ঢাকা, সোমবার 8 April 2019, ২৫ চৈত্র ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বৃত্ত ভাঙবে কে?

আমরা জানি ভোটের রাজনীতিতে মাঠ উত্তপ্ত হয়, কথার খই ফেটে। এমন বাতাবরণে দেশের সমস্যা ও সংকটের কথাও উঠে আসে। সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়, দেওয়া হয় প্রতিশ্রুতিও। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয় কমই এবং পরবর্তী নির্বাচনের আগে সেই কথাগুলো আবার উঠে আসে। আমাদের উপমহাদেশের রাজনীতিতে এই বৃত্ত খুবই পরিচিত। এই বৃত্ত কখন ভাঙবে, কে ভাঙবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রপাগান্ডা। উচ্চারিত হচ্ছে নানা শ্লোগান। নেতানেত্রীরা বক্তৃতা বিবৃতিতে পরস্পরকে নানা মাত্রায় আঘাত করে যাচ্ছেন। শোভন-অশোভন-মিশ্রণ সবছিুই চলছে ভারতের ভোটের রাজনীতিতে। একটি স্লোগান ‘এবার উল্টে, দিন, পাল্টে দিন, বিজেপিকে হারিয়ে দিন।’ ভারতের ঐতিহাসিক নকশাল আন্দোলনের পীঠস্থান নেপালের সীমান্ত ঘেঁষা নকশাল বাড়িতে গত ৫ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জনতাকে লক্ষ্য করে ওই স্লোগান দেন। জনসভায় তিনি আরো বলেন, পাঁচ বছরে আমাদের এক্সপায়রি (বিদায়ী) প্রধানমন্ত্রী দেশকে লুট করেছেন। নোটবন্দী করে পাহাড়কে লুটেছেন। তাই আর মোদিকে নয়, এবার কেন্দ্রে নতুন সরকার গড়ুন। মমতা আরো বলেন, আমরা দাঙ্গা-খুনের সরকার চাই না। আমরা শান্তি চাই। আমরা চাইনা পাহাড় আর সমতলের মানুষের বিভদে। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই্ আমরা বিভেদে বিশ্বাস করি না।
মমতার অভিযোগ কি মোদি মেনে নেবেন? মোদি কখনোই স্বীকার করবেন না যে, তিনি লুট করেছেন কিংবা তার সরকার দাঙ্গা-খুনের সরকার। বিভেদ সৃষ্টির দায় ও স্বীকার করবেন না মোদি। বরং তিনি তো মমতাকে উন্নয়নের বাধা সৃষ্টিকারী রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে উপাধি দিয়েছেন ‘স্পীডব্রেকার।’ তাই প্রশ্ন জাগে, ভোটের আগে প্রদত্ত নেতা-নেত্রীদের এইসব বক্তব্য কি শুধুই বক্তব্য, এগুলো কি কোনো অর্থবহন করে না? এটাই বা কেমন করে হয়? জনতার সামনে ভুল বক্তব্য দিলে জনতা কি তা সহ্য করবে? ভোটের বাজারে এত বড় রিস্ক নেতারা নেবেন কোন কা-জ্ঞানে! ভোটে নাকি তেলেসমাতিও হয়। তাই ফলাফলের জন্য এখন অপেক্ষা করাই ভালো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ