ঢাকা, সোমবার 1 April 2019, ১৮ চৈত্র ১৪২৫, ২৪ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ পরিবেশেও মানবিক চেতনার বিজয়

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় সারাদেশের মানুষ শোকে স্তব্ধ। ক’দিন আগেও যে ভবনটি মানুষের কোলাহল ও কর্মচাঞ্চল্যে ছিল মুখরিত, সেই ভবনটি এখন স্তব্ধ। ভবনজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ এবং শোকগাঁথা। পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, অনেক করুণকাহিনী। ‘নব বিবাহিতা মিথি এখন না ফেরার দেশে’, ‘আমি আর বাঁচব না, আমার জন্য দোয়া করিও বাবা’, ‘পুড়ে অঙ্গার ফজলে রাব্বি, জাফরের বাড়িতে মাতম’- এগুলো হলো প্রতিবেদনের শিরোনাম। অগ্নিকাণ্ডের পর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নানা অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার চিত্র। যেমন ‘এফআর টাওয়ারটি ভুল নকশার ফসল’, ‘অগ্নিসংকেত বাজেনি, তীব্র ধোঁয়ায় প্রাণহানি’; ‘অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বনানী এফআর টাওয়ারে’, ‘সাড়ে ১১ হাজার ভবন ঝুঁকিতে’- এসবই হলো দায়িত্বহীন আচরণের শিরোনাম। জানি না, এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটবে কিনা। আর যারা কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁদেরও নিজেদের কাজের মান উন্নয়নে পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
মন খারাপ করা বাস্তবতার মধ্যেও আশাবাদী হওয়ার  মতো ঘটনা আছে। বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসীম সাহস আর বুদ্ধিমত্তার গুনে শুধু নিজে নন, ৩০ জন সহকর্মীকে নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন বকুল নামের একজন। হতাশার ভুবনে এমন উদাহরণ আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করতে পারে আশাবাদের বাতাবরণ। আশাবাদের আরো ঘটনা আছে। মানবিক কাজের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সেই আলোচিত শিশু নাঈম। গত বৃহস্পতিবার এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের নির্বাপণ তৎপরতার সময় পানির পাইপের লিকেজে পলিথিন পেঁচিয়ে ধরেছিল শিশু নাঈম। এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফেসবুকের নিউজফিডে ঘুরেফিরে এই ছবি আসে। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নাঈমের এই কাজ দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ওর মানবিক কাজে খুশি হয়ে উপহারস্বরূপ ৫ হাজার ডলার প্রদানের ঘোষণা দিলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের যুবক ওমর ফারুক সামি। পাশাপাশি দরিদ্র বস্তিবাসী নাঈমের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানালেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামি।
মানবিক উপলব্ধির কারণে পুরস্কৃত হলো শিশু নাঈম। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ পরিবেশের মধ্যেও বিজয়ী হলো মানুষের মানবিক চেতনা। এমন চেতনা যেমন প্রয়োজন বনানীর এফআর টাওয়ারে, তেমনি প্রয়োজন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়, শাসন-প্রশাসনে এবং বিশ^সভ্যতায়ও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ