ঢাকা, মঙ্গলবার 9 April 2019, ২৬ চৈত্র ১৪২৫, ২ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কয়েক ধাপের বৃষ্টিতে রাজধানীতে কোথাও কোমর পানি কোথাও বুকপানি

গতকালকের বৃষ্টিতে রাজধানীর বনানী এলাকার প্রধান সড়কে পানি জমে যায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বৃষ্টিতে রাজধানী তলিয়ে গেছে। কোথাও বুকপানি, আবার কোথাও কোমরপানি জমে দেখা দেয় তীব্র পানিবদ্ধতা। এ কারণে কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। তাই অফিস শেষে ঘরমুখো মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বৃষ্টি থামার অনেক পরেও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ছিল। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
চৈত্রমাস হলেও গতকাল সোমবার নগরীর আকাশে কয়েক ধাপে হানা দিয়েছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোমরপানি জমে যায়। আবার কোথাও বুকপানি জমে যায়।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ধাপে বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টিতে মিরপুরের কালশী রোড, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, মগবাজার, শান্তিনগর, মগবাজার রেললাইন, দৈনিক সংগ্রামের সামনের রাস্তা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, শ্যামলী, রোকেয়া সরণি, মিরপুর ১০, মিরপুর ১১, কালশী, আরামবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। পানির কারণে ওইসব সড়ক দিয়ে গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ কোনও যানবাহনই চলাচল করতে দেখা যায়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এলাকাবাসীকে।
তবে পানিবদ্ধতার জন্য ঢাকা ওয়াসাকেই দায়ী করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির মেয়র বলছেন, মিরপুর ও কালশী এলাকার ৮-৯টি খাল দখল হয়ে গেছে। এসব খালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এর পরেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই খাল উদ্ধার করতে হবে। খালগুলো নিয়ে আমাকে একটা রিপোর্ট দেয়া হবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
আয়েশা সিদ্দিকা নামে স্থানীয় একজন বাসিন্দা মিরপুর ১১ নম্বরের জলাবদ্ধতার একটি ভিডিও ফেসবুকে আপ করেছেন। তাতে দেখা গেছে, পানির কারণে কোনও যানবাহনই চলাচল করতে পারছে না। অনেকগুলো ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কে আটকে ছিল। দু-একটি রিকশা চললেও কোমরপানি পর্যন্ত ডুবে রয়েছে সেগুলো।
মিরপুর ১০ নম্বরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুপুরের পর যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে মিরপুর ও কালশী এলাকা তলিয়ে গেছে। বাজার কারতে এসে এখন একটি মার্কেটে আটকে আছি। জলাবদ্ধতার কারণে কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দু-একটি রিকশা যেতে চাইলেও ২০ টাকার ভাড়া বলছে ২০০ টাকা।’
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, ওই এলাকার ৮ থেকে ৯টি খাল দখল হয়ে গেছে। এসব খালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু ওয়াসা সে দায়িত্ব পালন করছে না। সে কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কালশী থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এজন্য আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিয়ে বসেছি। এর একটা সমাধান হতে হবে। এটার জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছি। খাল উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই এলাকার সাংবাদিক খালসহ আরও ৮-৯টি খাল দখল হয়ে গেছে। এজন্য আমি একটা রিপোর্ট দিতে বলেছি। আমি বলেছি, আমাদের সবাইকে অ্যাকশনে যেতে হবে। এর পর দেখবো কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘খালের দায়িত্ব হচ্ছে ওয়াসার। আর পাড়ের দায়িত্ব ডিসির। সাংবাদিক খালটি পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। আমি বলেছি, আমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে কাজ করবো। যদিও খালে আমার হাত দেওয়ার কথা না। দরকার হলে তবুও দেবো। জনস্বার্থে আমি নিজে যাবো। খুব দ্রুত এটার সমাধানে যেতে হবে। আর মেট্রোরেলের কারণেও অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন কাজে আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট করা যাবে না। যার যে দায়িত্ব তাকে সেটা পালন করতে হবে।’
আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের বৃষ্টি পরিমাপক কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা পর্যন্ত সীতাকুন্ডে সর্বোচ্চ ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা ছিল, সকালে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে একদফা কালবৈশাখী বয়ে যায়। দুপুরেও ভিজিয়েছে বৃষ্টি। এরপর ফের রোদের দেখা মেলে, দেখতে দেখতে আবার পাল্টে যায় আকাশের চেহারা। ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ। বিকেলে আবারও কালবৈশাখীর তা-ব, সঙ্গে বৃষ্টি। বৃষ্টিতে সড়কসহ নগরীর অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন কালবৈশাখীর সময়, এখন থেকে থেকে ঝড়-বৃষ্টি হবেই। ১৪ এপ্রিলের পর হয়তো এই প্রবণতা কমে যাবে। তখন তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। এবার কালবৈশাখী অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘সব বছর তো অবস্থা এক রকম হয় না। কোনো বছর একটু বেশি কালবৈশাখী হয়, কোনো বছর একটু কম হয়। তবে এখন পর্যন্ত যে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে এটাকে স্বাভাবিকই বলতে পারি।’ সোমবার শুধু ঢাকায় নয় দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।
সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে পূর্বাভাসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ