ঢাকা, বুধবার 10 April 2019, ২৭ চৈত্র ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্বনির্ভর শিল্প ব্যবস্থাপনা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশে। চাকরি ও ব্যবসার আড়ালে নিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবৈধ পন্থায়ও তারা অর্থ পাচার হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে পরিসংখ্যান উল্লেখ করতে গিয়ে গতকাল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে কর্মরতরা প্রায় ১৫ বিলিয়ন টাকা বা দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্য থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলারই চলে গেছে প্রতিবেশী একটি দেশে। অথচ এই অর্থ দেশে রাখা গেলে এবং সরকার সে অর্থের সদ্ব্যবহার করতে পারলে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- যেমন চালানো যেতো তেমনি দেশের ভেতরে চাকরির অনেক সুযোগও সৃষ্টি করা সম্ভব হতো।
বলার অপেক্ষা রাখে না, রেমিট্যান্স আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত নীরবে-নিভৃতে এক দেশে চলে যাওয়ার এই খবর সকল বিচারেই অগ্রহণযোগ্য। এমন অবস্থার কারণ ব্যাখ্যাকালে তথ্যাভিজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে ৬০ লক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার থাকা সত্ত্বেও সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় বাইরের লোকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য দায়ী আসলে বিনিয়োগ বোর্ড। ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নবায়ন করা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে একমাত্র কর্তৃপক্ষ হলেও প্রশ্নসাপেক্ষ কিছু বিশেষ কারণে বিনিয়োগ বোর্ডকে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অনেকে এমনকি ভিসা নবায়ন না করেও বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে চাকরি ও ব্যবসা করে থাকে। তারা সরকারের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো চাকরি ও ব্যবসা বদল করে। এ ধরনের ভারতীয়দের সংখ্যাও কয়েক লাখ। তারা যে বিপুল অর্থ দেশে পাঠায় বা পাচার করে তার পরিমাণ ৮০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্সের চাইতেও বেশি। শুধু রেমিট্যান্স খাতে নয়, ভারতীয়রা বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পেও নাক গলিয়ে চলেছে। হাত দিয়েছে। মূলত ভারতীয়দের কার্যক্রমের পরিণতিতে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প এরই মধ্যে লোকসানের মুখোমুখি হয়ে পড়েছ। দেশের অনেক কারখানা হয় বন্ধ হয়ে গেছে নয় তো চলে গেছে ভারতীয়দের সম্পূর্ণ দখলে। এদেশের অনেক গার্মেন্ট কারখানা বিগত কয়েক বছরে ইতিহাসের বিষয়েও পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আমরা মনে করি, এমন অবস্থা কোনোক্রমেই চলতে দেয়া যায় না। কারণ, বহু বছর ধরে রেমিট্যান্স ও গার্মেন্ট তথা তৈরি পোশাক বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে। কোনো কোনো পরিসংখ্যানে একথা পর্যন্ত জানানো হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৮০ শতাংশই গার্মেন্ট ও রেমিট্যান্স খাত থেকে এসে থাকে। একই কারণে বিশেষ করে গার্মেন্ট শিল্পের চাকরি ও কর্তৃত্ব দেশের জনশক্তির হাতে থাকা দরকার। ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া চাকরিরত সকল বিদেশীকে বাদ দেয়া উচিত। আমরা মনে করি এভাবেই একদিকে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পকে যেমন আগের মতো লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে, অন্যদিকে তেমনি রেমিট্যান্সের সমুদয় অর্থের সদ্ব্যবহার করা গেলে উন্নয়ন কর্মকান্ডকেও সাবলীলভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে অনতিবিলম্বে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ