিলেন ওয়াসিম। তিনি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেছেন, ‘আমি দেখলাম সামরিক পোশাক পড়া এক ব্যক্তি বন্দুকে গুলী ভরছেন। কিছুক্ষণ পরই আমার মেয়ের দিকে তাক করেন। আমি তখন বুঝতে পারি যে সে সামরিক বাহিনীর কোনও সদস্য নয়। সেজন্যই আমি না পালিয়ে তার দিকে ছুটে যাই।’ ততক্ষণে ছোট্ট আলিনের শরীরে ২টি গুলী লেগেছে। একটি পিঠে ও আরেকটি পেটের ওপরে। এরপর আরও একটি গুলী বিদ্ধ হয় তার শরীরে।
হামলার একদিন পর হাসপাতালের বিছানা থেকেই এক ভিডিওবার্তায় নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের সব শুভাকাঙ্ক্ষীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এই ভালোবাসার জবাব দেওয়া সম্ভব না। এই ভিডিওর মাধ্যমে জানাতে চাই যে আমি সুস্থ আছি। ইশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন।’ ওয়াসিম জানান, তার নিউ জিল্যান্ডে অবস্থানের মূল উদ্দেশ্য হলো সেখানে মানুষকে সম্প্রদায়গতভাবে নয়, মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেল ২ বছর বয়সী গুলীবিদ্ধ শিশু
নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে সংঘটিত হামলায় আক্রান্ত সর্বকনিষ্ঠ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। হামলার দিন বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে ক্রাইস্টচার্চের লিনউড মসজিদে গিয়েছিল দুই বছরের অ্যাভারুয়েজ।  বর্ণবাদী বিদ্বেষ বন্দুকের গুলী হয়ে আছড়ে পড়েছিল ছোট্ট ওই শিশুর শরীরেও। অ্যাভারুয়েজের মায়ের ফেসবুক পোস্টের সূত্রে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও বাড়িতেও তার খানিকটা চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।
বাবা জুলফিকার সাইয়াহর সঙ্গে অ্যাভারুয়েজ
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। হামলায় নিহত অর্ধশত মানুষের মধ্যে লিনউড ইসলামিক সেন্টারে প্রাণ হারায় ৭জন। ওই মসজিদেই বাবার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিল দুই বছর বয়সী অ্যাভারুয়েজ। সন্দেহভাজন হামলাকারী ট্যারান্টের বন্দুকের গুলী যখন অ্যাভারুয়েজ’র দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তার বাবা জুলফিরমান সাইয়াহ সন্তানকে আগলে রেখে তার বেশিরভাগই ধারণ করেছিলেন নিজের শরীরে। তবুও পিঠে আর পায়ে গুলী লেগেছিল অ্যাভারুয়েজের।
অ্যাভারুয়েজ-এর মা  আালতামারি এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন হামলার দশদিন পর বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে তার ছেলে। এখন সে শারীরিকভাবে বেশ ভালো আছে। তারপরও বাড়িতে কিছুদিন তার চিকিৎসা নিতে হবে।
সন্তানকে বাঁচাতে তার বাবা জুলফিরমান সাইয়াহ যে বীরোচিত ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গুলীতে বিদ্ধ হয়েছিল তার শরীর। আলতা মারি তার ফেসবুক পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন, এই সপ্তাহের কোনও একদিন তার স্বামীকেও হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বাড়িতে নিবিড় চিকিৎসায় থাকতে হবে তার।
গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেনের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, ‘তিনি ঠিক তেমন, যেমনটা তার হওয়ার কথা ছিল।’ জাসিন্ডাকে সমবেদনা, মানবিক আর্তি আর অন্যের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার মানবিক চৈতন্যসম্পন্ন মানুষ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। বলেছেন, জাতির অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা মেটাতে উদগ্রীব তাদের প্রধানমন্ত্রী।
ট্যারান্টকে যেভাবে রাখা হয়েছে
আর ১০ জন সাধারণ বন্দীর মতো করে নয়, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্দেহভাজন হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে কারাগারে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থায়। তার কারারক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সামরিক বিমানে করে কড়া নিরাপত্তাবিশিষ্ট অকল্যান্ডের পারোমোরেমো কারাগারে নেওয়া হয়েছে তাকে। ওই কারাগারে বন্দি রয়েছে দেশটির কুখ্যাত সব অপরাধী। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে সে।
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলী চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেন্টন ট্যারান্ট। উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী এ হামলাকারী এর আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে। এতে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের নৃশংস ওই খুনি দাবি করে, শ্বেতাঙ্গরা গণহত্যার শিকার। যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানায় সে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের নতুন প্রতীক’ আখ্যায়িত করে মুসলমানদের জন্য একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানায় হামলাকারী।
এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে কেবল শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষীরা। ওই সূত্র বলেছেন, নিউ জিল্যান্ডে সাধারণত এমনটা ঘটতে দেখা যায় না। জাতিগোষ্ঠী কিংবা বর্ণ বিবেচনা করে নিউজিল্যান্ডে কারারক্ষী নিয়োগ করা হয় না।’ তার ধারণা, কর্তৃপক্ষ হয়তো ভাবছেন অশ্বেতাঙ্গ নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়োজিত করা হলে তাদের আক্রোশের শিকার হতে পারেন ওই হামলাকারী। তবে তার প্রশ্ন: কেন এই বিশেষ নিয়ম করতে হবে। ট্যারান্টের কারারক্ষী হিসেবে কেবল শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এক কর্মকর্তা নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেছেন, আমাদের বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের অনেক কর্মী রয়েছেন। নিরাপত্তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমাদের স্বাভাবিক রুটিন মাফিক কর্মী বণ্টন প্রক্রিয়া তার জন্য পরিবর্তন হয়নি এবং হবেও না।’ হামলাকারী ট্যারান্টকে পারোমারেমো কারাগার নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। তারা জানান, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা ট্যারান্টকে নিরাপদভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন। পারেমোরেমো কারাগারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বন্দি রয়েছে ট্যারান্ট। ওই কারাগারে ২৬০ জন বন্দী থাকতে পারে। প্রত্যেকের ৩১ মিটার প্রস্থ ও ২৯ মিটার উচ্চতার সেলে থাকতে হয়। সেখানে টয়লেট, শাওয়ার ও বেসিন রয়েছে। দেশের সব কুখ্যাত অপরাধীকে রাখা হয় সেখানে।
ট্যারান্টকে অন্যান্য অপরাধী থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা প্রত্যক্ষ কিংবা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে তার ওপর। এছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই তার। কাছে থাকবে না কোনও পত্রিকা। থাকবে না রেডিও কিংবা টেলিভিশন সুবিধাও। ওই সূত্র জানায়, স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই তার ওপর নজরদারি চলছে। তবে তার পোশাকের ব্যাপারেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আত্মঘাতী কোনও পদক্ষেপ যেন না নিতে পারে তাই পরিধানের জন্য তাকে নীল গাউন সরবরাহ করা হয়েছে। এটা অপেক্ষাকৃত মোটা আকৃতির পোশাক।
৪০ বছর সাজা ভোগ করে সম্প্রতি সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া কুখ্যাত বন্দি আর্থার টেলর ওই কারাগার নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। ১৩ মাস সেখানে থাকা আর্থার বলেন, দিনে একবার গোসল করার সুযোগ ছিলো। দরজার এক ছিদ্র দিয়ে খাবার ভেতরে দেওয়া হতো। বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই নেই সেখানে। অন্যান্য বন্দির সঙ্গে যোগাযোগের কোনও ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার পরিবেশ মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়া খুবই কঠিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ