ঢাকা, শনিবার 30 March 2019, ১৬ চৈত্র ১৪২৫, ২২ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় কারাবন্দী কেসিসির সেই কর্মচারী চাকরিচ্যুত

খুলনা অফিস : সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারকৃত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) পূর্ত বিভাগের কার্য সহকারী (মাস্টাররোল কর্মচারী) এস এম আজমল হোসেন (৫০) সহ দু’জন বর্তমানে খুলনা কারাগারে রয়েছেন। অপরজন হলো মোসলেম উদ্দীন (৪৮)।
এদিকে প্রতারণা মামলায় কারাগারে থাকায় কেসিসি কর্তৃপক্ষ পূর্ত বিভাগের কার্য সহকারী এস এম আজমল হোসেনকে চাকরিচ্যুত করেছেন। বৃহস্পতিবার কেসিসির সচিব মো. আজমুল হক সাক্ষরিত অফিস আদেশে এ চাকরিচ্যুতকরা হয়। যার স্মারক নং-সাপ্রশা/সি-৫৯৭/২০১৯-৬৭৮(৮), তাং-২৮.০৩.১৯ইং। কেসিসির সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মেয়রের অনুমোদন সাপেক্ষে বৃহস্পতিবারই আজমলের চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। গত ১ মার্চ থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে এ প্রতারণা মামলাটি সদর থানা থেকে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডিতে) বদলি করা হয়েছে। সিআইডির পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার এসআই সুজিত মিস্ত্রি বলেন, গত ২ মার্চ রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নয়ন দাশ নামের এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেছেন (নং-০৬/১৪৫, তাং-০৩/০৩/১৯ইং, ধারা-৪০৬/১২০)।
আজমল কয়রা উপজেলার বাবরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মৃত এস এম আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর বাগমারায় বসবাস করেন। আর মোসলেম উদ্দীন চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানার নারিশ্চা নতুনপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। এ দু’জন ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোসলেম উদ্দীন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৮ অক্টোবর’১৮ থেকে ২৫ জানুয়ারি’১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বাদি রাঙ্গুনিয়া কলেজে ডিগ্রিতে পড়াশুনা করে। সে সুবাদে আসামি মোসলেম উদ্দীনের সাথে পরিচয় হয়। গত ১৫ অক্টোবর’১৮ আসামি বাদীকে জানায়, সেনাবাহিনীতে খেলোয়াড় সৈনিক পদে কিছু লোক নিয়োগ হবে। বাদি তখন সৈনিক পদে ভর্তি হতে ইচ্ছা পোষণ করে। বাদীসহ তার কয়েকজন বন্ধু চাকরির জন্য যোগাযোগ করেন। আসামিরা বলে, প্রার্থী প্রতি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগবে। বাদীসহ ৮ জন আসামিদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেন। পরে আসামিরা তাদের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য খুলনায় আসতে বলে। সে মতে তারা খুলনায় আসে। চক্রটি তাদের খুলনা হোটেলে রেখে মেডিকেল পরীক্ষা বাবদ জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। চক্রটির কিছু কার্যক্রম সন্দেহ হলে বিষয়টি খবর নিয়ে জানা যায়, চক্রটি সেনাবাহিনীর কোনো লোক নয়। তারা প্রতারক। এ সময় সদর থানার পুলিশের সহায়তার ওই দু’ প্রতারককে গ্রেফতার করে। বাকীরা পালিয়ে যায়। এ আজমলের বিরুদ্ধে বিগত দিনে একই ধরনের অভিযোগে ঢাকার খিলগাঁও থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ