ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 April 2019, ২৮ চৈত্র ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হোঁচট খেল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি

১০ এপ্রিল, রয়টার্স : কয়েকজন অভিবাসন প্রত্যাশীকে মেক্সিকো সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি সাময়িক স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধের কর্মসূচির আওতায় ওই কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে সীমান্তে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সান ফ্রানসিসকোর ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড সিবর্গের দেয়া সাময়িক স্থগিতাদেশ শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। প্রাথমিক এ বিধিনিষেধ দেশজুড়ে কার্যকর হবে। অভিবাসনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনাসংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য সীমান্তে অপেক্ষা করতে বলার কর্মসূচি এ বছরের জানুয়ারি মাসে গ্রহণ করা হয়। 

অভিবাসন প্রত্যাশীদের হার কমাতে নেওয়া নানা কর্মসূচির মধ্যে এটিও একটি। বেশিরভাগ অভিবাসন প্রত্যাশীরা মধ্য-আমেরিকার দেশগুলো থেকে এসে ভিড় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে। এক দশকের মধ্যে গত মাসে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল।

অভিবাসন প্রত্যাশীদের শিশুসন্তানদের আটক কেন্দ্রে বৈধভাবে আটক রাখার সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই অনেক পরিবারকে মুক্ত করে দিয়ে অভিবাসন মামলায় আদালতের শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় এতটাই দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে যে সিদ্ধান্ত পেতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসী সুরক্ষা রীতিনীতির (এমপিপি) আওতায় তারা কিছু অভিবাসন প্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মেক্সিকো সীমান্তে শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে বলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের যুক্তি ছিল, এমপিপির প্রয়োজন রয়েছে। কারণ শুনানির অজুহাতে অনেক বেশিসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নেন। তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত না হওয়া পর্যন্ত এবং অভিবাসনবিষয়ক বিচারক তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কখনোই তাঁরা আদালতের শুনানিতে হাজির হন না।

বিচারক সিবর্গ বলেছেন, অভিবাসন ও জাতীয়করণ আইন সরকারকে এ ক্ষমতা দেয়নি যে, সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। তিনি বলেন, শরণার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া বা স্বাধীনতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ নীতিতে যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। এ আদেশ নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের মুখপাত্র এখনো কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসও তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত’। আদালতের এ আদেশে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ