ঢাকা, শনিবার 30 March 2019, ১৬ চৈত্র ১৪২৫, ২২ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

১৫ দিনেও জমেনি খুলনার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

খুলনা অফিস : খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠ প্রাঙ্গণে ১৮তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনও জমে উঠেনি। ফলে মেলায় আসা স্টল ও প্যাভিলিয়ন মালিকরা লোকসানের মুখে হতাশ হয়ে পড়ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইরানী পণ্যের আলাদা কদর থাকায় বাণিজ্য মেলায় এবার মেলামাইনের একটি স্টলও হয়েছে। প্রতিটি তাকে থড়ে থড়ে সাজানো হয়েছে ম্যালামাইন পেলেটসহ নানা ধরনের সামগ্রী।
স্টলের প্রতিনিধি ইব্রাহীম তালুকদার বলেন, ইরানী ফাইবার তাকে ট্রে, লুডুস সেট, ফিন্নি সেট, প্লেটসহ নানা ধরনের পণ্য রাখা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে ১০% ছাড় মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে পণ্য। কিন্তু কোন ক্রেতা নেই। ফলে লাভ তো দূরের কথা আসল বাঁচাতে পারছি না।
অভিজাত শাড়ির স্টল মিম জামদানি শাড়ির স্টলের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী জানান, তার স্টলে জামদানি শাড়ির দাম রাখা হয়েছে ১৫শ’ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আরো রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। দাম ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। ঢাকাই একলিক শাড়ির দাম হাকা হচ্ছে এক হাজার টাকা। তবে ক্রেতা আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ। তিনি বলেন, মেলায় যা বেচাবিক্রি হচ্ছে তাতে খরচের টাকা পর্যন্ত উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে লোকসানের মুখে পড়বেন।
মেলায় ঢুকতে ডান পাশের দ্বিতীয় দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্যাভিলিয়নের নাম হোম টেক্স। এখানে বেড সিট, খেলনাসহ ২৪০ ধরনের আইটেম তুলেছেন। প্যাভিলিয়নের পরিবেশ এতই চমৎকার সহজে দর্শনার্থীদের মন জয় করছে। প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম সজিব বলেন, মেলা শুরু হয়েছে পনেরদিন হলো। এখনও ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশী।
থ্রি পিসের প্যাভিলিয়ন রং বে রং-এর প্রতিনিধি এন আমিন জানান, তার প্যাভিলিয়নে ১শ’ ধরনের থ্রি পিস রয়েছে। ৮শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে থ্রি পিস। কিন্তু মেলায় বেচা বিক্রি হচ্ছে না। একটি প্যাভিলিয়নের পিছনে অনেক খরচ। সেই খরচের টাকা পর্যন্ত উঠছে না।
বিগত দিনের মত এই বছরও মেলার আয়োজন করেছে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। এবার মেলা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স চামেলী ট্রেডার্স। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলছে। এবারও মেলার প্রবেশ মূল্য রাখা হচ্ছে ১৫ টাকা।
চামেলী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল মিয়া জানান, ইতোমধ্যে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ২/৪টি বাদে সকল স্টলই পণ্য ওঠানো হয়েছে। মেলায় দেড় শতাধিক স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এখানে ভারত, পাকিস্তান, চীন, থাইল্যান্ড, ইরান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। বিগত দিনেও তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন মেলা। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার মেলাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। মেলার সুদৃশ্য গেট দর্শকদের মুগ্ধ করছে। রয়েছে সৌন্দর্যবর্ধন জোন। ট্রেন ও ম্যাজিক নৌকা। নারী-পুরুষদের নামাজের জন্য আলাদা ঘর। দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা।
তিনি আরও জানান, মেলায় কেনাকাটা ছাড়াও বিনোদনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকছে। ছুটির দিনে ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও বিভিন্ন বিনোদন উপভোগের ব্যবস্থা থাকছে মেলায়। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা থাকছে মেলায়। মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ জন্য মেলার ভেতরে এবং বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে চারিদিকে বসানো হচ্ছে চারটি নিরাপত্তা চৌকি। পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও সাদা পোশাকে স্বেচ্ছাসেবকরা মেলার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। মেলায় ক্রেতা টানতে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে মেলায় দর্শনার্থী বাড়লেও ক্রেতা এখনও বাড়েনি। তবে আগামী ২/৪ দিনের মধ্যে মেলা জমবে বলে তিনি আশাবাদী। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ