ঢাকা, বুধবার 3 April 2019, ২০ চৈত্র ১৪২৫, ২৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিডিয়ার বড় দুঃসময়

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : স্বাধীন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের চলার পথ কখনও মসৃণ ছিল না। এখনও মসৃণ নেই। অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের যাত্রাপথে আমরা যেমন বারবার হোঁচট খেয়েছি। তেমনি মিডিয়ার স্বাধীনতার লড়াইও বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই ৪৮ বছরেও তার সামান্যও উন্নতি হয়েছে এমন দাবি করা যায় না। যদিও একথা সত্য যে, গণমাধ্যমের আকার বেড়েছে। ১৯৭২-৭৫ সময়ে মিডিয় বলতে শুধু সংবাদপত্রকেই বোঝাতো। তখন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিকাশ ঘটেনি। টেলিভিশন বলতে ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’। তার কাজই ছিল সরকারের কর্মতৎপতা আর মন্ত্রী ও সরকার দলের নেতাদের বক্তব্য প্রচার। ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন সে সময়ও জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল না। তবু সিনেমা বা নাটক দেখার জন্য মানুষ টেলিভিশনের সামনে বসতেন। খবর হলে বন্ধ করে দিতেন। সরকারের ভোঁতা গুণ-কীর্তন কত আর সহ্য করবেন। তবে সংবাদপত্র ছিল। সেসব সংবাদপত্র সরকার সমর্থক যেমন ছিল, তেমনি ছিল সরকারের সমালোচকও। কিন্তু সদ্য স্বাধীন দেশের নতুন সরকার সেসব সমালোচনা সহ্য করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাদের কাছে অসহ্য ছিল ভিন্নমত। তা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের প্রতি নিবেদিত থেকে সে সময় অনেক সংবাদপত্রই সত্য প্রকাশ করার ব্রত গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সেটুকু সহ্য করার শক্তি ও অভিপ্রায় সদ্য স্বাধীন দেশের তৎকালীন সরকারের ছিল না। ফলে স্বপ্নভঙ্গের কাল শুরু হয়েছিল একেবারে প্রথম থেকেই। শাসকগোষ্ঠী সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। সরকারের মন্ত্রী-এমপি, নেতা-পাতিনেতারা প্রতিদিন কোনো না কোনো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। তখন দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গিয়েছিল। বাজার হয়ে পড়েছিল নিয়ন্ত্রণহীন। চোরাকারবার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছিলো। কালোবাজারি, কারসাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল মানুষ। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা-এগুলো প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ব্যাংক লুট, দুর্নীতি ঢাকার জন্য পাটের গুদামে অহরহ আগুনের ঘটনাও ছিল দৈনন্দিন খবর। এর ওপর বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নির্বিচার গ্রেফতার, হামলা-মামলা তো ছিলই। কোনো কোনো সংবাদপত্র এসব সত্য প্রকাশ করে দিচ্ছিল। সংবাদপত্র ফের সত্য প্রকাশ করে- সেটি ছিল শাসক গোষ্ঠীর সহ্যের অতীত।
ফলে সংবাদপত্রের ওপর শুরু হয় দলন-পীড়ন। এতো দিনে শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রের চর্চাকেও সংকুচিত করে ফেলেছিল। তাদের কাছে ভিন্নমত একেবারেই অসহ্য হয়ে উঠেছিল। যে সকল রাজনীতিক সারা জীবন গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা বলেছেন, ক্ষমতায় বসে তারা ভিন্নমত দলনে একেবারে অন্ধ হয়ে গেলেন। একের পর এক আইন জারি করে চিন্তার স্বাধীনতার পথও রুদ্ধ করে দিলেন। গ্রেফতার করা হলো সংবাদপত্রের সম্পাদকদের। একের পর এক বন্ধ করে দেয়া হলো সংবাদপত্র। সাপ্তাহিক ‘হলিডে’ বন্ধ করে এর সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খানকে গ্রেফতার করা হলো, দৈনিক গণকন্ঠের সম্পাদক আল-মাহমুদকে গ্রেফতার করা হলো। মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ‘হক কথা’ বন্ধ করে তার সম্পাদক ইরফানুল বারীকে গ্রেফতার করা হলো। ‘স্পোকসম্যান’ ও ‘মুখপত্র’ পত্রিকা বন্ধ করে এর সম্পাদক ফয়জুর রহমানকে গ্রেফতার করা হলো। বন্ধ করে দেয়া হলো চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘ইস্টার্ন এক্সামিনার’ পত্রিকা। শুধু সম্পাদক নয়, গ্রেফতার করতে শুরু করলো সাংবাদিকদেরও। দেশে মৃতপ্রায় গণতন্ত্র খাবি খেতে থাকলো। কিন্তু শাসক দল ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে ছিল অন্ধ ও বদ্ধপরিকর। ইতিহাস-অজ্ঞ শাসকগোষ্ঠী জনগণের রাষ্ট্র নিজেদের কুক্ষিগত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জারি করতে থাকে একের পর এক কালা-কানুন। আর এই সকল কালাকানুন এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে তার প্রতিটি ধারার মাধ্যমে সংবাদপত্রকে সিজিল করে দেয়া যায়। কারণ সংবাদপত্র সত্য প্রকাশ করে দেয়। সত্যকে বড় ভয়। ফলে সংবাদপত্রের ওপর খড়গটা সব সময় তারা ঝুলিয়ে রেখেছে। আস্তে আস্তে শাসক দলের কু-ইচ্ছায় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা উভয়ই সংকুচিত হতে শুরু করে। বিষয়টা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। শাসকগোষ্ঠীর মনে তখন থেকেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। আর তারা সে পথেই অগ্রসর হতে থাকে। শুরু হয় বিরোধী দল নির্মূলের প্রক্রিয়া। আর ভিন্ন মত প্রকাশের মাধ্যম সংবাদপত্রের ওপর হামলা। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার ওপরও বাধা-নিষেধ আরোপিত হতে থাকে। শুরুতে তারা ভেবেছিল, এই দমন-পীড়নের মধ্য দিয়েই তারা বোধকরি নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতে পারবে। কিন্তু নিরীক্ষার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারল, কেবলমাত্র দমন-পীড়ন আর বিধি-নিষেধ আরোপ করে মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তখনই তারা বলপ্রয়োগের পথ অবলম্বন করল।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তারা দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিল। এ রকম একটি চরম ব্যবস্থা নেয়ার আগে জনগণের ইচ্ছাকে তারা আমলেই নিল না। জনগণ এ রকম ব্যবস্থা চায় কিনা বা সমর্থন করে কিনা, সেটা জানার কোনো রূপ চেষ্টাও তারা করল না। অথচ সংবিধান অনুযায়ী জনগণই দেশের মালিক। ফলে গোটা দেশ জনগণের না হয়ে এক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতার গ-িতে আবদ্ধ হয়ে পড়ল। এই স্বেচ্ছাচারিতার অংশ হিসেবেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। গঠন করা হলো নতুন দল ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ তথা ‘বাকশাল’। গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়ে গেল। ফরমান জারি হলো, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিডিআর ও সকল সরকারি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে বাকশালে যোগদান করতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমান সম্ভবত ভেবেছিলেন যে, এ রকম একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেই সমস্ত লোক বাকশালপন্থী বা একদলীয় শাসনপন্থী হয়ে যাবেন। চতুর্থ সংশোধনীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বদলে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, ‘যেন তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।’ মাত্র কয়েক মিনিটে পার্লামেন্টারি শাসন পদ্ধতির বদলে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন পদ্ধতি চালু করা হ। বিচারপতিদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয় নব ঘোষিত প্রেসিডেন্টকে। শুধু নিয়োগ নয়, বরখাস্ত করার ক্ষমতাও। ফলে বিচার বিভাগও শেখ মুজিবের পদানত হয়ে পড়ে। আর এই চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করা হয় যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেখ মুজিবের স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যাবার কোনো পথ খোলা থাকে না।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর খুব স্বাভাবিকভাবেই সংবাদপত্র জগতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। দল, মত-পথ যদি একটিই, তা হলে ভিন্ন মতের সংবাদপত্রের তো আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। সংবাদপত্রগুলো টিকবে তো। এমনিতেই ভিন্ন মতের সংবাদপত্রগুলোর ত্রাহি অবস্থা তখন চলছিল। বিজ্ঞাপন বন্ধ। নিউজপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন-এ সবের মাধ্যমে সংবাদপত্রের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছিল। তার ওপর বাকশাল। সারাদেশে হাজার হাজার সংবাদপত্র কর্মী আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন। কী হবে ভিন্ন মতের, কী হবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের রুটি-রুজির। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত সকলের আশঙ্কাই সত্যি হলো। সরকার জারি করল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল অধ্যাদেশ। সরকার মাত্র চারটি সংবাদপত্র নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে রাতারাতি সকল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করে দিল। সবুরে শান্তি। গণমাধ্যম আর সরকারের বিরোধিতা করতে পারবে না। কিন্তু শাসক দল বুঝতে পারছিল না যে, অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না। ঐ চারটি সংবাদপত্রের  (দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস ও বাংলাদেশ অবজার্ভার) তখন দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াল, কেবলই সরকারের গুণ-কীর্তন করা। তবে একথাও সত্য যে, বন্ধ হওয়া সংবাদপত্রগুলোর সাংবাদিকদের সরকার যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছিল। তার পরের কাহিনী করুণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান অনিবার্য সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সপরিবারে খুন হন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমাদ। সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থান চলতে থাকে। আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। ধীরে ধীরে তিনি দেশে ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। সে সময় সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতা প্রয়াত নির্মল সেনকে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, হাত খুলে লিখুন, আমার বিরুদ্ধে লিখুন। নির্মল সেন দৈনিক বাংলায় (তিনি দৈনিক বাংলার সহকারি সম্পাদক ছিলেন) লিখেছিলেন তাই স্মরণীয় নিবন্ধ-‘পাখা ভারী হয়ে গেছে।’ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু বন্দী থাকতে থাকতে এখন আর উড়তে পারছি না। সেভাবে আবার সংবাদপত্র বিকশিত হতে থাকে।
এখন পুনরায় আতঙ্কের কাল। এখন সংবাদপত্র আদর্শের চেয়ে বড় পুঁজির ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। সংবাদপত্রের সংখ্যা অনেক। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, শত কোটি টাকার ব্যবসা স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল। দেশে এখন বহুসংখ্যক টিভি চ্যানেল। সরকার দেশ থেকে বিরোধী দল নির্মূলে মরিয়া। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেত্রীকে ঠুনকো অজুহাতে ১৪ মাস ধরে নির্জন কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। তিনি যাতে জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন, তার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সরকার জামিন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে। দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিতে সরকার নানাবিধ আইন প্রণয়ন করছে। লুটে লুটে ব্যাংকগুলো ফোকলা হয়ে গেছে। এই লুটেরাদের জন্য সরকার প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ছাড় দিচ্ছে। ব্যাংকের লুন্ঠনকৃত টাকা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগই লক্ষ্যণীয় নয়। এদিকে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ নির্বাচন কমিশন মিলে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। গণতন্ত্র উধাও হয়ে যাচ্ছে। সমাজে উচ্ছিষ্টভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। টেলিভিশনের টকশোগুলোতে সরকারের কীর্তনকারের সংখ্যা বেড়েছে। কেউ সাহস করে বলছে না যে, ‘রাজা, আপনি তো ন্যাংটা’। এ রকম তেলবাজি কথা ১৯৭৪ সালে বাকশাল গঠনের পর মতলবাজরা দল বেঁধে মিছিল করে বাকশালে যোগ দিয়েছে। তখন আইন করে বিরোধী দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে গেছে বল প্রয়োগের মাধ্যমে। ভিন্নমতের জায়গা ফের সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
আর গণমাধ্যম? সবই আছে সরকারের কব্জায়। সরকার সমর্থক লোকেরাই সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোর মালিক। যে কয়টি সংবাদপত্র বা টেলিভিশন ভিন্ন মতের ছিল, তাও ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ হয়েছে, আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান। ভিন্নমতেরই আরও দু’একটি যে সংবাদপত্র আছে, আর্থিক অনটনে সেগুলোও ধুকছে। ১৯৭৫ সালে আইন করে সরকারের গুণ-কীর্তন করার জন্য চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন যারা চালু আছে, তার প্রায় সবই সরকারের কীর্তন গাইছে। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে এই বলে সাবধান করে দিয়েছেন যে, ‘এসব মিডিয়ার লাইসেন্স তিনি দিয়েছেন। যে দিতে পারে, সে নিতেও পারে।’ ফলে এখন সবাই সেলফ-সেন্সরড। সত্য প্রকাশ খাবিখাচ্ছে। এরমধ্যে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ধুন্ধুমার ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলছে। যেসব চ্যানেল এক সময় লাভজনক ছিল, সেগুলোতে এখন লোকসান গুণছে। ছাঁটাই হচ্ছে সাংবাদিক। ফলে গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য এখন কোনো সুখবর নেই। তবু আমরা সুদিনের অপেক্ষা করছি। শুভবুদ্ধির প্রতীক্ষায় আছি। ‘আমরা তো তিমির বিনাশী হতে চাই/আমরা কি তিমির বিলাসী?’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ