ঢাকা, শনিবার 30 March 2019, ১৬ চৈত্র ১৪২৫, ২২ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাখে আল্লাহ মারে কে?

বগুড়ার আ. হ. কলেজের সাবেক অধ্যাপক ফজলার রহমান হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি ছিলেন। কিন্তু ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করে লাইফসাপোর্ট খুলে ফেলেন গত রোববার রাত ৯ টার দিক। পত্রিকায় শোকসংবাদ ছাপা হয়। শহরে মাইকিং করা হয় ইন্তিকালের খবর দিয়ে। গোসল দেয়াও হয়ে গিয়েছে। কবর খোড়াসহ জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। কুরআন খতম চলছিল বাসায়। একটু পরেই দাফন করা হবে বেচারাকে। কিন্তু আকস্মিক রাত ২টায় কাফনে মোড়ানো মৃতদেহটি নড়ে চড়ে উঠলো। সবাই বিস্মিত। জলদি ডাক্তার ডাকা হলো। তিনি দেখে বললেন, মিরাকেল! মারা যাননি। এখন তো সব স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। আল্লাহু আকবার!
যশোরের আরেক ঘটনা। প্রসূতি আরিফা সুলতানা ইতি হাসপাতালে পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছেন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২৬ দিনপর তাঁর আবার তীব্র প্রসববেদনা। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে গাইনি ডাক্তার বলেন, দ্রুত অপারেশন লাগবে। তাই করা হলো। কী অবাক করা কা-! মহিলার আরও দুটো সন্তান বের করে আনা হলো। একটি মেয়ে আরেকটি ছেলে।  আগেরটাও সুস্থ। পরের দুটোও সুস্থ এবং স্বাভাবিক। ডাক্তার জানান, তাঁর দুটো জরায়ু ছিল। অবিশ্বাস্য ঘটনা! তবে কাল্পনিক নয়। ইতির স্বামী সুমন বিশ্বাস। বাড়ি শার্শা উপজেলার শ্যামলগাছি গ্রামে। কেবল ইতিই না। আরও অনেকে একাধিক সন্তান জন্ম দিয়েছেন দেশে-বিদেশে। এমনকি একসঙ্গে  ৫ থেকে ১০ সন্তান জন্ম দেবার ঘটনাও ঘটেছে। আবার এতোগুলো জমজ সন্তান অনেকের বেঁচেও গেছে। ওজনে বেশ কম হলেও এসব সন্তান অনেকটা অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যায়। অনেকের এক সন্তানই বাঁচে না। বহু চেষ্টা-তদবির করেও বাঁচানো সম্ভব হয় না। কারুর কারুর তো সন্তান জন্মই হয় না। আজীবন বন্ধ্যাই থেকে যান। বিস্ময় এখানেই।
অধ্যাপক ফজলার রহমানের ভাগ্য ভালো দাফনের আগে কফিনে মোড়ানো অবস্থায় থাকতেই নড়েচড়ে উঠেছেন। তা না হলে দাফন সম্পন্ন হবার পর মৃত্যুর কবল থেকে ফিরে আসা সম্ভব নাও হতে পারতো। জীবন-মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তবে অসুখ-বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে হয়। ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে গিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা নেবার নিয়ম। প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্য সেবন করতে হয় ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক। এরপরও কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া চলে না। শুধু তদবিরে হয় না। তকদিরের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। হাজার কোটি টাকা খরচ করেও মানুষ বাঁচে না। আবার দুধের শিশু ১০ তলা ভবনের ওপর থেকে পড়েও অক্ষত থাকে। বেঁচে যায়। এমনটি ঘটে কার ইশারায়! কোন মহাশক্তির অমোঘ ক্ষমতায়! নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনও শক্তিতো রয়েছেই। এই মহাশক্তিকেই মুসলিমরা আল্লাহ বলে মনে করেন। বিশ্বাসও করেন একনিষ্ঠভাবে। জীবনমৃত্যুর মালিক তিনি। কিন্তু যারা আল্লাহকে মানেন না। বিশ্বাস করেন না। তাদের কথা ভিন্ন। তবে দীনদার মুসলিমদের আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান ব্যতীত কোনও কল্যাণ নেই। মুক্তিও নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ