ঢাকা, মঙ্গলবার 9 April 2019, ২৬ চৈত্র ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের পাহাড়

৮ এপ্রিল, রয়টার্স : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি স্যাটেলাইট বিধ্বংসী পরীক্ষা নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে কি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছেন? একজন নেতার প্রতি অনুগত একটি টিভি চ্যানেল থাকার অধিকার আছে কিনা? দেশের সেনাবাহিনীকে কি ‘মোদির সেনা’ বলা যাবে?  ভারতে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে এমন সব অভিযোগে নাকাল সেখানকার নির্বাচন কমিশন। আগামী সপ্তাহে সেখানে হতে যাচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন বলেছেন, এরই মধ্যে ওই রকম কয়েক লাখ প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে তাদের কাছে। তাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। অনেক অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থার। 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলো। এতে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা ভোগ করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

বলা হয়েছে, মোদি যদি ক্ষমতাচ্যুত হন তাহলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে বিশেষ কোনা সুবিধাজনক আচরণ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। 

ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি শায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে মসৃণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক চর্চা করতে যাচ্ছে ১১ই এপ্রিল থেকে। এ নির্বাচনে ৯০ কোটিরও বেশি বৈধ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আনীত অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা পক্ষপাতী নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে কে কোন দলের তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার বলেছেন, আচরণবিধি আসলে কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘নমো টিভি’। এতে শুধু মোদির নির্বাচনী প্রচারণা সরাসরি দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া তারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে শুধু বিভিন্ন বিষয় প্রচার করছে। বেশ কিছু অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও এই টেলিভিশন চ্যানেলটি অব্যাহতভাবে তাদের এসব কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক একজন পোলস্টার যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, প্রতিদিনই আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন একেবারে ডুবন্ত অবস্থায় এসেছে। ভাবি, পরের দিনই হয়তো তা কেটে যাবে। 

নির্বাচন কমিশন যেসব অভিযোগকে বড় করে দেখছে তার মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের বক্তব্য। তিনি বিজেপি থেকে নির্বাচিত। ওই বক্তব্যে তিনি ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘মোদির সেনাবাহিনী’ বলে আখ্যায়িত করেন। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করে দেখছে।  ভবিষ্যতে আদিত্যনাথ যেন এমন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ মাসে ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ শীর্ষক একটি জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়টিও নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখছে। গত মাসে নির্বাচন কমিশন বলেছে, মোদি একটি ভারতীয় স্যাটেলাইট ধ্বংস করার বিষয়ে যে ভাষণ দিয়েছেন জাতির উদ্দেশে, তাতে তিনি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন নি। তবে তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে এমন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর। 

অভিযোগ আছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও। মোদি সরকারের স্বাক্ষর করা একটি যুদ্ধবিমান বিষয়ক চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগকেও বড় করে দেখা হচ্ছে। 

নির্বাচন কমিশনের উপ কমিশনার সন্দীপ সাক্সেনা বলেছেন, আমরা যা জানি এবং সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিই তা বর্তমান দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনের কারণে যেকোনো কিছু মানুষ তাৎক্ষণিখভাবে জানতে পারে। যখনই পর্যাপ্ত ম্যাটেরিয়াল থাকবে তখনই কমিশন পদক্ষেপ নেবে। আমরা সাধারণত আমাদের মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে বক্তব্য নিই। এতে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১২ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এরপরেই আমরা অ্যাকশনে যেতে পারি। তিনি আরো বলেন, গত ১০ই মার্চ আচরণবিধি সামনে এসেছে। এর পর থেকে নির্বাচন কমিশনে ৪০ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে। মোবাইল ফোনের অ্যাপের মাধ্যমেও এসেছে অভিযোগ। তিনি বলেছেন, শতকরা ৬৮ ভাগ অভিযোগ সঠিক দেখা গেছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

আরেকজন কমিশন কর্মকর্তা বলেছেন, গত তিন সপ্তাহে তারা আঞ্চলিক দল, জাতীয় পর্যায়ের দলগুলোর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অ্যাপের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ লাখ অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, এত্ত অভিযোগ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বিশ্ব রাতারাতি বদলে গেছে। এত অভিযোগ নিয়ে কাজ করার মতো লোকবল নেই। সদর দফতরে ও রাজ্যের অন্য অফিসগুলোতে এ নিয়ে কাজ করার জন্য আছেন মাত্র ৩০০ মানুষ। তিনি বলেন, সমালোচনার অধিকার আছে মানুষের। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কোনো কোনো কর্মকর্তা দিনে ১৬ থেকে ১৭ ঘন্টা কাজ করছেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ