ঢাকা, শুক্রবার 15 November 2019, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নারী বক্সার সাফিয়া সাইদ: মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যাকে আটকাতে পারেনি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বক্সিং সংগঠন এআইবিএ গত ফেব্রুয়ারীতে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে ফাইটারদের হিজাব পরা ও শরীর কাপড় দিয়ে আবদ্ধ করার উপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়। এর মধ্য দিয়ে ১৮ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সাফিয়া সাইদ যিনি হিজাব পরেন, এখন তার বক্সিং এর প্রতি প্রেম আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন।

মাত্র বছরখানেক হলো বক্সিন শুরু করেছেন বৃটেনের এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকে তিনি আ্যনোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়ার মতো কঠিন মানসিক রোগে ভুগেছেন। রুগ্ন শরীরকে সবল করতে তিনি বক্সিং শুরু করেন। বক্সিং রিঙে হিজাব পরে লড়াইতে বদলে গেছে বৃটেনের ১৮ বছরের মহিলা বক্সার সাফিয়া সাইদের এর জীবন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জাতীয় স্তরের এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে সাফিয়া গতবছর বক্সিং শুরু করেন। রুগ্ন শরীরকে সবল করে তুলতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে অনুপ্রেরণা পান বক্সিং শেখার। এই খেলার সুবাদে তিনি ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সাফিয়া বলেন, ‘হিজাব তার লড়াইয়ে কখনো বাধা সৃষ্টি করে না। মাথা ও মুখের কিছু অংশ কাপড়ের নিচে ঢাকা থাকলেও প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তাকে কোন বেগ পেতে হয় না।’ বক্সিং রিঙে এখন দুই বেলা অনুশীলন করেন এই তরুণী। শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেদের বিরুদ্ধেও রিঙে নামাতে দ্বিধা বোধ করেননা সাফিয়া।

অসুস্থ থাকাকালীন তিনি বক্সিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা নিয়ে লেখালেখিও করেন। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বক্সিংয়ে আসার যাত্রা নিয়ে সাফিয়া বলেন, ‘আমি দেখাতে চেয়েছিলাম যে, চেষ্টা করলেই আপনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এড়াতে পারবেন এবং আপনার শরীরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে পারবেন।’ এখন শাফিয়া স্বপ্ন দেখেন, জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম মুসলিম মহিলাদের মধ্যে একজন হওয়ার। তিনি আশা করেন, অলিম্পিকের বক্সিংয়েও অংশ নেবেন। আর এ জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে তিনি ইতিমধ্যেই দিনে দুবার ট্রেনিং নিচ্ছেন।

সাফিয়া বলেন, ‘আমি প্রথমে চিন্তিত ছিলাম একজন হিজাবী মেয়ে বক্সিং জিমে যাবে। এ বিষয়ে মানুষ অভ্যস্ত নন। কিন্তু সবাই আমার প্রতি খুব মনোরম ও সহায়ক আছেন। রিঙে আমার হিজাব পরে প্রবেশ করা নিয়ে কারো কোন আপত্তি ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি আমার বক্সিংয়ে কোন প্রভাব ফেলেনি। অনেকে মনে করেন, হিজাব পরে চলাচল করা খুব কষ্টকর কিন্তু আমি ভুলে যাই যে হিজাব পরেছি।’

সাফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে একসঙ্গে নারী পুরুষ মিলে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার এখনো সেই প্রথম ব্যক্তিকে মনে আছে, যিনি আমাকে হিজাবে দেখে কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি বুঝতেই পারেননি আমি এতে কষ্ট পেয়েছি। কারণ বিষয়টি আমি প্রকাশ করিনি, কেননা আমার কোচ বলেছেন, কখনো কারো সামনে নিজের আবেগ প্রকাশ না করতে। তারা কখনই আমার প্রতি সহজ হন না। কিন্তু আমি সবসময়ই বলি, আমি মেয়ে বলে আমাকে নিয়ে ভিন্ন কিছু ভাববেন না।’

সাফিয়া যখন ক্ষুধামন্দায় ভুগছিলেন তখন তাকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে বলেন চিকিৎসকরা। সে সময় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, তিনি সুস্থ হলেই বক্সিং শুরু করবেন। তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, অসুস্থ হওয়ার দুই বছর যথেষ্ঠ ছিল। জীবনে যা যা করতে হবে এমন অনেক কিছু লিখে একটা তালিকা করলাম। ‘বক্সিং’ ওই তালিকায় ছিল এবং যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি তা শুরু করে দিলাম। আমি মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আপনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারবে না।

বক্সিং তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় হিজাব পরা নিষিদ্ধকরণ অতীতের অনেক মুসলিম মুষ্ঠীযোদ্ধাদের প্রভাবিত করেছে। এই নিষিদ্ধকরণের কারণে ১৮ বছর বয়সী আমাইয়া জাফর ২০২০ সালে অলিম্পিক থেকে বাদ পড়েন। তবে সম্প্রতি এই নিষিদ্ধকরণ উঠিয়ে নেওয়ার কারণে তিনি ২০২৪ সালের অলিম্পিকে অংশ নিতে পারবেন। কে জানে, হয়তো সেই প্রতিযোগিতায় তার সঙ্গ নিতে পারেন সাফিয়াও।

সূত্র:টিডিএন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ