ঢাকা, মঙ্গলবার 2 April 2019, ১৯ চৈত্র ১৪২৫, ২৫ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হবে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার ॥ চাহিদা মিটিয়ে রফতানির আশাবাদ

খুলনা অফিস : গ্রাহকদেরকে প্রি-পেইড মিটারিংয়ের আওতায় আনার পাশাপাশি ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বা ওজোপাডিকো লিমিটেড স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার তৈরিরও উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে চায়নার হেক্সিং কোম্পানীর সাথে যৌথ চুক্তি করেছে ওজোপাডিকো। ওজোপাডিকোর আওতায়ই গঠন করা হচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার ম্যানুফ্যাকচারিং/এসেম্বলিং কোম্পানী। ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্য ব্যয় ধরা হয়েছে কোম্পানীর। যার ৫১% মালিকানা থাকছে ওজোপাডিকোর এবং চায়নার হেক্সিং কোম্পানীর মালিকানা ৪০%। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই প্রি-পেমেন্ট মিটার সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ আশা করছেন। তবে আপাতত জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন একটি ভাড়া জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে নিজস্ব জমিতে কোম্পানী তাদের কর্মকান্ড করবে। এভাবেই ওজোপাডিকোর সব গ্রাহককে প্রি-পেমেন্ট মিটারিংয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছেন কোম্পানী কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকোর সূত্রটি বলছে, গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সব গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনার সরকারী উদ্যোগের অংশ হিসেবে পদ্মার এপারের একুশ জেলা নিয়ে গঠিত ওজোপাডিকোতেও প্রি-পেমেন্ট মিটারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর খুলনা সিটি ফেজ-১এর আওতায় ৭৩ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানোর পর এখন শুরু হয়েছে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ওজোপাডিকো। খুলনার চারটি বিতরণ বিভাগ ছাড়াও বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের গ্রাহকদের মধ্যে এ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন ওজোপাডিকো।

এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহা. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, চারটি প্যাকেজে মোট পাঁচ লাখ গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানী। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজে এক লাখ গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেমেন্টের আওতায় আনা হবে। যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার মিটার বসানো হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বর্তমানে ওজোপাডিকোর প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

ওজোপাডিকোর হিসাব বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রি-পেমেন্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে চার কোটি টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় হয়েছে। গ্রাহকদেরকে কোম্পানী বিনামূল্যে মিটার দিলেও ওই মিটারের (সিঙ্গেল ফেজ) বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে চার হাজার টাকা। যা ওজোপাডিকোর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর মাধ্যমে উৎপাদন করতে খরচ হবে তিন হাজার ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী বিক্রি করা হলেও প্রতিটি মিটারের মুনাফা ৭৬৪ টাকা হিসাবে ধরে এ কোম্পানীর মাধ্যমে বার্ষিক সম্ভাব্য মুনাফার আশা করা হচ্ছে ৩৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।

স্থানীয়ভাবে মিটার উৎপাদন হলে মুনাফার চেয়ে অন্যান্য দিক দিয়ে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন বলেও জানিয়েছেন ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন। তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারগুলো আমদানী নির্ভর সেহেতু এর কোন সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে রিপিয়ারের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং স্থানীয়ভাবে এ্যাসেম্বলিং হলে রিপিয়ারের সুযোগ সৃষ্টির সাথে সাথে আধুনিক টেকনোলজির সাথে তাল মিলিয়ে চলা যাবে। চীনের সাথে সম্পাদিু চুক্তিতেও এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানীর সুবিধা এটি। প্রয়োজন হলে মিটার রিপ্লেসেরও সুযোগ থাকবে।

এ কোম্পানীর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, আপাতত জিরো পয়েন্টের কাছে মৃধা কমপ্লেক্সে এ্যাসেম্বলিং শুরু হচ্ছে। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা করেন। গ্রাহকেরকে দ্রুত মিটার সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়েই ভাড়া জায়গায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু শীঘ্রই নিজস্ব জায়গায় কোম্পানীর কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

ওজোপাডিকোর সচিব ও স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর পরিচালক (অর্থ) মো. আবদুল মোতালেব বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীও। প্রথম দিকে গ্রাহকদের মধ্যে প্রি-পেইড মিটার নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও এখন সকলেই এটিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। অর্থাৎ যেহেতু প্রি-পেমেন্ট মিটারের চাহিদা ক্রামান্বয়ে বাড়ছে সেহেতু স্থানীয়ভাবে মিটার উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে কোম্পানীকে লাভজনক পর্যায়ে নেয়া সম্ভব হবে অপরদিকে গ্রাহকসেবাও উন্নত হবে। সেই সাথে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বিদেশেও রফতানী করা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্টসার্কিট দুর্ঘটনারোধ, মাসিক বিল সহজ, যে কোন স্থানে বসেই মোবাইল এসএমএস’র মাধ্যমে মিটার রিচার্জ করার সুযোগ ছাড়াও একশ’ টাকা পর্যন্ত ইমারজেন্সি ব্যালান্স নেয়া এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যালান্স শেষ হলেও মিটার বন্ধ হবে না। তাছাড়া প্রতিটি মিটারের সাথেই বাংলা ভাষায় অপারেটিং ম্যানুয়াল প্রদান করা হবে। যার সাহায্যে গ্রাহকরা সহজেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ