ঢাকা, সোমবার 8 April 2019, ২৫ চৈত্র ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতীয়করণের দাবিতে ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি ৭ম দিনে

মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির ৭ম দিনের মতো অবস্থা ধর্মঘট চলছে। ছবিটি গতকাল রোববারের -সংগ্রাম

# আজ থেকে অনশন
স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ ও কোডবিহীন মাদরাসাগুলো কোড নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৭ম দিনের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আজ সোমবার থেকে তারা অনশনে যাবেন বলে জানিয়েছেন। ১ এপ্রিল থেকে গতকাল রোববার ৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৭ দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন, সমিতির সহ-সভাপতি মাওলানা মো. শাহজাহান, এ বি এম আব্দুল কুদ্দুস, আবু মুসা ভূঁইয়া, মো. ইনতাজ বিন হাকিম, মো. সামছুল আলম, হাফেজ মাহমুদ, নাসরিন বেগম, আলেয়া খাতুন, হাফিজা খাতুন, লাভলী আক্তার, অজুপা খাতুন, মানছুরা, মাহফুজা, মাকসুদুল হক, হাসান, গোলাম মোস্তফা, শফিকুল ইসলাম, মুক্তারুল ইসলাম, আব্দুল ওহাব, মাওলানা জাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, অনিক মাহমুদ, আব্দুল হালিম, আমিনুল ইসলাম, আবু বক্কর ছিদ্দিক, রাশেদুল ইসলাম, আলামিন, নজরুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সমিতির সভাপতি কাজী ফয়জুর রহমান বলেন, অবস্থান কর্মসূচি পাঁচদিন ধরে চললেও এখন পর্যন্ত  সরকারের কেউ আমাদের আশ্বস্ত করেননি। আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে, আপনাদের বিষয়টি আমরা মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করছি।
অনশন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আজকের মধ্যে আমাদের কোনও আশ্বাস না দিলে আগামীকাল থেকে অনশন করবো। সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক আশ্বাস পেলে আমরা চলে যাবো।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে বলেন, ছয় দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করলেও কোনো সরকারি প্রতিনিধি আসেননি। বেতনবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নীতিমালা ২০১৮ তে যে সমস্ত শর্ত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেতনভুক্ত সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসার জন্য প্রযোজ্য নয়। এ ধরনের কঠিন শর্ত প্রত্যাহার করে সহজ শর্তে বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা সরকারিকরণের দাবি জানান তিনি।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা বলেন, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বিগত সরকারের সময়ে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হয়। তবে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি মহাজোট সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারের সব কাজে অংশগ্রহণ করে ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায় কিন্তু তারা তেমন কোনও বেতন পান না। তারপরও তারা শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৫১৯টি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ২৫০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষক ২৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি মাদরাসার শিক্ষকরা প্রায় ৩৪ বছর ধরে বেতন-ভাতা হতে বঞ্চিত।
অবস্থান কর্মসূচিতে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। দাবিগুলো হল, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নীতিমালা ২০১৮ সংশোধন করে সহজ শর্তে সরকারিকরণ করা, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি নবায়নের সহজ আইন প্রণয়ন করা, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষককে বহাল রাখা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা, ২ জন আলিম শিক্ষকের মধ্যে ১ জন এইচএসসি (সমমান) শিক্ষক অন্তর্ভুক্তিকরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রতিটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অফিস সহায়ক নিয়োগ প্রদান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের পিটিআই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ইবতেদায়ি মাদরাসার আসবাবপত্রসহ ভবন নির্মাণ। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কোডপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৯৯৮ ও মন্ত্রণালয়ের আবেদন করা মাদরাসাগুলোকে কোড প্রদান করে সব মাদরাসাকে সরকারিকরণ করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ