ঢাকা, মঙ্গলবার 9 April 2019, ২৬ চৈত্র ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মালয়েশিয়ার সৈকতে নামা আরেক দল ‘রোহিঙ্গা’ আটক

৮ এপ্রিল, রয়টার্স : মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এক সমুদ্র সৈকতে আরও ৩৭ জনের একটি দলকে পাওয়া গেছে যাদের মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পারলিসের সাঙ্গাই বেলাতি সৈকতে ৩৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে পাওয়া গিয়েছিল।

গতকাল সোমবার একই সৈকতে নামার পর ভোরে সিম্পাং ইমপাট শহরের কাছ থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয় বলে রাজ্য পুলিশের প্রধান নুর মুশার মোহাম্মদ বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন। এ দুটি ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচারের নতুন পর্ব শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষগুলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে নৌকাযোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে মানবপাচারের ওপর অভিযান চালানোর পর রোহিঙ্গা গমনের আগের পর্বটি বন্ধ হয়েছিল।

আটক লোকজন শারীরিকভাবে ভাল অবস্থায় আছেন এবং তাদের অভিবাসন কর্মকর্তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নুর মুশার।

“আমাদের বিশ্বাস তারা অনেক বড় নৌকায় করে এসেছে, তারপর তাদের ছোট নৌকায় করে পৃথক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

মালয়েশীয় কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, সোমবার আটক হওয়া এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা মিয়ানমার অথবা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। 

“কোথা থেকে এই নৌকাগুলো আসছে তা বের করতে তদন্ত চালাচ্ছি আমরা, তবে এর সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রগুলো জড়িত বলে সন্দেহ আমাদের,” বলেছেন নুর মুশার। 

২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন শিবিরে নিয়ে তোলে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। রোহিঙ্গাদের ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলে বিবেচনা করে তারা। 

২০১২-র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা সাগর পথে মিয়ানমার থেকে পালানোর চেষ্টা করে। ২০১৫ সালে অভিবাসন প্রত্যাশীদের এই ঢেউ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। ওই বছর প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা আন্দামান সাগর হয়ে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালানো চেষ্টা করে।

সাগরে চলাচলের অনুপযোগী ও অতিরিক্ত বোঝাই নৌকায় করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় তাদের অনেকেই ডুবে মারা যায়। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযানের মুখে ২০১৭ সালে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ