ঢাকা, শনিবার 30 March 2019, ১৬ চৈত্র ১৪২৫, ২২ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বৈশাখের উত্তাপে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ইলিশ ও গোশতের দাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বাজারগুলোতে এমনিতেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা লেগেই আছে। সেই সাথে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেড়েছে ইলিশ মাছ ও গোশতের দাম। মাত্র দু’সপ্তাহ পরেই পহেলা বৈশাখের উৎসব। আর তাই ইলিশ মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে সব ধরনের গোশতের দাম আরও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ টাকা আর গরু ও খাসির গোশতে দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে বেড়েছে সব ধরনের মুরগির দাম। বেশকিছু সবজির দামও বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সব ধরনের চালসহ মুদি পণ্যের দাম।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৬০ টাকায় আর খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে লেয়ার ও কক মুরগির। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। কক মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এখন বাজারভেদে কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। এক সপ্তাহে কক মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখকে কেন্দ্র করে মানুষ মাছ- গোশত আগে কিনে সংরক্ষণ শুরু করে দিয়েছে। তাই হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু সরবরাহ বাড়েনি। এখন দেশি গরু ছাড়া অন্য কোনো গরু পাওয়া যায় না। ইলিশ ধরা নিষেধ থাকায় সরবরাহ কম। আবার যা পাওয়া যায় সাইজে ছোট আবার দামও বেশি। গোশতের দামের পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ইলিশের দাম। গত সপ্তাহে ৭০০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, ৮০০ গ্রামের প্রতি হালি ইলিশ ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ, দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, টেংরা কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিতল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বাজারে বেশকিছু সবজির দাম এখনো অনেক বাড়তি। তবে কোন কোন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, পটল ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, আর করলা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে চাল ও অন্যান্য মুদি পণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, চিনি আমদানিকৃত ৫০, ডাল ৪০ থেকে ৯০, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাও’র চাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা।
বেড়েছে সব ধরনের ডিমের দাম। মুরগির ডিম প্রতি ডজনে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। হাঁসের ডিম ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা সোয়াবিন তেল ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের প্রতি গ্যালনে রূপচাঁদা ৫০০ টাকা, পুষ্টি ৪৭০ টাকা, তীর ৪৯০ টাকা, ফ্রেস ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সরিষার তেল প্রতি কেজি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ