ঢাকা, মঙ্গলবার 9 April 2019, ২৬ চৈত্র ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নৈতিক আচরণের শক্তি অনেক

বিভেদ-বিভক্তি, বিদ্বেষ মানুষের আচরণ হতে পারে না। অথচ বর্তমান সভ্যতায় ওই সব আচরণেই যেন নেতা-মহানেতারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কোথাও বর্ণের নামে, কোথাও ধর্মের নামে, আবার কোথাও রাজনীতির নামে চলছে বিভক্তি ও বিদ্বেষের দৌরাত্ম্য। তাই প্রশ্ন জাগে, নেতারা পথ দেখাবেন, নাকি মানুষকে পথভ্রষ্ট করবেন? অবশ্য মানুষ জেগে উঠলে নেতারাও ভালো হওয়ার পথ খোঁজেন। তবে এই পথ কেউ খুঁজে পান, কেউ আবার পথ খোঁজার ভান করে ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি করেন। এই ধারাটাই এখন প্রবল। অমানবিক এই ধারার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে নানা অঘটন এবং বাড়ছে মানুষের দুঃখের মাত্রাও।
সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন নৈতিক আচরণের শক্তিতে। তেমন আচরণ আমরা লক্ষ্য করেছি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়। জনতা জেগে ওঠায় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জেমস ক্যাসন এখন মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। জেমস ক্যাসন অতীতে মুসলিম উদ্বাস্তুদের নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এবার কটূক্তি করলেন মসজিদে হামলার ঘটনায়। নিউজিল্যান্ডের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রীর বিনীত প্রতিক্রিয়া পছন্দ হয়নি তাঁর। গত সপ্তাহে এক ফেসবুক পোস্টে নিউজিল্যান্ড সরকারের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও হামলাকারীর ইশতেহার নিষিদ্ধ করা এবং তার নাম উচ্চারণ না করার যে ঘোষণা দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডেন দিয়েছিলেন তার সমালোচনা করা হয়েছে। ওই ফেসবুক পোস্টে হত্যাকারী টেরন্টের প্রশংসাও করেছিলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। তার এই পোস্ট ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় নিউজিল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
উল্লেখ্য যে, জেমস ক্যাসন নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটন নগরীর একজন কাউন্সিলর। আগামী নির্বাচনে তিনি মেয়র প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। কিন্তু কাউন্সিল অধিবেশনে এই ঘটনাকে কলঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন আরেক কাউন্সিলর ডেভ ম্যাকফারসন। ফেসবুক-টুইটারেও ব্যাপক সমালোচনা হয়। ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে ক্যাসন ফেসবুক থেকে তাঁর পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং স্থানীয় জামিয়া মসজিদের কাছে গিয়ে মুসলমানদের নিকট ক্ষমা চান। আসলেই জনতার নৈতিক আচরণের শক্তি অনেক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ