ঢাকা, বুধবার 10 April 2019, ২৭ চৈত্র ১৪২৫, ৩ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টানা দরপতনের প্রতিবাদে ডিএসইর সামনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : টানা দরপতনের কবলে পড়েছে শেয়ারবাজার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। আবারও পুঁজি হারিয়ে পথে বসার শঙ্কা তাড়া করছে তাদের। কেননা কোনোভাবেই দরপতন থামছে না দেশের শেয়ারবাজারে। আগের দুই কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকালও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসেই বড় দরপতনের ঘটনা ঘটলো। শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের প্রতিবাদে ডিএসইর সামনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা পতনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দায়ী করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মূল্য সূচকের বড় পতনে পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমছে। ফলে ডিএসইতে পতনের খাতায় নাম লিখিয়েছে ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৭টির। আর ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার পর্যালোচনা দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) জরুরি বৈঠকে বসছে এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়। কিন্তু সেই ঊর্ধ্বমুখিতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ফলে দিন শেষে ঘটে বড় দরপতন।
কিছুক্ষণ ঊর্ধ্বমুখী থেকে আবার সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়লে দুপুর ২টার দিকে ব্রোকারেজ হাউজ ছেড়ে ডিএসইর সামনের রাস্তায় নেমে আসেন কয়েকজন বিনিয়োগকারী। সেখানে আধাঘণ্টার মতো বিক্ষোভ করেন তরা। সেই সঙ্গে বাজারের পতনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দায়ী করে সাময়িক সময়ের জন্য আইপিও বন্ধ রাখার দাবি জানান।
বিনিয়োগকারীদের এ বিক্ষোভের মধ্যেই শেষ হয় ডিএসইর লেনদেন। তবে ঘুরেনি মূল্যসূচক। বরং শেষে সময়ে এসে দরতপনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৮ পয়েন্টে নেমে যায়।
একের পর এক কোম্পানির দরপতনের কারণে পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ডিএসইর বাছায় করা শেরা ৩০টি কোম্পানিও। ফলে এ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্য সূচক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমার দিনে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫২ কোটি ৯ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে নতুন তালিকাভুক্ত এস্কয়ার নিটংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে এর পরেই রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। লেনদেনে এরপর রয়েছে- ইস্টার্ন কেবলস, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ফরচুন সুজ, মুন্নু সিরামিক, রেকিট বেনকিজার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ৯৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬২টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ