ঢাকা, শনিবার 6 April 2019, ২৩ চৈত্র ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন প্রসঙ্গ

বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রতি এখন ভোটারদের কোনও আস্থা নেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভোট সিস্টেমকেই কলঙ্কিত করে ফেলেছে। তাই নির্বাচনের দিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান না। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসার ও কর্মীরা কেন্দ্রে যান ঠিকই। নির্বাচনের যাবতীয় সরঞ্জামাদি তথা ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কালি ইত্যাদি যথাসময়ে পৌঁছে যায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে। কিন্তু ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে প্রত্যেক নির্বাচনে। ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে গরুছাগল থেকে শুরু করে লেজবাঁকা বিশেষ একটি প্রাণিকে প্রায়শ নিদ্রামগ্ন দেখা যায়। বিভিন্ন মিডিয়ার রসিক ফটোগ্রাফাররা এই প্রাণিটির ছবিও তাঁদের হাউজে যত্নসহকারে পাঠান এবং তা ভোটের পরের দিন পত্রিকার প্রথম পাতার ফোল্ডিংয়ের ওপরেই দৃষ্টিনন্দন করে ছাপা হয়। এছাড়া পোলিং বুথে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও প্রার্থীদের এজেন্ট ব্যতীত ভোটারও প্রায় দেখা যায় না। তাই সামান্য ব্যতিক্রম ব্যতীত ভোটগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চায়ের কাপে মুখ লাগিয়ে গল্পগুজব করে সময় পার করেন। তবে ব্যালট বাক্স ভরে থাকে ঠিকই। কারণ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরাট করে রাখা হয়। প্রধাননির্বাচন কমিশনারও একথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। এমনটাই হচ্ছে সাম্প্রতিককালের ভোটের বাস্তবতা। এমনকি ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর খোদ প্রধাননির্বাচন কমিশনার ভোট দিতে গিয়ে দেখেন যে তিনিই সে কেন্দ্রের প্রথম ভোটদাতা।
নির্বাচনের প্রতি ভোটাররা কতটা আস্থাহীন এবং ক্ষুব্ধ হলে নির্বাচনকেন্দ্রের এমন দুর্বিষহ এবং সুনসান অবস্থা হতে পারে তা কি আমাদের নির্বাচন কমিশন ভেবেছে? সবাই না ভাবলেও দুয়েক জন কমিশনারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্য ভাবতে দেখা গেছে। একজন স্বাধীনচেতা নির্বাচন কমিশনারকেতো প্রায়শ বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে দেখা যায়। অবশ্য এজন্য তাঁকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজনও হতে হয়েছে। তবে বৈরী পরিবেশে থেকেও তিনি যে সততা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন এজন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। তাঁর দৃঢ়তা এবং সাহসিকতা জাতিকেও সাহসী ও শক্তসামর্থ রাখতে প্রাণিত করবে বলে আমরা মনে করতে চাই।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে আর কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হবে না, তা এখন নিশ্চিত করেই বলা যায়। অথচ কাগজেকলমে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের আইন এবং সংবিধান এ কমিশনকে অবাধ অমোঘ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে এমন শক্তিধর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহে পরিণত হয়েছে। কোনওক্রমেই ক্ষমতাসীনদের নাগপাশ থেকে অবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের কাজ সুসম্পন্ন করতে পারছে না। আর এরই অনিবার্য দৃশ্যপট আমরা প্রত্যক্ষ করছি সাম্প্রতিক সর্বস্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। তবে এমন প্রহসনের নির্বাচন দেশ, জাতি এমনকি এখন যারা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন তাঁদের জন্যও কল্যাণবহ নয়। এ উপলব্ধি যতো ত্বরান্বিত হবে দেশ এবং জাতির ভাগ্যাকাশ থেকে কালো মেঘের ঘনঘটা ততটাই অপসারিত হবে বলে আশা করা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ