ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 April 2019, ২৮ চৈত্র ১৪২৫, ৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নালিতাবাড়ীর ঐতিহাসিক সুতানাল দিঘি 

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা :  সুতানাল  দিঘিটিকে আরো সুন্দর ও নান্দনিক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ গত ৫ এপ্রিল স্থানীয় প্রেসক্লাবে বসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  আরিফুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ তালুকদার মুকুলকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেন। পাড়ে বসবাসরত মানুষগুলোকে অন্যত্র জায়গা দিয়ে এই পুকুরটি যাতে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে নির্দেশ প্রদান করেন।

দিঘিটি কে কখন কোন উদ্দেশ্যে খনন করেছিলেন তার ইতিহাস নির্ভর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়,মোগল আমলের শেষের দিকে  এ গ্রামে কোন এক সামন্ত রাজার বাড়ি ছিল। আবার কেউ বলেন এখানে বৌদ্ধ বিহার ছিল। কথিত আছে সামন্ত রাজা তাঁর সহধর্মীনী রাণীকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাণী তখন রাজাকে বলেন, ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে আপনি এমন কিছু দান করুন যা যুগযুগ ধরে মানুষ মনে রাখে। 

রাজা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন অবিরাম একরাত একদিন সুতা কাটা হবে। যে পরিমাণ সুতা হবে সেই সুতার সম পরিমাণ লম্বা এবং প্রশস্ত একটি দিঘি খনন করা হবে। এলাকার জনগণ দিঘির জল ব্যবহার করবে। আর তোমাকে স্মরণ করবে। দিনের পর দিন খননকাজ চলে। নির্মিত হয় বিশাল এক দিঘি। এক পাড়ে দাঁড়ালে অন্য পাড়ের লোক চেনা যায় না। সেই থেকে এই দিঘী কমলা রাণি বা সুতানাল দিঘি নামে পরিচিতি পায়। 

বহূকাল যাবৎ দিঘির নামকরণ হয় সুতানাল,কমলারাণি বা বিরহীনি কয়েকটি নামেই । তবে সুতানাল পুকুর নামেই পরিচিত  এলাকায়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে মধ্যমকুড়া গ্রামে ৬০ একর জমির উপর দিঘিটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দুরে দিঘিটি। প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মৎস্য শিকারী ও উৎসুক মানুষের আনাগোনায় পুকুর ও  এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসব মুখর। এ দিঘির মাছ খুব সুস্বাদু বলে প্রশংসা রয়েছে বেশ। ১৯৮৩ সালে এই দিঘিকে কেন্দ্র করে ভূমিহীন ১১৮ জন সদস্য নিয়ে গড়ে ওঠে“সুতানালি দিঘিরপাড় ভুমিহীন মজাপুকুর সমবায় সমিতি। পুকুর পাড়েই তাদের বসবাস। এই পুকুরকে কেন্দ্র করে ভূমিহীনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। 

এই দিঘি সম্পর্কে “নালিতাবাড়ী মাটি মানুষ এবং আমি”সাবেক এমপি ও মন্ত্রী অধ্যাপক আবদুস সালাম রচিত বই থেকে জানা যায়,খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দিতে শালমারা গ্রামে সশাল নামের এক গাড়ো রাজা রাজত্ব করতেন। সামশ ইলিয়াস শাহ তখন বাংলার শাসন কর্তা। সশাল রাজার রাজধানী ছিল শালমারা গ্রামে । ১৩৫১ সালে তিনি সশাল বিরোদ্ধে সেনা প্রেরণ করেন। রাজা পলায়ন করে আশ্রয় নেন জঙ্গলে। পরবর্তীকালে সশাল রাজা শত্রুর আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার পর দিঘির মাঝখানে  ছোট্র একটি ঘর তৈরি করে দিঘির চারদিকে পরিখার মতো খনন করেন। রাজা যখন সেখানে অবস্থান করতেন তখন তার বাহিনী বড় বড় ডিঙি নৌকা নিয়ে দিঘির চারদিকে পাহাড়া দিত। কালক্রমে, ঐভুখন্ডটি ধসে দিঘিতে রূপ নিয়েছে। রাজার শেষ বংশধর ছিলেন রাণি বিরহীনি। দিঘিটি রাণি বিরহীনি নামেও পরিচিতি পায়। ১৯৪০ সালে সরকারি ভুমি জরিপে দিঘিটি বিরহীনি নামেই রেকর্ড হয়েছে। তবে দিঘিটি খননের সত্যিকার দিন,ক্ষণ,ইতিহাস জানা যায়নি। তবে দেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং হতে পারে পর্যটন এলাকা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ