ঢাকা, রোববার 7 April 2019, ২৪ চৈত্র ১৪২৫, ৩০ রজব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জের চৌহালী বেলকুচি শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ায় চলছে বৈশাখী শাড়ী তৈরির ধুম

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) : পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটিকে ঘিরে বাঙ্গালীর জীবনে উৎসাহ উদ্দিপনার জুড়ি নেই। দিনটিকে যথাযথভাবে পালন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাদেশের মানুষ। ঐ দিনটিতে প্রতিটি বাঙ্গালী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক শাড়ি, লুঙ্গী, পাঞ্জাবী, ফতুয়া, ইত্যাদি পরিধান করে থাকে। আর এ উৎসবকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার তাঁতীরা বাহারি ডিজাইনের বৈশাখী শাড়ী, লুঙ্গী উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
শ্রমিক কর্মচারীরের পাশাপাশি বাড়ির সবাই এখন ব্যস্ত এ কাজে। পহেলা বৈশাখে সিরাজগঞ্জের শাড়ীর ব্যাপক সুনাম ও চাহিদা থাকায় শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, ফতুয়াসহ অন্যান্য বৈশাখী পোশাক তৈরীতে তাঁত পল্লীর পাশাপাশি প্রিন্টিং কারখানার শ্রমিকদের বিশ্রামের সুযোগ নেই। তারা দিনরাত নতুন নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন সাইজের শাড়ি ও লুঙ্গি সহ পোশাক প্রিন্ট করছে।সিরাজগঞ্জের এচারটি উপজেলার তামাই, চন্দনগাঁতী, শেরনগর সহ শতাধিক গ্রামের বিভিন্ন কারখানায় চলছে বৈশাখী শাড়ী তৈরির কাজ।  এছাড়া লাল পাইড় সাদা শাড়িতে বাংলার ঐতিহ্য হাতি-ঘোড়া, পলো, ইলিশ, নৌকা, ধানের শীষ, লাঙল, হাত পাখা, ঘুড়িসহ নানা ধরনের আল্পনা আঁকা হচ্ছে। লুঙ্গি, থ্রি পিছ ও ফতুয়া প্রিন্টের কাজে এবং রং তুলির আচড়ে তুলে ধরা হচ্ছে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐহিত্য ও সংস্কৃতি।
তাঁত ব্যবসায়ীরা জানান , সারা বছর কাজ চললেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তাদের দম ফেলানোর সুযোগ নেই। অতিরিক্ত চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা সহ সারা দেশে কাপড় সরবরাহ করতেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভাল পাচ্ছি। কারণ এখানকার উৎপাদিত কাপড় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান দখল করে নিয়েছে। প্রকারভেদে বৈশাখী শাড়ি ৩শ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ফ্যাক্টরী শাড়ী প্রিন্ট কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা কাপড়ে লাল, নীল, হলুদ রংঙের কাজ করছে, অন্যরা রোদে কাপড় শুকাচ্ছে।
কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা হলে বলে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মহাজনদের কাপড়ের অতিরিক্ত অর্ডার থাকায় ভোর থেকে রাত অবধি কাজ করতে হয়। পহেলা বৈশাখের দুই সপ্তাহ আগে থেকে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন রংয়ের মিক্সার করে আল্পনা প্রিন্টিং সহ শুধু কাজ আর কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়ে। এতে একটু কষ্ট হলেও রোজগার বেশি হওয়ায় আমরা খুশি।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্ববৃহৎ বেলকুচি সোহাগপুর ও চৌহালীরএনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের শাহজাদপুর কাপড়ের হাট ছিল বৈশাখী শাড়ীর দখলে। চারিদিকে শুধু বৈশাখী শাড়ী আর শাড়ী। প্রিন্ট করা শাড়ীর গায়ে নানা রং বেরঙ্গের গ্রামীণ বৈচিত্রময় বিভিন্ন ধরনের চিত্র স্থান পায় এই শাড়ীতে।
এসব কাপড়ের হাটে বৈশাখী কাপড় কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, তিন সপ্তাহ আগেই বৈশাখী শাড়ী বিক্রি শুরু হয়েছে। সারা দেশ থেকে পাইকাররা এ হাটগুলোতে বৈশাখীর কাপড় কিনতে আসে। এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় শতকোটি টাকার বৈশাখী শাড়ি-লুঙ্গি বেচা বিক্রি হয়েছে। তারা আরও জানান, এসব কাপড় দেশের চাহিদা পূরণ করে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বিদেশী পাইকারী ক্রেতারা বৈশাখী শাড়ি লুঙ্গি কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ