ঢাকা, সোমবার 8 April 2019, ২৫ চৈত্র ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পে সহায়তা বৃদ্ধির দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : সেবা শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের অনুকূলে রপ্তানিমুখী অন্যান্য শিল্পের মতো আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স এসোসিয়েশনের (বিওজিএসওএ) নেতারা।
গতকাল রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স এসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধিদল শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠককালে এ দাবি জানান।
বৈঠকে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিওজিএসওএর সভাপতি আজম জে চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল ও শেখ বশির উদ্দিন, সেক্রেটারি জেনারেল রিয়ার এডমিরাল (অব.) এ এস এম আব্দুল বাতেন, সদস্য মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবসাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এখাত আর্থিক সুবিধা ও প্রণোদনা পায়নি। তাই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের অনুরূপ উৎসে কর, ডিউটি ড্র-ব্যাক, ইউডিএফ লোন, প্যাকিং লোন সুবিধাসহ নগদ প্রণোদনার জন্য আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাসহ সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনোমি’ এর প্রসার, সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি রপ্তানিতে ফ্রেইট চার্জ খাতে দেশীয় জাহাজের হিস্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে বিওজিএসওএর নেতারা বলেন, সরকারের নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা পেলে দেশীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পখাত দ্রুত বিকশিত হবে। বর্তমানে সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ফ্রেইট চার্জ বাবদ খরচের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিদেশি জাহাজ মালিকরা নিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় সমুদ্রগামী জাহাজ মালিকদের আয়করসহ অন্যান্য সুবিধা দিয়ে বছরে ফ্রেইট চার্জ বাবদ কমপক্ষে আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় সম্ভব। এ শিল্পের বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা কামনা করছি আমরা।
এ সময় তারা সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যাক্সসহ অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে আসন্ন বাজেটে কার্যকর প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানান।
শিল্পমন্ত্রী দেশের আমদানি রপ্তানিতে সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ শিল্পে করসহ অন্যান্য অসঙ্গতি পরীক্ষা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবরে সুপারিশ করা হবে এবং দেশীয় এ শিল্পের প্রসারে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির সুবিধা কাজে লাগাতে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে। জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙ্গা ও শিপ রিসাইক্লিং কার্যক্রমকে সরকার নীতি সহায়তা দিচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের প্রসারেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ