ঢাকা, বুধবার 3 April 2019, ২০ চৈত্র ১৪২৫, ২৬ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মূল্যবোধ অবক্ষয় ও ন্যায্যতা

ইবনে নূরুল হুদা : অষ্টাদশ শতকে ফরাসিদের মধ্যে যে দু’টি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যেত তা হলো-মূল্যবোধ ও নায্যতায় আপোষহীনতা। সমসাময়িককালে ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থা ফরাসীদের সাথে তুলনীয় না হলেও সে সময় ভারতবর্ষে যে মূল্যবোধের চর্চা ছিল না তা বলা যাবে না। কিন্তু এখন সে অবস্থা আর অবশিষ্ট নেই। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থাটা আরও প্রান্তিকতায় নেমে এসেছে। যা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ও সভ্য সমাজের চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্যকেই দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অর্থবিত্ত, ক্ষমতা, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা থাকার পরও শুধুমাত্র মূল্যবোধ ও নায্যতার সঙ্কট ব্যক্তির সকল অর্জনকে ম্লান করে দেয়। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশ ও জাতিসত্ত্বার ওপর। মূল্যবোধের সঙ্কটের কারণেই অবক্ষয় ও অশিক্ষার প্রভাবটাও আমাদের সমাজরাষ্ট্রে রীতিমত লাগামহীন। ফরাসীদের মূল্যবোধ ও নায্যতার ভিত্তিমূল মজবুত থাকায় তারা একটি সফল বিপ্লব সাধনে সক্ষম হয়েছিল। যা ফরাসী বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দী এসেও আমরা মূল্যবোধের দুর্বলতা ও মাত্রাতিরিক্ত অবক্ষয়ের কারণেই পশ্চাদপদই রয়ে গেছি। ফলে স্বেচ্ছাচারিতা, নগ্নতা, গণমানুষের অধিকার হরণ ও অনাধিকারের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে।
মূল্যবোধ ও নায্যতা জাতির জীবনী শক্তি। মহাশূন্যে যেমন প্রাসাদ নির্মিত হয় না, ঠিক তেমনিভাবে মূলবোধ ও নায্যতাহীন সমাজ কাঠামোও অন্তঃসারশূন্য। বস্তুত কোন জাতির মূল্যবোধের চর্চা ও নৈতিক চরিত্র যখন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে তখন অবক্ষয় ও অশিক্ষার প্রাবল্য দেখা দেয়। ফলে সে জাতির পতনও হয় অবশ্যাম্ভাবী। বিষয়টি আরো ভালভাবে উপলব্ধি করতে হলে অবক্ষয়ের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানা দরকার। সমাজবিজ্ঞানী David Popenoe তাঁর ‘Sociology’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘Idea Shared by members of a Society about what is good and bad, right and wrong, desirable and Undesirable’. অর্থাৎ ভাল-মন্দ, ঠিক-বেঠিক কাঙ্খিত-অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের সদস্যদের যে ধারণা তার নামই ম্ল্যূবোধ। বস্তুত, মূল্যবোধ হলো কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত সম্পর্কে সমাজে বিচার বিশ্লেষণমূলক রায়, সত্য বা মিথ্যা তথা উচিত বা অনুচিত সম্পর্কে সামাজিক ধ্যান-ধারণা। মূল্যবোধের মধ্যে একটি আবেগীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। কেননা এটি যে কোন কাজ বা বিষয়কে মূল্যায়ন করে এবং কোনটি সঠিক বা কোনটি সঠিক নয় সে সম্পর্কে নির্মোহভাবে দিকনির্দেশনা দেয়। ফলে কোন ব্যক্তি সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়ে যখন কোন কিছুকে ভাল বা মন্দ জ্ঞান করে তখন সে দৃঢ় চিত্তেই করে এবং সে মনে করে এটি সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই এ ব্যাপারে সে অনেকটা অনমনীয়ভাবে দৃঢ় চিত্তে আবেগীয় মানসিকতায় সকল কিছুকেই মূল্যায়ন করে।
বস্তুত, মূল্যবোধের অনুপস্থিতিই অবক্ষয়ের সূচনা করে। অবক্ষয় বলতে আমরা সাধারণত সামাজিক কিছু স্খলন বা চ্যুতি-বিচ্যুতিকেই বুঝি। যেমন-মাদক; ইয়াবা, ফেন্সিডিলিন, গাঁজা, হিরোইন, প্যাথেড্রিন, পর্ণগ্রাফী আসক্তি-অনিয়ন্ত্রিত, অনায্য এবং অপরিণত যৌনাচারসহ কিছু সামাজিক অপরাধকে অবক্ষয় হিসেবে চিত্রিত করা হয়। বাস্তবে এর ব্যাপ্তী আরও অনেক বেশী বিস্তৃত। মূলত ক্ষয়প্রাপ্তি, সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা, ধৈর্য, উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যকার নৈতিক গুণাবলী লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে অবক্ষয়। মূল্যবোধ ও অবক্ষয় পরষ্পর বিরোধী; সাংঘর্ষিক। তাই মূল্যবোধ যেখানে দুর্বল, অবক্ষয় সেখানেই প্রবল। আলো-আধারের মধ্যে যেমন সহাবস্থান নেই, ঠিক তেমনিভাবে অবক্ষয় ও মূল্যবোধ একসাথে চলতে পারে না।  মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও বলা হয়, নিকটবর্তী স্থূল সুখের চেয়ে দূরবর্তী সুখকে, ভোগ-বিলাসের চেয়ে সৌন্দর্যকে, লাভজনক কিন্তু অনৈতিক কৌশলের চেয়ে আনন্দপ্রদ সুকুমারবিদ্যাকে শ্রেষ্ঠ জানা এবং এসবের জন্য প্রতীক্ষা ও ত্যাগ স্বীকার করতে শেখা। আর নায্যতা হলো, জীবনের সকল ব্যাপারকে বিচারবুদ্ধির কষ্টিপাথরে যাচাই করে নেবার প্রবণতা। উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থান বেশ হতাশাব্যাঞ্জক।
মূল্যবোধ বিবর্জিতদের বিচারবুদ্ধি ক্ষুদ্র ও বৈষয়িক স্বার্থে কলঙ্কিত হয় এবং নিকটবর্তী স্থূল সুখই তাদের কাম্য। মূল্যবোধের অনুপস্থিতি ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও সৎগুণাবলীকে বিনষ্ট করে। তাই ব্যক্তির বহিরাবরণ চাকচিক্যময় হলেও কর্মে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে একজন রাজনীতিকের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করা যেতে পারে। তিনি এক নির্বাচনী সভায় বলেছিলেন, ‘আপনারা যোগ্য নয় বরং মূল্যবোধসম্পন্ন লোকদের ভোট দেবেন। মূল্যবোধের সাথে যদি যোগত্যার সমন্বয় ঘটে তবে তা হবে সোনায়-সোহাগা। কিন্তু মূল্যবোধহীন যোগ্য লোক নির্বাচিত হলে তাদের প্রতারণাও হবে যোগ্যতর। যা থাকবে একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে; উপলব্ধিরও বাইরে’। এসব মূল্যবোধহীন যোগ্য লোকের লক্ষ্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, অসুন্দর ও কদাকার ভোগবিলাসই তাদের উদ্দেশ্য। এরা বৃহতের অকল্যাণ করে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত। মানবতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নায্যতা তাদের কাছে পদদলিত হয়। নায্যতা আর মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে দূরবর্তী সূক্ষ্ম সুখ আর সৌন্দর্যই প্রধান, নিজ স্বার্থ কোনো বিষয় নয়-অপরের কল্যাণই প্রাধান্য দেয়। এরা আইনকে অবজ্ঞা নয় বরং মেনে চলে যদিও সেটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রও হয়। পক্ষান্তরে মূল্যবোধ বিবর্জিতরা আইন অমান্য ও মানুষের অকল্যাণকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
মূল্যবোধ সয়ংক্রিয়ভাবে জাগ্রত হয় না বরং রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক পরিসরে এজন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রই নাগরিকের সবকিছুই দেখভাল করে, তাই মূল্যবোধের লালন ও চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্বও রাষ্ট্রের। তাই নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রের প্রথম কর্তব্য হবে নৈতিকশিক্ষা ও মূলবোধের চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া। এক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষাকে অবারিত করাকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া জরুরি। তবে সব শিক্ষিতই যে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হবেন বা অবক্ষয় মুক্ত থাকবেন এমনটা আশা করাও ঠিক নয়। যেসব মানুষ সুশিক্ষিত হতে পারেনি অর্থাৎ শিক্ষার মাধ্যমে সুকুমারবৃত্তির পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেনি তাদের মাধ্যমে মূল্যবোধ ও নায্যতার চর্চা কখনো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সুশিক্ষাই কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত। কেউ যখন সুশিক্ষিত হয়ে উঠেন তখন তার মধ্যে আপনা-আপনিই নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। তিনি অবক্ষয় মুক্ত থকার চেষ্টা করেন। আর তা ফুলে-ফলে সুশোভিত করার জন্য প্রয়োজন হয় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অনুকূল পরিবেশ বা পৃষ্ঠপোষকতা। সুশিক্ষিত তিনিই যিনি তার শিক্ষাকে সৎ আর ন্যায়ের পথে নিয়োজিত করেন। যৌক্তিক বিষয়াদিকে যৌক্তিক বোঝার পর নিজ স্বার্থের দিকে নজর না দিয়ে, অযৌক্তিকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত গ্রহণ করেন। বস্তত, সুশিক্ষা আর নায্যতার গতিপথ খুবই সমান্তরাল। যিনি যতটুকু সুশিক্ষিত তিনি ততটুকু যৌক্তিক এবং তিনি ভোগ-বিলাস অপেক্ষা সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আত্মপুঁজার পরিবর্তে মানবতার কল্যাণ, সুন্দর ও সুকুমার বৃত্তির চর্চা করেন। আর যারা এর ধার ধারেন না তারা তাদের আকাঙ্খিত বস্তুটি যুক্তিবিচারের বাইরে গিয়ে যে কোনো উপায়েই হোক আত্মস্বার্থ চরিতার্থের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। অবক্ষয়ের শুরুটা তো সেখান থেকেই। সুশিক্ষার আরেকটি বৈশিষ্ট হলো জ্ঞানের উৎকর্ষতা। আমাদের সমাজে বেশি বুদ্ধির লোকের অভাব খুব একটা নেই, কিন্তু বুদ্ধির উৎকর্ষতায় শীর্ষে এমন লোকের সংখ্যা খুববেশী নয়। বেশি বুদ্ধির লোকদের বলা হয় চতুর। যারা বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধনে সক্ষম হন, তাদের বলা হয় মনীষা। রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালে দেখা যায় রাজনীতিতে বেশি বুদ্ধির লোকের অভাব নেই, কিন্তু বুদ্ধির উৎকর্ষতায় শীর্ষে এমন রাজনীতিকের সংখ্যা খুব বেশী নয়। তবুও যেসব রাজনীতিবিদেরা বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধন করতে পেরেছেন, তাঁরা স্মরণীয় ও বরণীয় আছেন। কিন্তু একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও যথাযথ গণসচেতনার অভাবেই আমাদের মূল্যবোধের পারদটা ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।
 দেশ ও জাতিকে এই সংঙ্কটাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হলে সমাজরাষ্ট্রে অবক্ষয়মুক্ত এমন সংস্কৃতিবান মানুষের আধিক্য প্রয়োজন যারা মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রশ্নে আপোষহীন। একই সাথে রাজনীতিতেও গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বস্তুত প্রকৃত সংস্কৃতিবানরা অন্যায়, অনৈতিকতা ও নিষ্ঠুরতাকে কখনোই সমর্থন করেন না। নিষ্ঠুরতা হলো শাস্তি যার প্রাপ্য নয় তবুও তাকে শাস্তি দেওয়া। মূলত আমাদের সমাজে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিচ্যুতির কারণেই অবক্ষয়, সামাজিক অনাচার ও নিষ্ঠুরতা বেড়েছে।
সম্প্রতি জনৈক্য আবু সালেকের অপরাধে জাহালম নামে এক নিরাপরাধ শ্রমিকের ৩ বছরের কারাবাস নিষ্ঠুরতার দিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে। এ ধরনের জাহলমের সংখ্যা আমাদের দেশে নেহাত কম নয়। ভিন্নমতের জাহালমদের আর্তনাদ তো এখন আর কারো কর্ণকুহরেই প্রবেশ করে না। এসব রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের অবক্ষয়ের ক্ষত চিহ্ন। মূলত আমাদের সমাজরাষ্ট্রে এখন সকল ক্ষেত্রেই অবক্ষয়ের জয়জয়কার চলছে। শেয়ার মার্কেট, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ডেসটিনি, হলমার্ক সর্বপরি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কেলেঙ্কারীর ঘটনা নৈতিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি ও অবক্ষয়ের ব্যাপকতার প্রতিই অঙ্গুলী নির্দেশ করে।
এখন সকল ক্ষেত্রেই অবক্ষয় সর্বগ্রাসী রূপ লাভ করেছে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সকল পর্যায়েই এর পরিসর বিস্তৃতি। অবক্ষয় যে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে তা সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রীক ঘটনা প্রবাহ থেকেই প্রমাণিত। সম্প্রতি পরকীয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। মূল্যবোধের অনুপস্থিতি ও অবক্ষয়ের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণেই এ ধরনের অপরাধ এখন ক্রমবর্ধমান। এজন্য দেশে গণমূখী ও সুস্থধারার রাজনীতির বিচ্যুকেই অনেকেই দায়ি করেন।
বস্তুত রাজনীতির পরিসর খুবই বৃহত। রাজনীতি দেশ ও জনগণের আমূল কল্যাণের জন্য আবর্তিত হয়। এতে মূল্যবোধ আর নায্যতার ভিত্তি মজবুত না থাকলে কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণই হয় বেশি। রাজনীতিকদের যদি মূল্যবোধের স্তর নি¤œমানের হয় তবে তা আর রাজনীতি থাকে না বরং অপরাজনীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর কুপ্রভাবে হাজারো মূল্যবোধ নষ্ট হয়। ব্যক্তির মূল্যবোধ নষ্ট হলে ক্ষতি শুধু একজনের, কিন্তু শাসক শ্রেণির মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রবাদ আছে, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়’। আমাদের প্রেক্ষাপটাও বোধহয় তা থেকে আলাদা নয়। অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে ধর্মবিমুখতা, ধর্মের অপব্যবহার, ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা, অসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং সর্বগ্রাসী অশ্লীলতার মতো আরও কিছু বিষয়। ধর্মের যথাযথ চর্চা ও অনুশীলন কখনোই ধর্মান্ধতা শেখায় না বরং ধর্মীয় আদর্শের মাধ্যমেই ধর্মান্ধতার অভিশাপ মুক্ত হওয়া সম্ভব। ধর্মই মানুষের জীবন প্রণালী অন্যান্য ইতর প্রাণী থেকে আলাদা করেছে; মানুষকে সভ্য, সংবেদনশীল ও পরিশীলিত করেছে। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আমরা ধর্মকে মনে করি এগিয়ে চলার পথের প্রধান অন্তরায়। কিন্তু বাস্তবতা সে ধারণার অনুকূলে কথা বলে না।
বস্তত, প্রতিটি সভ্যতাই গড়ে উঠেছিল কোনো না কোনো ধর্মকে আশ্রয় করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটি সভ্যতার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেটি ধর্মকে বিসর্জন দিয়ে গড়ে উঠেছে। তাই একটি নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি সৃষ্টি ও অবক্ষয়হীন সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহীতার অনুভূতি সৃষ্টি, ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্প্রসারণ, লালন ও অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই। মনীষী সাইয়্যেদ কুতুব ভাষায়, ‘যে সমাজে মানবীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রধান্য থাকে সে সমাজই সভ্য সমাজ’।  inhuda71@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ