ঢাকা, সোমবার 8 April 2019, ২৫ চৈত্র ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মার্চ মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [দুই]
১৫ মার্চ ফেনীর দাগনভূঁঞায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে কোরাইশমুন্সী বাজারে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নূর মোহাম্মদ, লিটন ও জুয়েলসহ ৭ জন আহত হয়। যুবলীগ নেতা দিদারুল কবীর রতন গ্রুপ ও আ.ন.ম কাশেদুল হক বাবর গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তালতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মিজান, মহসীন, তাইজ উদ্দিন, বাবু, জাকির ও রমজান মিয়াসহ ৭ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মোশররফ হোসেন গ্রুপ ও মাহফুজুর রহমান কালাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা কবিরুল হক মুক্তির বিরুদ্ধে নড়াইল প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস.এম হারুন-অর-রশীদ। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হাজীগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হারুন-অর-রশীদ মোল্লার ওপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুর করে বলে আওয়ামী লীগর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।
১৬ মার্চ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। তারা ৬ সরকারী কর্মচারীকে নির্বাচনী প্রচার কাজে ব্যবহার করে। ব্যবহারকারীরা হলো- বালিয়াকান্দি সরকারী কলেজের প্রভাষক রকিবুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম সুমন, উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী সোহেল ফকির, প্রানী সম্পদ দপ্তরের আজিজুল ইসলাম, মীর মোশররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্স-এর এমএলএসএস খন্দকার জিয়াউল আলম ও সরকারী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম। ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী মোশররফ হোসেন দুলালের প্রচারণায় হামলা করে আওয়ামী লীগ বলে দুলাল তজুমদ্দিন প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। ১৭ মার্চ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হাটপুকুর এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রতন মোহন্ত ও আফতাব সরকার নামে দু’কর্মী নিহত ও অপর ২০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মিনফুজুর রহমান মিলন গ্রুপ ও ওয়াজেদ আলী দাদা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ১৮ মার্চ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বায়রা বাজারে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দেওয়ান মনিরুজ্জামান হিরু, ফরিদ হোসেন, ইউসুফ আলী ও হায়দার আলী আহত হয়। আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুর রহমান গ্রুপ ও বিদ্রোহী প্রার্থী মুশফিকুর রহমান হান্নান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পুলিশ সংঘর্ষের সাথে জড়িত মর্মে উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম-সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম সেন্টু ও যুবলীগ কর্মী মুকুল হোসেন চোকদারকে আটক করে। যশোরের চৌগাছায় আফরা মোড়সহ একাধিক স্থানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মাসুম বিল্লাহ, মহিনুর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম আহত হয়। পুলিশ সাইদুর রহমান, মুরশিদুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলামকে আটক করে। আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ মোতানিছুর রহমান গ্রুপ ও এস.এম হাবিবুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
১৯ মার্চ নরসিংদীর রায়পুরায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বালুচর গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইকবাল মিয়া ও আমান মিয়া নামে ২ জন খুন ও ৬০ আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান চৌধূরী গ্রুপ ও আব্দুস সাদেক গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার দায়ে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুল হাকিমকে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতা ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম। পটুয়াখালীর দশমিনায় বাঁশবাড়িয়া এলাকায় তেঁতুল নদী থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল উদ্ধার করলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদারকে লাঞ্ছিত করে জাল ছিনিয়ে নেয়। ফরিদপুরের শালথায় উপজেলা নির্বাচন উত্তর সন্ত্রাসে আওয়ামী লীগের আব্দুল কাইউম মোল্লা ও তার বাবাকে মেরে আহত করে সংসদ উপনেতার সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কনিষ্ট পুত্র শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবুর লোকজন।
২০ মার্চ কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেনকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় কাঁচেরকোল বাজারে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয়। ২২ মার্চ ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এস.এম মজিবুর রহমানকে আটক করে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ। সাতক্ষীরার দেবহাটায় আওয়ামী লীগ পারুলিয়া ইউনিয়ন নেতা রবিউল ইসলাম, সখিপুর ইউনিয়ন নেতা শহিদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা রায়হান, মনিরুল ইসলাম, আবুল কাশেম ও রাজু আহমেদসহ ৭ জন আটক করলে নেতা-কর্মীরা দেবহাটা থানা ঘেরাও করে। শেরপুরের নলিতাবাড়ীতে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জাহানারা, সবুজ মিয়া, জহুরুল, ফরহাদ আলী, কুদরত আলী ও হাফিজুর রহমান আহত এবং মটর সাইকেলসহ ঘর ভাংচুর করে ১৬টি। আওয়ামী লীগ নেতা মোশররফ হোসেন গ্রুপ ও মোকছেদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমড়াগাছিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল গাফ্ফার ও যুবলীগ নেতা রাসেলসহ ৫ জনকে আটক করে।
২৩ মার্চ কুমিল্লার বরুড়ায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী এ.এন.এম মইনুল ইসলাম গ্রুপ ও বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল সামাদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। গাজীপুরের টঙ্গীতে শৈলারগাঁতী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা আলী হোসেনের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। হামলায় আলী হোসেন আহত হয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন মোশররফ সাকু ও বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে রিয়াজুল আলম ঝনো, সাকু, বাবুল ও মোতালেবসহ ১৯ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে ৭ জনকে আটক করে। নাটোরের বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাচনত্তোর আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সহিংসতায় যুবলীগ নেতা শহীদ ও সাইদুলসহ ১২ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ শেষে পুলিশ যুবলীগ নেতা আবুল কালাম জোর্য়াদার, কর্মী আশিক, এনামুল হক ও মিঠুনকে আটক করে। 
২৪ মার্চ নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রাসেল, রাশেদুল, আব্বাস, রাইসুল, আলফু শেখ, আনোয়ার হোসেন, মুস্তাইন, হাসান শেখ, টিপু মন্ডল, সাগর শেখ, বাদশা শেখ, মনির শেখ, হাফিজুর রহমান ফকির, রকিব মীর, ইসমাইল শেখ, খাইরুল মোল্লা, আলম মোল্লা, হান্নান গাজী ও বিল্লাল গাজীসহ ২০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে নওয়াগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয়। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দেহলা ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট থেকে ব্যালট ছিনতাই করে প্রকাশ্যে সীল মারে। পুলিশ সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করে। ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.বি.এম মাজহারুল আনামকে অস্ত্র ও ৪৪ রাউন্ড গুলসহ আটক করে পুলিশ। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দীরালাল সাহা রোডে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হ্যাপীর পিতার চেহারার সাথে মিল থাকায় নয়া দিগন্তের সাংবাদিক ফখর উদ্দিন ইমরানের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ডাঃ মোস্তকের লোকজন। ফেনীর সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে একাধিক হামলায় উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ দীন মোহাম্মদের অফিস ভাংচুর ও নেতা-কর্মীদের মারধর করে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এ সময় যুবলীগ কর্মী জাহিদ হোসেন, ফয়েজ আহমেদ, জনি, ব্যবসায়ী শরীফ হোসেন ও মামুন আহত হয়। ভোলার তজুমদ্দিনে ফকিরহাট এলাকায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশররফ হোসেন দুলালের পথ সভা ও অফিসে হামলা-ভাংচুর করে দলীয় প্রার্থী ফজলুল হক দেওয়ানের লোকজন। এ সময় আব্দুল হান্নান, সুমন, নাজিম, হাসনাইন, নূর মোহাম্মদ, ফিরোজ ও নূরুসহ ১৫ জন আহত হয়। বরগুনার পাথরঘাটায় দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবিরকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে দলটি। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা মোহাম্মদ সোহেল দলীয় প্রার্থীকে টিক্কা দিয়ে বিজয়ী হয়।
২৫ মার্চ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাচনত্তোর আওয়ামী লীগের সহিংসতায় কবুতরখালী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ গুলিসাখালী ইউনিয়ন সহ-সভাপতি জনি তালুকদার নিহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন গ্রুপ ও হোসাইন মোশররফ সাফু গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গত দু’দিন ধরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শারফ উদ্দিন আজাদ সোহেল গ্রুপ এবং আব্দুল ওয়াহেদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ফেনীর সেনাগাজীতে উপেজলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম সেলিম এবং প্রচার সম্পাদক সৈয়দ দীন মোহাম্মদকে মাদক ও জামায়াত প্রীতির জন্য বহিস্কারের সুপারিশ করে উপজেলা শাখা। শেরপুরের নলিতাবাড়ী ঘাকপাড়া বাজার, ফুলপুর বন্দের বাজার, বারমারী বাজার ও নন্নী বাজারে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের একাধিক সংঘর্ষের পর ২ জনকে আটক করে পুলিশ।
২৬ মার্চ লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী লিয়াকত হোসেন বাচ্চু গ্রুপ ও বিদ্রোহী প্রার্থী সরোয়ার হায়াত খান গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের জেলা সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানব কন্ঠের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুসহ আহত ১০ জন। গোপালগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ও ১ পুলিশ গুলিবিদ্ধ। এ সময় রাস্তার পাশের গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে তারা। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারে একটি অনলাইন পোর্টাল উদ্বোধন কালে আওয়ামী লীগ নারায়নগঞ্জ মহানগর প্রচার সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন-‘শামীম ওসমানের মত নেতা থাকলে প্রশাসন লাগে না’। তার এই বক্তব্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি চরম অবজ্ঞা বা বাকশালী ধ্যান ধারণার বহিঃপ্রকাশ। পরে ফতুল্লা থানার ওসি এ বিষয় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। ২৭ মার্চ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ কুশলিয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের উপজেলা নির্বাচনত্তোর সহিংসতায় শেখ রিয়াজ উদ্দিন, আবু তাহের মোড়ল, আলাউদ্দিন মোড়ল, রেহানা বেগম, তানিয়া খাতুন, মদিনা মনোয়ারা জুঁই, কাজী মুজদ জাহাঙ্গীর মৃদুল ও মসজিদের ইমাম আমিরুল ইসলাম আহত হয়।
২৮ মার্চ ঝিনাইদাহের শৈলকুপায় রূপদা বাজারে গত দু’দিন ধরে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জামিত খান, কালাম খান, উকিল খান, চেনির উদ্দিন খান, সাদিয়া, আবু জাফর, আনার উদ্দিন, জামাল হোসেন, ওয়াশিম, মজিবর, তোয়াজ উদ্দিন, সাইদুল ও শিলাসহ ২০ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে ৪ জনকে আটক করে। ২৯ মার্চ নড়াইল সদরে তারাশি গ্রামে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের নির্বাচনত্তোর সহিংসতায় গোলাম সিকদার নামে একজন খুন হয়। আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার মোল্লা গ্রুপ ও বরকত গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। শরীয়তপুরের জাজিরায় বিলাশপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনত্তোর সহিংসতায় রাসেল বেপারী, কাজল, দিলু সিকদার, সাগর ও শাহ আলম আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের সরদার গ্রুপ ও আব্দুল কুদ্দুস বেপারী গ্রুপ এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল গ্রুপ ও ফারুক মাদবর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়।
৩১ মার্চ টাঙ্গাইলের বাসাইলে চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে সৈদামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মী রাশেদ হৃদয়কে আটক করা হয়। রাশেদ ৪৮টি জাল ভোট দেয় বলে প্রিজাইডিং অফিসার জানান। কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পারভীন সুলতানা তাকে ভোট গুলি সরবরাহ করে। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে জামপুরে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ হয়। যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর কর্মীকে মারধর করায় বিদ্রোহীর প্রার্থীর ভাতিজাকে আটক করে পুলিশ। ফেনী সদরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা আজহারুল হক আরজু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ইভিএম-এ ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেন। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উপজেলা নির্বাচনত্তোর মান্দারপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও হামলায় ডাঃ বোরহান উদ্দিন, আবুল হোসেন, আরাফাত আলী, বিল্লাল শরীফ, নূর উদ্দিন, হাজেরা বেগম ও মাইন উদ্দিনসহ ১০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মোশররফ হোসেন গ্রুপ ও মাহফুজুর রহমান কালাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। হাবু ডাকাতের নেতৃত্বে জাকির, ফালান, ফারুক, আব্দুর রহীম, ডালিম ও মোতালিবসহ আরো অনেকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের উপর হামলা করে। অন্য দিকে সোনারগাঁওয়ে বরাব গ্রামে নির্বাচনত্তোর আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সাদিপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-জাকির, আমির হোসেন, ইমরান ও শাহীনসহ ৫ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ