ঢাকা, মঙ্গলবার 2 April 2019, ১৯ চৈত্র ১৪২৫, ২৫ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবকাঠামো তৈরির ব্যাপক কর্মযজ্ঞ এবং দারিদ্র্য বিমোচন

ড. মো. নূরুল আমিন : গত ২৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সফরে ছিলাম। এই সময়ে পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শন করি। সড়ক পথেই আরো তিন সঙ্গীসহ এই সফরে যাই। সকাল ৮টায় রওয়ানা হয়ে বিকেল ৪টায় পিরোজপুরের ট্যারায় পৌঁছেছি। একইভাবে ফেরার দিনও সকাল ৮টায় খুলনা থেকে রওয়ানা হয়ে বিকেল ৪টায় ঢাকা পৌঁছেছি। সড়ক পথের এই ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক, পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নতুন রেললাইন স্থাপন, রেলওয়ে ওভার ব্রিজ, একাধিক ফ্লাইওভার ও পুরাতন ব্রিজ ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ তৈরি, সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে চার লাইনের কাজ প্রভৃতি বিশাল কর্মযজ্ঞ লক্ষণীয় ব্যাপার ছিল। ভাঙ্গাগড়ার এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে উঁচু-নীচু রাস্তায় সড়ক পথে অনেকটা হাড়-মাংশ একত্র হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল। ঝাঁকুনিগুলো সমস্ত শরীরের হাড় ও সন্ধি গিরাগুলোতে উপলব্ধি করার মতো ছিল। কষ্টকর হলেও উন্নয়নের এই কর্মকা-গুলো বেশ ভালই লাগছিল। দেশের চেহারা বদলে যাচ্ছে এবং আগামী এক দশকে এই কাজগুলো শেষ হবার পর যে অবস্থা দাঁড়াবে তাতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা নিজ নিজ এলাকা চিনতেও ভুল করবে বলে মনে হয়। তখন বাংলাদেশ হবে চারলেন বিশিষ্ট সড়ক মহাসড়ক, ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেস ওয়ে সম্পন্ন স্বপ্নের মতো একটি দেশ, নির্মাণাধীন মহা সড়কগুলোর দু’পাশে ধান ক্ষেত দেখেছি। এই দৃশ্য খুব ফিকে মনে হয়েছে। এই সময়টি একদিকে বোরো আমন কাটা ও অন্যদিকে নতুন বোরো আমন লাগানো ও পরিচর্যার সময়। মাঠে এর তৎপরতা খুবই কম, বহু জমি খালি পড়ে আছে। সেচের অভাবে চাষ করা যাচ্ছে না। চাষিদের কাছে সার, বীজ, কীটনাশক ও জমি চাষের পূজি নেই। আবার রাস্তার দু’ধারেই হাজার হাজার একর মূল্যবান ফসলি জমি হুকুম দখল করে রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে। দেখতে সুন্দর হলেও এর চূড়ান্ত পরিণতি ভাল হবে বলে মনে হচ্ছে না।
উন্নয়ন একটি দেশের প্রাণ। তবে উন্নয়ন যদি উৎপাদনমুখী বা উৎপাদনের সহায়ক না হয় তাহলে তা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। গত শতাব্দিতে এবং এই শতাব্দির প্রথম দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে যে মন্দা দেখা দিয়ছিল তার প্রধান কারণ ছিল Unproductive Investment বা অনুৎপাদনশীল বিনিয়োগ। মন্দার এই কুফল ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদেরও ভোগ করতে হয়েছিল। growthrate বা প্রবৃদ্ধির হার দেখানোর জন্য Infrastructure Project খুবই ফলপ্রসূ এখানে সিমেন্টের উৎপাদন, ইট বালির উৎপাদন রডের উৎপাদন ও শ্রমিক নিয়োগ বৃদ্ধি পায়। ক্রয়বিক্রয় মূল্য ও শ্রমিক মজুরীতে তার প্রতিফলন ঘটে। প্রকল্পের সমাপ্তি পর্যন্তই এর প্রতিফলন, এরপর আর নাই।
সত্তর ও আশির দশকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে পল্লী উন্নয়ন-১ এবং সিরাজগঞ্জ সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে উল্লেখ করার মতো। এগুলোর অধীনে পল্লী এলাকায় অনেক রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছিল এবং কৃষি খাতেও (ফসল ও যন্ত্রপাতি) অনেক বিনিয়োগ হয়েছিল। তখন উদ্দেশ্যে ছিল urban drift বা শহরমুখীতা কমানোর জন্য পল্লী এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ক্ষুদ্র শিল্প প্রভৃতির সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্প পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ব্যাংক এই প্রকল্পগুলোর একটি inpact study করেছিল।
এতে দেখা যায় প্রকল্পগুলোর উৎপাদন কম্পোন্যান্ট কিছুটা সফল হলেও তার অবকাঠামো অংশ গ্রামীণ জীবনে কিছুটা সমস্যারও সৃষ্টি করেছে। এটি urban drift কমানোর পরিবর্তে বৃদ্ধি করেছে। ফলে শহরে বস্তিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। অবকাঠামো তৈরির জন্য গ্রামের মানুষ শ্রম দিয়েছে। তারা মাটি কেটেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট শিল্প বিকাশে এই প্রকল্পগুলো যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা ছিল অপর্যাপ্ত এবং ফলে প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় শ্রম দিয়ে তারা যে রাস্তা তৈরি করেছিল সেই রাস্তা দিয়েই তারা স্বল্প আয়াসে শহরে চলে এসেছে। রাস্তা যখন ছিল না তখন আসতে তাদের দেরি হতো। বর্তমানে যে অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলোর সাথে কৃষি গ্রামীণ শিল্প বা মৎস্য ও পশু পালন জাতীয় কোনও কম্পোনেট নেই। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে এর ফলে যে আমরা মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতি এবং মন্দার কবলে পড়বোনা এর কোনও গ্যারান্টি আছে বলে আমার মনে হয় না। দেখলাম, কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে, ধান চাষা বাদ দিয়ে মানুষ জমিতে মাছ চাষও করছে ব্যাপক ভাবে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যত ফলপ্রসূ রূপরেখা কি হবে আমাদের সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা তা ভেবে দেখতে পারেন।
এখন অন্য প্রসঙ্গে আসি। ওয়ার্ল্ড ইকনিমিক ফোরামের সম্মেলনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান অক্সফাম গত জানুয়ারি মাসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী সারা দুনিয়ায় ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে মারাত্মকভাবে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে দরিদ্র ও বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ ও হাতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা হচ্ছে ৭৬০ কোটি এবং এর অর্ধেক অর্থাৎ ৩৮০ কোটিই হচ্ছে দরিদ্র। এই ৩৮০ কোটি লোকের যে সম্পদ তার সমপরিমাণ সম্পদ ভোগ করছেন দুনিয়ার মাত্র ২৬ জন ধনী ব্যক্তি। ২০১৮ সালে বিশ্বের সম্পদশালী এই ব্যক্তিদের সম্পদ বেড়েছে দৈনিক ২৫০ কোটি ডলার হারে।
অক্সফাম আরো বলেছে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী জেফ বেজস্ ২০১৮ সালে ১১২০০ কোটি ডলারের সম্পদ আহরণ করেছেন। তার সম্পদের এক শতাংশের পরিমাণ হচ্ছে ইথোপিয়ার ১০ কোটি মানুষের এক বছরের স্বাস্থ্য বাজেটের সমান। অক্সফামের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ ৩৮০ কোটি লোকের আয় কমেছে ১১ শতাংশ। সংস্থাটির মতে শ্রেষ্ঠ ধনীরা (পূর্বে যে ২৬ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে) যদি তাদের সম্পদের উপর অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ (আধা শতাংশ) কর দেয়, তা হলে যে তহবিল সৃষ্টি হবে তা দিয়ে ২৬ কোটি ২০ লক্ষ শিশুকে লেখাপড়া শেখানো যাবে, যারা বর্তমানে স্কুলে যেতে পারে না। এ ছাড়াও এই অর্থ দিয়ে ৩৩ লক্ষ দরিদ্র লোককে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে এবং এতে করে তাদের জীবন বাঁচানো যাবে। রিপোর্টটির মতে আমরা যে দুনিয়ায় এখন বসবাস করছি সে দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ এখন অর্থবিত্ত ও মর্যাদা ও ক্ষমতা নিয়ে মত্ত, দরিদ্রের প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই এবং মানবতা তাদের পায়ে পিষ্ট হচ্ছে।
২০১৬-১৭ সালে প্রকাশিত ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশটির এক শতাংশ অতি ধনী সারা দেশের ৭৩ শতাংশ সম্পদের মালিক। তারা প্রাচুর্যের মধ্যে বিলাসী জীবন যাপন করে, পক্ষান্তরে দরিদ্ররা খেতে পায় না। তাদের শিক্ষা নেই, চিকিৎসা নেই।
বিশ্ব ব্যাংক সম্প্রতি Property and share Property শীর্ষক আরেকটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টটি ২০১৫ সাল সংক্রান্ত। এই রিপোর্ট অনুযায়ী ৫টি দেশে বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্র মানুষ বাস করে। এই দেশগুলো হচ্ছে, ভারত, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, ইথিওপিয়া এবং বাংলাদেশ। এতে বলা হয়েছে বিশ্বে দৈনিক ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম আয় করেন ৭৩ কোটি ৬০ লাখ লোক। এরমধ্যে উপরোক্ত দেশগুলোতে বাস করে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ লোক। ভারতে ২৪%, নাইজেরিয়ায় ১২%, কঙ্গোতে ৭%, ইথিওপিয়ার ৪% এবং বাংলাদেশে ৩%। এই রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ১ কোটি ৬২ লক্ষ মানুষ দৈনিক ১ ডলার ৯০ সেন্টের কম উপার্জন করে। বাংলাদেশী টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬১ টাকা বা মাসে ৪৮৩০.০০ টাকা। বিশ্ব ব্যাংকের এই হিসাবের সূত্রটি কি তা পরিস্কার নয়। এটা যদি দিন মজুরের আয় হয় তাহলে হয়ত কিছুটা সত্য হতে পারে। তারা সবদিন কাজ পায় না। এদেরকে হার্ডকোর দরিদ্র বলা যাবে না। এমন অনেকে আছে যাদের মোটেই আয় নেই। ভিক্ষাবৃত্তি করে। কাজ করার ক্ষমতাও নেই। তাদের সংখ্যা কোটির নীচে হবে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ‘ভিক্ষক মুক্ত’ এলাকায় ভিক্ষুকের প্রকাশ্যে ভিক্ষাবৃত্তির অবস্থা দেখলে এটা সহজেই বোঝা যায়।
আর্থিক গোয়েন্দা ও পরিসংখ্যান সংস্থা Wealth X (ওয়েলথ এক্স)-এর আরেকটি তথ্যও এখানে প্রনিধানযোগ্য। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অতিধনী বৃদ্ধির সংখ্যা ১৭.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বলা বহুল্য, বাংলাদেশী মুদ্রায় যাদের সম্পদের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা, তাদের অতি ধনী বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিগুণ এবং যদি চক্রবৃদ্ধি হার বিবেচনা করা হয় তাহলে প্রতি ৫ বছরে আমাদের অতি ধনীর সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। ২০১২ সালে তাদের সংখ্যা যদি ১০০ থেকে থাকে, তাহলে ২০১৭ সালে ২২০ এ এসে দাঁড়ায়। এই সংখ্যাকে যদি স্থির ধরে নেয়া হয় এবং প্রত্যেকের ২৫০ কোটি টাকা আছে বলে মেনে নেয়া হয়, তাহলে তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫,০০০ কোটি টাকা। তাদের ছাড়াও আরো অনেক ধনী আছেন, যাদের সম্পদ ২৫০ কোটি টাকার নিচে, অতি ধনী না হলেও মাঝারী ও ছোট ধনী।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গত ৮ বছরের জাতীয় আয়ের বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, আমাদের জাতীয় আয়ে জনসংখ্যার দরিদ্রতম ১০ শতাংশের হিস্যা ২ শতাংশ থেকে কমে ১.০১ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ আয় সম্পদ ও ধনী দরিদ্র্যের বৈষম্য সাংঘাতিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধনীর সংখ্যা ও ধনীর সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, দরিদ্র আরো দরিদ্র হচ্ছে। সম্পদ গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত হওয়া এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। একটা কথা আছে Poverty any where is a threat to prosperity every where, দুনিয়ার যে কোনো প্রান্তের দারিদ্র্যই সমৃদ্ধির জন্য সর্বত্র একটি হুমকি। দারিদ্র্য নিরসন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।
দারিদ্র্য নিরসনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বড় কথা। যারা কর্মক্ষম তাদের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও সুদবিহীন মূলধন প্রাপ্তির এবং বাজারজাতকণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারলে দরিদ্রদের যে সামর্থ্য আছে তা তারা প্রমাণ করে দিতে পারে। যাদের কাজ করার ক্ষমতা নেই, অসহায়, তাদের সরকারের Safetynet program-এর আওতায় আনা অপরিহার্য। শতাব্দির শুরুতে অনেকে গর্ব করে বলতেন যে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য যাদুঘরে চলে যাবে। আজ পর্যন্ত কি তার লক্ষণ দেখা গেছে? Millenium Development Goal অর্জন করতে পেরেছি? অবশ্যই। দারিদ্র্যের যন্ত্রণা দিন দিন বরং বাড়ছে।
ইসলাম দারিদ্র্য বিমোচনের অনেকগুলো ইনস্ট্রুমেন্ট বাতলে দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে জাকাত, ফেতরা, আওকাফ প্রভৃতি প্রধান। জাকাতকে করুণা নয়, বরং ধনীদের সম্পত্তিতে দরিদ্রদের অংশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের ধনীর সংখ্যা বাড়ছে। সাথে সাথে যদি তারা তাদের সম্পত্তিতে দরিদ্রের অংশটি দিয়ে দেন এবং সরকার তা আদায় করে শরিয়ত অনুযায়ী বণ্টনের ব্যবস্থা করেন তাহলে দারিদ্র্যের যেমন নিরসন হবে তেমনি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যও কমে আসবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনও সম্ভব হবে। এ জন্য নতুন ওয়াকফ সৃষ্টি এবং পুরাতন ওয়াকফগুলোকেও সক্রিয় করা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ